Search

Tuesday, November 3, 2026

আমির হামজার ওয়াজ—কোরানে ফেসবুক, দাঁড়িপাল্লা, বিকাশ!

আমির হামজা যে-সমস্ত কথা বলেন সেসব কী আসলেই সত্য? আমার বিশ্বাস হয় না! কেউ কি তার কাছে জানতে চায়নি, কেন-কিভাবে তিনি এমনটা বলেছেন?

যেমনটা আমির হামজা বলছেন,

"বাংলাদেশের মার্কা 'দাঁড়িপাল্লা' এটা কোরান থেকে নেওয়া...সুরা হাদিদ, ২৫ নাম্বার আয়াত...!"

চলুন, আমরা দেখি পবিত্র কোরানে কি লেখা? 

আরবি:

لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ

উচ্চারণ: লাকাদ আরসালনা রুসুলানা বিল-বাইয়্যিনাতি ওয়া আনযালনা মা'আহুমুল কিতাবা ওয়াল-মীযানা লিয়াকুমান-নাসু বিল-কিসত_

অর্থ:

"নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও দাঁড়িপাল্লা (মীযান) নাযিল করেছি, যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।"(সূরা হাদীদ ৫৭-২৫)।

* এখানে المِيزَانَ (আল-মীযান) মানে মানদন্ড বা দাঁড়িপাল্লা।

আমির হামজা নামের এই লোক হচ্ছেন কোরান বিশারদ! সব কোরান থেকে বের করেন!

যেমন এখানে বলছেন:

...কোরানে কারিমে আল্লাহ ফেসবুক কিভাবে চালাবেন, দিয়েছেন...সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নাম্বার আয়াত। ...ফেসবুকের কথা কোরানে কোথায় পাবেন...

কোথায় লাইক করবেন, কোথায় শেয়ার করবেন ১৫০০ বছর আগে আল্লাহ সেটা কোরানে দিয়েছেন...!

আমরা পবিত্র কোরানের সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নাম্বার আয়াতটা একটু দেখি:

কোরানশরিফ, অনুবাদক: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
আরবি:
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ: ওয়া আইয়্যূবা ইয না-দা রাব্বাহু আন্নী মাসসানিয়াদ-দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রা-হিমীন।

বাংলা অর্থ:

"আর স্মরণ করো আইয়্যূবের কথা, যখন সে তার প্রতিপালককে ডেকে বলেছিল, 'আমি দুঃখ-কষ্টে পড়েছি, আর তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু'।"

এই লোক পবিত্র কোরানের রেফারেন্স দিয়ে 'বিএনপি-আওয়ামিলীগ', 'ফেসবুক', 'বিকাশ' কিছুই বাদ রাখেননি!

এর ভাষ্য মতে, বিএনপি-আওয়ামিলীগ পবিত্র কোরানে যেখানে আছে। সুরা হুজরত, ৯ নাম্বার আয়াত:


এর ভাষ্য মতে বিকাশের কথা যেখানে আছে। সুরা আনআম, ৩১ নাম্বার আয়াত:
কোরানশরিফ, অনুবাদক: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
হে, কোরান বিশারদ, আমাদের মাথার মুকুট আমির হামজা মহোদয়, এখন কেউ যদি পবিত্র কোরান থেকে সূরা ত্বীনের এই আয়াত  (৯৫:৫) নিয়ে আসে!

কোরানশরিফ, অনুবাদক: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
আরবি:

ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ سَافِلِينَ

উচ্চারণ: ছুম্মা রাদাদনাহু আসফালা সাফিলীন।

অর্থ:

"তারপর আমি তাকে নামিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে।"

* এখানে أَسْفَلَ سَافِلِينَ (আসফালা সাফিলীন) মানে নীচ।

আপনি/আপনারা তো পয়সার বিনিময়ে ওয়াজের নামে আগুন দিয়ে উদরপূর্তি করেন [+] যার সহজ বাংলা হারাম! এখন কেউ যদি বিনে-পয়সার হালাল ওয়াজ করে। আল্লাহ না-করুন, আপনার নামটা নীচ-এর সাথে জুড়ে দিল! 

...কোরানে কারিমে আল্লাহ 'অমুক যে নীচ' এটা দিয়েছেন...সুরা ত্বীনের ৫ নাম্বার আয়াত। ...কোথায় অমুককে পাবেন তা ১৫০০ বছর আগে আল্লাহ সেটা কোরানে দিয়েছেন...!

+ পবিত্র কোরানে পরিষ্কার বলা আছে, ওয়াজের নামে টাকা নেওয়া মানে পেটে আগুন দেওয়া—কিয়ামতের দিন এদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি! এটার নাম আপনি হাদিয়া দেন বা সাদিয়া তাতে কিছুই আসে যায় না!

১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)

২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)

—কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান



Monday, November 2, 2026

বিটিভি—ভীতিবি!

বাচ্চু ভাই ওরফে মতিউর রহমান যখন ভোরের কাগজ বের করতেন তখন আমি বছর-দেড়েক ওখানে লিখেছিলাম। 'একালের রূপকথা' নামে ফি-হপ্তাহে লেখা হতো। পাতাটা দেখতেন সঞ্জীব চৌধুরী।

তখন 'মেলা' নামের একটা পাতা যুক্ত হলো, এ গ্রহের সবচেয়ে বড় লেখক আনিসুল হকের হাত ধরে। এমন-একজন লেখক যিনি নিজের বই নিজেই লিখতেন, নিজের হাতে! নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেই দিতেন এবং নিজের শ্বাস নিজেই আটকে, নিজেই বলতেন, নিঃশেষিত! ইয়ে নিঃশেষিত  না, বই নিঃশেষিত [১]!

সঞ্জীব দা'র অনুরোধে 'মেলা' পাতায় একটা লেখা লিখেছিলাম, 'ভীতিবি' নামে—বিটিভিকে ব্যঙ্গ করে। 'ঝামেলা-ঝালেমা' আমার পিছু ছাড়ে না—হুট করে ড্রেন রাস্তার মাঝখানে চলে আসে! সেবারও ছাড় দিল না [২]!

আনিসুল হক বাপ-দাদার সম্পত্তি মনে করে ভীতিবি নিজেদের করে নিলেন। যাক গে, সে কথা...!

আহা, বিটিভি! কত গালমন্দ করেছি তোমায়, মনে কষ্ট রেখো না, বাপ...!







































সূত্র:
১. আনিসুল হক...: https://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_21.html?m=1
২. ভীতিবি...: https://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post.html?m=1


Sunday, November 1, 2026

একজন তোফাজ্জল এবং এক টুকরো কাপড়!

আমরা, যখন যে সরকার থাকে তাকে গালি দেই! এ সত্য অধিকাংশ সময়ই এরা গালি খাওয়ারই কাজ করেন। সরকার-এ বা ক্ষমতায় গেলে এদের মাথা এলোমেলো হয়ে যায়! 

কিন্তু আমরা নিজেরা কী! আপাদমস্তক অমানুষ, এই কাতারে আমি নিজেও!

তোফাজ্জল হোসেনকে মনে আছে আপনাদের? আহা, তাঁকে ভুললে হবে না তো! হাসিখুশি একটা ছেলে—সে হতে পারত আপনার-আমার সন্তান!

দেখেন, কেমন একটা বেকুবের বেকুব—একটা শিশু-বাচ্চার মত সালামের ভঙ্গি করে! পাগলু একটা!

কোন-এক মেয়ের চক্করে এর মানসিক ভুবন এলোমেলো হয়ে যায়। আমাদের এই দেশের মত দেশ এই পৃথিবীতে আর নাই—বড় বিচিত্র এই দেশ! এখানে মানসিক ভারসাম্যহীন একটা মানুষকে আমরা অবলীলায় পাগল আখ্যায়িত করি এবং এদের সঙ্গে আমরা যে-আচরণ করি পৃথিবীর কোথাও এমন অমানবিক আচরণ করে না। (আমাদের বাপ-দাদা-পরদাদার দেশ ভারত/পাকিস্তানকে গোণায় ধরছি না)! আলোর মশাল একজন লেখকও ফট করে এদেরকে পাগল বলে দেন...!

যাই হোক, তোফাজ্জল মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন। বাড়ি থেকে প্রায়ই উধাও হয়ে যেতেন—এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করতেন। একদা...!

তিনি অন্যমনষ্ক ভঙ্গিতে হাঁটতে-হাঁটতে ঢুকে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে। আমাদের গর্বের জায়গা—প্রাচ্যের অক্সফোর্ড! যেখানে, এই সমস্ত জায়গায় আমাদের সন্তানদেরকে পাঠাই উচ্চশিক্ষা নিতে। মানুষ হতে...! 

আমরা, বাবাদের, আমাদের তো বড়-বড় ডিগ্রি নেই—আমরা যে মানুষ হতে পারিনি, গো! এখন জান্তব স্বপ্ন আমাদের—আহা, আমাদের সন্তানেরা বড় ডিগ্রি নিয়ে মস্ত মানুষ হবে। তাই খেয়ে, না-খেয়ে কত অমর্যাদা সহ্য করে আমরা বাবারা, আমাদের সন্তানদের এই সমস্ত বড়-বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাই। 'খোদা-না-খাস্তা', কোন-একদিন সেই মানুষ বানাবার কারখানায় আমাদের যাওয়া হলে; আমাদের গায়ের কাদামাটির গন্ধ লুকিয়ে হাঁটতে-হাঁটতে কাঁপি! আহা, আমরা যা হতে পারিনি আমাদের সন্তানরা তা হয়ে দেখিয়ে দেবে—একেবারে তাক লাগিয়ে দেবে!

এই আপনার-আমার, আমাদের সন্তানেরা তোফাজ্জলকে চোর সন্দেহে স্ট্যাম্প দিয়ে পেটাতে থাকে, পেটাতে থাকে; একের-পর-এক! ডাইনিংয়ের অখাদ্য খেয়েও কী প্রাণশক্তি এদের গায়ে!

এই পেটানোটাকে এরা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যায়। তোফাজ্জল নামের একজনকে পেটাতে ২৮ জন যুক্ত হয়! রিপিট ২৮ জন! একজনকে পেটাতে ২৮ জন! আহা, এমন চাঁদরাত বছরে কয়টা আসে?

এরা কারা, কোত্থেকে আসে? আহা, এরা যে আমাদেরই লোক...!  

এটা এরা রপ্ত করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়ে। দল-নেতার প্রতি আনুগত্য এদেরকে শিখিয়েছে কেমন করে ভাই-সহপাঠির প্রতি চরম নির্মমতা দেখানো যায়। চোখের পলক না-ফেলে মেরে ফেলা যায়!

এদের আবার দয়ার শরীর—এরা তোফাজ্জলকে ভাত খেতে দেয়। হায় ভাত-হায় পেট-হায় পেটের আগুন! 

একজন মানসিক অসুস্থ, চরম নির্যাতিত মানুষও বোঝে সালুন-মাখা সাদা-সাদা ভাত! ভাতে ধোঁয়া উঠে না, লাশের মত ঠান্ডা—তাতে কী আসে যায়? আহারে, আহারে জীবন! এই মানুষটা যদি জানত, যদি জানত এটাই তার শেষ খাবার—লাস্ট সাপার!
আমরা এই ভিডিও-ক্লিপে দেখতে পাই তোফাজ্জল যখন খাচ্ছিল তাঁর শেষ খাবার—আশেপাশের লোকজনেরা কী স্বাভাবিক, কী উল্লসিত! 

খাওয়ার পর তাঁকে আবার পেটানো শুরু হয়। ৪ ঘন্টা লাগিয়ে তাঁকে পেটানো হয়েছিল।
তাঁর বোনের ভাষায় একটা সাপকেও এভাবে কেউ পেটায় না!

এই ২৮ জনের মধ্যে অধিকাংশই পলাতক! আহারে-আহারে, তোফাজ্জলের বিষয়টা যদি সামনে না-আসত তাহলে এই ২৮ জনের মধ্যে অনেকে আগামীর এসপি-ডিসি-মানবতাকর্মী হতেন। বা কেউ বাইরে থেকে আরও বড় ডিগ্রি নিয়ে এসে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াতেন। কে জানে, হয়তো মানবতা নিয়ে পড়াতেন! 

জানেন, এই তোফাজ্জলের উপর আমার না খুব রাগ হয়—রাগে গা জ্বলে যায়! ভাবুন দেখি, এই একজন তোফাজ্জল কতগুলো শিক্ষিত ছেলের ক্যারিয়ার নষ্ট করে দিল! ইশ-শ, আমাদের মত যাদের ক্যারিয়ার নাই তারা এর মূল্য বুঝবে বুঝি!
এই তোফাজ্জল নামের মানুষটা আমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার জন্য এক টুকরো কাপড়ও রাখেনি! এটা একটা কথা! হুমায়ূন আহমেদের ভাষায় বলি, পাগল তো—কাপড় নিয়ে সোজা দৌড় দিয়েছে!

আমি প্রায়শ ভাবি, পরম করুণাময় এই দেশে আলো-বাতাস-বৃষ্টি কেন দেন, কী কারণ? না-দিলে আমরা তাঁকে পরম করুণাময় বলব না, কেবল এই কারণে?

দূর-দূর, আসলে এঁদের, এই মানুষগুলোর কী গতি হবে কেবল এই কারণে পরম করুণাময়  তাঁর করুণার সবগুলো দরোজা খুলে রাখেন...!  

Saturday, October 31, 2026

Friday, October 30, 2026

দেওয়ানবাগী, না-না-না, আপনি মারা যেতে পারেন না!

দেওয়ানবাগী পীর মরে গেছেন, সত্যি-সত্যি! আমি বিশ্বাস করি না! কেউ যদি আমার দিকে বন্দুক তাক করে—কেউ যদি আমাকে তোপ দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে চায়, তাও না!

এ আমি বিশ্বাস করি না! আমাদের মত সাধারণ মানুষ যে ৫ মিনিট শ্বাস আটকে রাখতে পারে না পেছন দিয়ে শেষ বাতাস বেরিয়ে যায়—আমাদের মত, সাধারণ মানুষের মত আচরণ দেওয়ানবাগীর  করলে চলবে?
উঠুন পীর, উঠুন! আপনার ড্রাম-সমান পেট নিয়ে।

আপনাদের কি বিশ্বাস হয়, দেওয়ানবাগির ছেলে যখন জেলখানায় আটক ছিলেন তখন তিনি ধমকাচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহকে! 


আহা, এমন অসীম ক্ষমতাধর-কেউ মরেন কেমন করে! কোন স্টাইলে? ইশ-শ, সাধারণ-একটা মানুষের মত ইয়ে দিয়ে বাতাস বেরিয়ে গেল এ-ও কী সম্ভব। বাংলা সিনেমার মত ডায়লগ বলি, 'না-না-আ, এ আমি বিশ্বাস করি না'! 

দেওয়ানবাগি বলছেন, তিনি পীর না পীরের বাপের, তারও বাপের বাপ—তিনি লক্ষ-লক্ষ পীর জন্ম দেন!

দেওয়ানবাগির ওখানে গেলে নাকি রসুলকে দেখা যেত:

আহারে, সময় থাকতে সাধন হলো না—সময় থাকতে কেন গিয়ে রাসুলকে দেখে আসলাম না!

দেওয়ানবাগির এই বক্তব্যের বর্ণনা আমি দিতে পারব না। যার আগ্রহ আছে তিনি এই ভিডিও ক্লিপটা দেখে নেবেন দয়া করে!

আহা, মধু-মধু! 

একটা আরেকটাকে ছাড়িয়ে যায়!

দেওয়ানবাগীর কাছে নবীর জামা আছে এটা অবলীলায় বলছেন, যেটা লোকজনকে নাকি তিনি একজন দেখিয়েছেনও!
৩৩টা উট এবং ৩৩টা উটনির দামে নবী নাকি জামা বানাতেন। 

বটে রে, দেওয়ানবাগী! মিচিও কাকুর মাল্টিভার্সের কথা নাহয় বাদই দিলাম [১]। অল্প কয়েকটা তথ্য শেয়ার করি, হে দেওয়ানবাগী!
০. মাল্টিভার্স হিসাব থেকে বাদ!
১. যেটা আমরা দেখতে পাই, Observable Universe— যার ব্যাস ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ! 
২. এই ১টা ইউনিভার্সের মধ্যে গ্যালাক্সি আছে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন!
৩. এই ২ ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সির মধ্যে আমাদের 'মিল্কিওয়ে' একটা অতি সাধারণ গ্যালাক্সি।
৪. এই অতি সাধারণ ১টা মিল্কিওয়ের মধ্যেই নক্ষত্র আছে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন!
এর মধ্যে সূর্য একটা সাধারণ নক্ষত্র, অতি সাধারণ একটা বামন নক্ষত্র! এখানে সূর্যের দু'পয়সা দাম নাই।
৫. কিন্তু এই ১টা সূর্যের ভেতর পৃথিবী রাখা যাবে ১৩ লক্ষটা!
৬. পৃথিবী নামের এই গ্রহটার আয়তন ৫১ কোটি বর্গকিমি, আর এর মধ্যে বাংলাদেশের আয়তন হচ্ছে, ১,৪৮,৪৮০ বর্গকিমি। মানে গোটা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ হলো মাত্র ০.০২৯%। আবার বাংলাদেশের মধ্যে আপনার অবস্থান, আরামবাগ... মানে থুথু ফেললে অজস্র ছিটার একটা ছিটাও না!
এই অকল্পনীয় মহাবিশ্ব যিনি সৃষ্টি করেছেন—অসীম ক্ষমতাধর, তাঁকে যে-আপনি ধমক দেওয়ার ক্ষমতা রাখন; সেই আপনি ৭০ বছর বয়সে মরতে পারেন না! নো, নেভার...! 
'এ হাইস্যকর, অতি হাইস্যকর'!

আমি নিশ্চিত, আপনি ৭o বছর কোন ছার—আপনি তো বাঁচবেন ৭০০ বছরও না, ৭০০০ বছর, ৭ লাখ বছর, ৭ আলোকবর্ষ...! 
আমরা জানি আপনার মরার কোন সুযোগ নাই। আপনি আছেন আমাদের মাঝেই ...! আমি যখন তাড়াহুড়ায় অফিসে যাব তখন  অজান্তেই হয়তো আপনার পা মাড়িয়ে দেব, খেয়াল করব না! বা পাশের টেবিলে আপনি চুকচুক করে চা খাচ্ছেন আমি হয়তো লক্ষই করব না। কিন্তু আপনি মরে গেছেন এটা আমাকে বিশ্বাস করতে বলবেন না যেন, ভুলেও না!

আলোর গতি ছাড়িয়ে আপনি আসাযাওয়া করেন কিন্তু হয়তো খেয়াল করেননি! বাই দ্য ওয়ে, ক্ষমাপ্রার্থনাপূর্বক, দেওয়ানবাগী, আলোকবর্ষ বিষয়টা আপনি বোঝেন তো? আলোর গতিতে ছুটলে ১ বছরে যতটুকু যেতে পারবেন। মানে প্রতি সেকেন্ডে ২,৯৯,৭৯২, প্রায় ৩ লাখ কিমি গতিতে ১ বছরে যতটুকু যাওয়া যায়!
১৯৭৭ সালে আমরা একটা যান পাঠিয়েছিলাম, বুঝলেন দেওয়ানবাগী। পৃথিবী থেকে পাঠানো সেই যান 'ভয়েজার-১' ছুটছে ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭ সাল থেকে। 
গতি: ১৭ কিমি/সেকেন্ডে (আলোর গতি ২,৯৯,৭৯২/সেকেন্ডে) এখন পর্যন্ত যেতে পেরেছে মাত্র ২৫.৮ বিলিয়ন কিমি (২৫৯০ কোটি কিমি)!
এখনও, আজ পর্যন্ত, ১ আলোকবর্ষ দূরের কথা, মাত্র ১ আলোক-দিনও যেতে পারেনি! রিপিট, আলোক-দিন! ১ বছর হিসাবে ১ দিনও না!
এই তো সামনে, এই বছরে—১৮ নভেম্বর ২০২৬, বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪:১৬ মিনিটে ১ দিন অতিক্রম করবে!
বেয়াদবি নেবেন না, আপনি তো আবার কয়েক আলোকবর্ষ দূরে গিয়ে মুত্র বিসর্জন করে ফিরে আসার ক্ষমতা রাখেন। এসে, তেল চিটচিটে ব্যাগ হাতে কোনও দুর্গন্ধময় বাজারে শোল মাছ কেনেন!
ওহো, ভুলেই গিয়েছিলাম, আপনার মত পীরদের তো আবার নিজ হাতে বাজার করতে হয় না! মুরিদরা সব করে দেয়—রিপিট, সব! ইয়ে-ও! 

আচ্ছে, এটা আবার ভুল বললাম, আপনার কয়েক আলোকবর্ষ দূরে গিয়ে ইয়ে বিসর্জন করতে হবে কেন! আপনার খাওয়া-বর্জ্য ত্যাগ এই সমস্ত হ্যাপা তো কখনও ছিল না। এখনও নাই কারণ আমি বিশ্বাস করি না আপনার মত বিপুল ক্ষমতাধর কারও মৃত্যু হতে পারে!

* আমাদের 'ধর্মের দন্ডটা' যারা ধরে আছেন তারা অবলীলায় পিটিয়ে মেরে ফেলেন শামীম নামের একজন মানসিক অসুস্থ মানুষকে [২], তারা পুড়িয়ে মারে ফেলেন দিপু দাসকে [৩]! (এর পেছনের কারণ হিসাবে আমাদের চুতিয়া বুদ্ধিজীবী শহিদুল আলম আবার এই নিয়ে আমাদেরকে কিচ্ছা শোনান, হাসিনা, জনগণের ক্ষোভ, রেজিম ব্লা-ব্লা-ব্লা!)

যাই হোক, সবিনয়ে জানতে চাই, ওহে, ধর্মের দন্ডধারী লোকজনেরা আপনারা কি দেওয়ানবাগীর গোপন কেশও কেউ স্পর্শ করতে পেরেছিলেন? জ্বী, ঠিক শুনেছেন, গোপন কেশ! কি বললেন, তখন আপনাদের বা সাবালক হন নাই? তা, আপনাদের বাপরা তখন কই ছিলেন? সবাই কী তখন 'কোঁহ-ই-তূর' পর্বতে 'জিকির-আসকার' নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন...!  

১. মিচিও কাকু: https://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_07.html?m=1
২. খুন, শামীম...: https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_23.html?m=1

৩. খুন, দিপু দাস: https://www.ali-mahmed.com/2025/12/blog-post_25.html?m=1

  



Wednesday, October 28, 2026

দেলওয়ার হোসেন সাঈদী-মানিক পশারী বনাম নগ্ন রাষ্ট্র!

সাইদী রাজাকার [+], কি রাজাকার না [++]—পশারী মুক্তিযোদ্ধা কি মুক্তিযোদ্ধা না, সে ভিন্ন আলোচনা।

কিন্তু একটা মানুষকে, রিপিট, একটা মানুষকে দাফন করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, জানাজা পড়তে দেওয়া হয়নি! এই অধিকার এই গ্রহের, এই রাষ্টের, রাষ্ট্রের কোনও সন্তানের, সেই সন্তানেরও কোনও-এক রুহানি সন্তানের, কোনও শুয়োরের, কোনও কুকুরের, কোনও-একটা গুয়ে-ভাসা কৃমির, কারও নেই। রিপিট, কারও নেই! আপনি কোনও ধর্মের মানুষকে তাঁর মৃত্যুর পর ধর্মীয় আচারে বাধা দিতে পারেন না! লাউড এন্ড ক্লিয়ার!

খালেদ মুহিউদ্দিনের সাক্ষাৎকার-পর্ব থেকে আমরা যথারীতি তার আঞ্চলিক ভাষার জ্ঞানে আলোকিত হই, এবারও হলাম! তিনি জামায়াতের কোন-এক নেতা রাশেদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কোন প্রমাণ না-দেখিয়ে তার বিখ্যাত আঞ্চলিক ভাষায় বলছেন,
'আমি কিন্তু শুনছি...'!

এই হচ্ছে, দুঁদে সাংবাদিকের নমুনা, 'আমি কিন্তু শুনছি...'! খালেদ মুহিউদ্দিন, এর কাজ হচ্ছে, 'গুইসাপ ৭৫০ বছর বাঁচে' [১], এই সমস্ত কাজের প্রশ্নগুলো না-করে এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীকে হুজুর ডেকে-ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলা। আজব, এর মিনিমাম প্রস্তুতিও থাকে না [*]!

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের ভাইরা-সব সন্ত্রাসী, এই সব মোক্ষম প্রশ্ন না-করে হাবিজাবি কথা বলা প্রকারান্তরে এদেরকে এক প্রকার ছাড় বা বৈধতা দেওয়া।

যাই হোক, খালেদ মুহিউদ্দিনকে নিয়ে আলোচনা করাটা 'শব্দের অপচয়'! মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে গেছি!

এই যে লোকটা, প্রকাশ্যে হ্যান্ড-মাইকে ঘোষণা দিচ্ছে,

"মানিক পশারীকে পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না..."

একে গ্রেফতার করে, আইনের আওতায় আনতে হবে। আমি মুক্তিযোদ্ধা চিনি না, আমি রাজাকার চিনি না—আমি চিনি একজন মানুষকে, আমি চিনি একজন মুসলমানকে, যাকে আপনি জানাজায়-কবরস্থ করতে বাধা দিচ্ছেন।

এই লোক কার পক্ষ নিয়ে এমন ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে! এর টি-শার্টে যে 'মাসুদ সাইদী'র নাম, কে সে—আমার জানার প্র‍য়োজন নেই। তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। হু দ্য হেল ইয়্যু আ' মাসুদ সাইদী—একটা মৃতদেহের প্রতি এই অসম্মান জানাবার সাহস আপনি কোথায় পেলেন?

একটা মৃতদেহ, সব কিছুর ঊর্ধ্বে এখন—তাঁর বিচারের সমস্ত দায় এখন পরম করুণাময়ের হাতে। আর কারও না! সে যেই হোক, যে অপরাধই করুক তাঁর গায়ে একটা ফুলের টোকা দেওয়ার ক্ষমতা কেউ রাখে না! 
যেমনটা আপনি পারেন না গোলাম আজমের লাশে জুতা মারতে! যেমনটা আপনি পারেন না লাশবাহী গাড়িতে থুথু দিতে [২]

আর এটাও কল্পনা করা যায়, একটা সভ্য দেশে আপনি একটা মানুষকে শেষবিদায়ে বাধা দিচ্ছেন!

রাতের আঁধারে মোবাইলের ক্ষীণ আলোয় মানিক পশারীর বোন-মেয়ের কবর খোঁড়ার এই ছবিটা বাংলাদেশের একটা আইকনিক ছবি হয়ে থাকবে। 
মানিক পশারীর মেয়ের বক্তব্য!

মানিক পশারীর বোন-মেয়ে কি বলছেন:

রাষ্ট্র হচ্ছে পিতা—পিতাকে নগ্ন দেখতে ভাল লাগে না! আপনি চোখ বন্ধ করে একটু কল্পনা করুন, আপনার গুরুগম্ভীর, জাদরেল পিতা এটা শেখাচ্ছেন-ওটা শেখাচ্ছেন, কঠিন ধমক দিচ্ছেন কিন্তু গায়ে কাপড় নেই, একটা সুতোও নেই! দৃশ্যটা কল্পনা করে আমি চোখ বন্ধ করে ফেলি...!
... ... ... 
লেখাটা পাবলিশ করার পর মাসুদ সাঈদীর এই বক্তব্য দেখলাম:
এই লোক একজন আইনপ্রণেতা হয়েও, আল্লাহর নামে শুরু করেও, চোখের পলক না-ফেলে কেমনতরো মিথ্যা বলেন তার নমুনা এটা। তিনি মানিক পশারী কি করেছেন, কি করেন নাই এই নিয়ে হা বিতং এক বিরাট কিচ্ছা বলেছেন।
এই কিচ্ছা না-বলে পশারীর দাফন নিয়ে যে অমানবিক, অভূতপূর্ব, অনৈসলামিক কর্মকান্ড ঘটেছে তা নিয়ে বললে মানবিক, শোভন হত!
তিনি বলেছেন, কেউ দাফনে বাধা দেয়নি। ডাহা মিথ্যা কথা! তার নাম লেখা টি-শার্ট গায়ে প্রকাশ্যে মাইকিং হয়েছে:
"পশারীর দাফন পিরোজপুরের মাটিতে হবে না।...করতে দেব না।... " (প্রশাসনকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।)

দিনকে রাত, রাতকে দিন করা, চোখের পলক না-ফেলে মিথ্যা বলা এদের পক্ষেই সম্ভব। মাসুদ সাঈদী, তিনি আবার মানিক পশারী নামের মৃত মানুষটার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ফেরত চাচ্ছেন। এত কিছুর পরও যে মানুষটা প্রকাশ্যে এমন একটা বক্তব্য রাখতে পারেন তিনি অপ্রকাশ্যে কী না করতে পারেন [**]! ধৃষ্টতা বটে!

আচ্ছা, এরা কারা, কোত্থেকে আসে—যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে গোল হয়ে তামাশা দেখতে-দেখতে মানুষ পুড়িয়ে মারে; কবর থেকে লাশ উঠিয়ে এনে পুড়িয়ে দেয়? আহা, এরা, এরাই তো...!

সূত্র:
১. গুইসাপ বাঁচে ৭৫০ বছর:   https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_12.html?m=1

২. লাশবাহী গাড়ি...: https://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_28.html?m=1

*

** কোনও-একটা ভিডিও ক্লিপে দেখলাম মাসুদ সাঈদী তার ধৃষ্টতার আরেক নমুনা দেখাচ্ছেন! তিনি মৃত মানিক পশারীকে নিয়ে বলছেন যে তিনি চোরাকারবারী ছিলেন। ভাল-ভাল! এক বুড়ি আরেক বুড়িকে বলে নানি শ্বাশুড়ি! 
মাসুদ সাঈদী নিজে করছে দু-নম্বুরি:
এ করবে হালাল হোটেল! 

কেন মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর জানাজায় শরিক হলেন না!
যে দেশে প্রকাশ্যে মুক্তিযোদ্ধার গালে জুতা মারেন সেই দেশে কী দাগ পড়েছে এদের সেধে অপমানিত হওয়ার!


কেবল একটা ইতরই উল্লসিত হতে পারে একজন মুসলমানের জানাজা খুঁড়ছে বাড়ির মেয়েরা:
পবিত্র কোরান মতে, আগুন ওরফে হারাম খেয়ে-খেয়ে [***] এদের শরীরে এমন 'আগুনে-জোশ' এসে যায় যে, এই নিয়ে উল্লাস করে!
ওয়াজের নামে টাকা নিয়ে, হারাম খেয়ে-খেয়ে মাদানির শরীরে এমন চর্বি জমেছে যে বলছে, মহিলাদেরকে লাথি মারার জন্য। বরং হারাম খাওয়ার জন্য এটা ওরই প্রাপ্য!

এই আব্বাসী কী জাঁক করেই না বলছে, 'মেয়ে-বোন মিলে দাফন করেছে...আ্যস-আ্যস...'!

এই যে আরেকটা লেকচার ঝাড়ছে! কী চিবিয়ে-চিবিয়েই না বলছে, 'পিরোজপুরে তোমাকে দাফন করতে দেয় নাই...'! 
এরা আলেম, না জালেম! এই হচ্ছে এদের মুখের জিহাদি ভাষা!

এই আরেকটা অসভ্য! এ উল্লাস করছে মেয়ে মানুষ মোবাইলের লাইট টিপে কবর খুড়ছে! 
এ যে কী পরিমাণ অসভ্য তার অজস্র  নমুনার একটা:
এর আবিষ্কার পবিত্র কোরানে ফেসবুকের কথা আছে, লাইক, শেয়ারের কথা আছে।
একে দিয়ে শরীয়া আইনে বিচার শুরু করা যেতে পারে!

এই যে আরেক আগুনখেকো ওরফে হারামখোর! কী অহংকার নিয়েই না বলছে:

*** পবিত্র কোরানে পরিষ্কার বলা আছে, ওয়াজের নামে টাকা নেওয়া মানে পেটে আগুন দেওয়া—কিয়ামতের দিন এদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি! এটার নাম আপনি হাদিয়া দেন বা সাদিয়া তাতে কিছুই আসে যায় না!

১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)

২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)

—কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

... ... ... 
+

++










Sunday, October 25, 2026

তৌহিদি লোকজন, এখন কেমন বোধ করিতেছেন?

শেখ হাসিনা যেমন গুমকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল তেমনি অনেক মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম বলাৎকার [১, ২] এবং যৌন-নির্যাতনকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে! এবং এই নিয়ে আব্বাসীর মত সো-কল্ড পন্ডিত সর্ব বিষয়ে ফতোয়া দেওয়ার জন্য মুখ হাঁ করে রাখবে কিন্তু এই বিষয়ে চুপ!

এরাই আবার সমকামিতা নিয়ে লম্বা-লম্বা আওয়াজ তুলবে। সমকামিতা তো হয় দুই পক্ষের সম্মতিতে। কিছু ব্যতিক্রমি অপরাধি আছে, যেমন নির্মলেন্দু গুণ! 

পূর্বে শিকার ছিলাম এখন শিকারি হয়েছি! [৩]

অথচ এই মোল্লারাই যে ছোট-ছোট বাচ্চাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে এদের জীবনটাই তছনছ হয়ে যায়! সমস্তটা জীবন ট্রমা থেকে বের হতে পারে না!

এরা কেমন শিল্পি এর একটা ছোট্ট নমুনা!

দেশের অধিকাংশ মোল্লারা এখন উত্তাল! চুমুকান্ডে! এখন এরা বলছে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। অথচ মাত্র কয়েকদিন আগে মানসিক ভাবে অসুস্থ শামীম নামের একজনকে পিটিয়ে খুন করে ফেলল [৪]!

আমার সাফ কথা, যে বাবা তার সন্তানকে রক্ষা করতে পারে না সে কাপুরুষ! এখানে কোন মোল্লা না-হয়ে চ্যাংড়া হলেও একই নিয়ম খাটবে!

এই মোল্লারা সব কিছুতে বাম হাত ঢুকিয়ে দেবে।

এই ...বাচ্চা বলছে, 'ইসলামে চুমু খাওয়া জায়েজ! এটা সুন্নাহ'! এই ...বাচ্চা, আরেকজনের বাচ্চাকে তুমি চুমু খাবা!

ওয়াজের নামে এরা ধর্মকে কেমন করে বিক্রি করে! আগে ঘুষখোরের মত লুকিয়ে ওয়াজের নামে টাকা নিত—পবিত্র কোরানে যেটা সম্পূর্ণ নিষেধ [*]! আর এই হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ টাকা নেয় বুক ফুলিয়ে, কাগজ ছাপিয়ে!

এ যে কী পরিমাণ কুটচালে অভ্যস্ত তার নমুনা:


এ তো দেখি পুরাই জঙ্গি!

ময়মনসিংহের দিপু খুনের পেছনেও এর স্পষ্ট হাত ছিল।
আহা, সাড়ে ৪ লাখ টাকার ঘড়ি হাতে দিয়ে ৫০ লাখ টাকার গাড়ি হাঁকিয়ে এ হাঁক দেবে না তো কে দেবে?

এই আরেকটা বলছে, পাপ্পি খেতে বলেছিল:

সব শেয়ালের এক রা!


মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল বলছে, মাদ্রাসা থেকে ১৭ লক্ষ টাকা লুট হয়েছে! মনে হচ্ছে, এরা ১৭ লক্ষ টাকা পাঞ্জাবির পকেটে, ড্র‍য়ারে রাখে!
চোখের পলক না-ফেলে কী মিথ্যাই না বলতে পারে!
সাক্ষী বানিয়েছে নিজের বউকে! নিজে প্রিন্সিপাল, বউ ভাইস প্রিন্সিপাল!
একটি আদর্শ পারিবারিক মাদ্রাসা!


এহেন কোন কাজ নাই যে এরা পারে না! স্বাভাবিক কোন কাজ, স্বাভাবিক ভাবে কথা বলা এইসব এদের অভিধানে নেই! 


এরা লুচ্চামি আচরণে মসজিদ-মাদ্রাসা, হাট-বাজার কোথাও বাদ দিচ্ছে না! 


এদের সম্মান যাওয়া মানে পুরো জাতির সম্মান যাওয়া। বলাৎকার করে পুরো একটা অসুস্থ জাতি তৈরি করছে আর এখন বলছে সম্মানহানি নাকি হচ্ছে!



দিনকে রাত, রাতকে দিন করা এদের পক্ষেই সম্ভব! কী চমৎকার করে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলছে মেয়ের বাবার সাথে হিন্দুরাও ছিল, ইসকন জড়িত!

মববাজরা বলছে, আমরা মব করতে চাই বা কিন্তু আমাদের বাধ্য করবেন না!

কাক নাকি কাকের মাংস খায় না কিন্তু একটা মেয়ে অন্য মেয়ের মাংস খায়!


এই মহিলার সম্ভবত সন্তান-টন্তান নেই! নইলে একটা মেয়ে হয়ে অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে এমন ইতর টাইপ কথা বলতে পারতেন না!

এরা যতই ইনিয়ে-বিনিয়ে বলুক ঘটনা যে সত্য এটা বোঝার আর বাকী নাই!

এই মাদানী দেখি আরেক গুন্ডা!  
চ্যালেঞ্জ করছে,
"...পারলে আমাদের মাদ্রায়ায় যাইস, বডির জয়েন্ট ছুটায়া দিব...।"
বিরাট 'মর্দানি লোক'! বউয়ের বাচ্চা হবে বলে কেবল আরেকটা বিয়েই করেনি অসভ্যের মত বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে, মিষ্টি খাচ্ছে!
তখন আবার মোল্লার দল খুব বাহবা দিয়েছে চরিত্র ঠিক রাখতে ন্যায্য কাজটাই করেছে!

এরা মাদ্রাসার নামে কী পরিমাণ ব্যবসা করছে তার একটা নমুনা এই লোক নাকি ২ কোটি টাকার সিসি ক্যামেরাই লাগিয়েছে! 

এদের মধ্যে কিছু ধর্ম শিক্ষক আছেন যারা পিতার ভাষায় কথা বলছেন:




বলাৎকার নিয়ে অসাধারণ বক্তব্য রেখেছেন সাবেক ধর্মমন্ত্রী!

"যেন বোয়াল মাছের পেটি...", এগুলো হচ্ছে, ওয়াজ:
এগুলোর নাম ওয়াজ! ওয়াজময় জীবন [৫]

এই লোক বলছে কোন মোল্লা জানাজার নামাজ পড়াবে না।

আমি প্রার্থনা করি, হে পরম করুণাময়, হে সমস্ত বিশ্ব-ব্রক্ষান্ডের অধিকারী, ধর্মীয় শিক্ষকের নামে যে সমস্ত নরপশু ছোট-ছোট বাচ্চাদেরকে বলাৎকারের নামে জাহান্নামের কষ্ট দেয় এদের দ্বারা কোন মৃতদেহের জানাযা পড়াতে দিও না। প্রয়োজনে তুমি সেই লাশ আকাশে-পানিতে নিচিহ্ন করে দিয়ো...!

সুত্র:

১. বলাৎকার: https://www.ali-mahmed.com/2026/09/blog-post_08.html?m=1

২. বলাৎকার এবং শরিয়া আইন: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post.html?m=1

৩. নির্মলেন্দু গুণ: https://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_3336.html?m=1

৪. খুন, শামীম: https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_23.html?m=1

৫. ওয়াজময় জীবন: https://www.ali-mahmed.com/2019/04/blog-post.html?m=1


* এই মোল্লারা যে ধর্ম বেচে টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করে লক্ষ-লক্ষ টাকা আয় করেন আমরা দেখি এই বিষয়ে পবিত্র কোরানে কি বলা আছে? 

পবিত্র কোরানে পরিষ্কার বলা আছে, ওয়াজের নামে টাকা নেওয়া মানে পেটে আগুন দেওয়া—কিয়ামতের দিন এদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি! এটার নাম আপনি হাদিয়া দেন বা সাদিয়া তাতে কিছুই আসে যায় না!

১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)

২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)

৩. "...বলো, এর জন্য আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এ তো শুধু বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ। (সূরা আনআম ৬:৯০) 

—কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। 

এই আগুন ওরফে হারাম খাওয়া লোকজনকে দেখেন চেহারা কী তেলতেলে!

এই যে আরেক আগুন ওরফে হারাম-খাওয়া লোক! কী সুন্দর করে বলছে, ওয়াজের জন্য টাকা আগেই চুক্তি করে নিতে হবে!

** এই মোল্লারা বলাৎকারের নামে যেটা করে, মাসুম-অবুঝ বাচ্চাদের উপর ঝাপিয়ে পড়া—ওই বাচ্চা তার সমস্ত জীবন এই ট্রমা থেকে বের হতে পারে না সে কখনও ধরে নেয় এটাও ধর্ম শিক্ষার একটা অংশ। 

পবিত্র কোরান স্পর্শ করে শপথ করানো, হাফেজ হতে পারবে না এমন ভয় দেখানো, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া, পরিবারের লোকজনের ক্ষতির ভয় দেখানো, মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে মাদ্রাসা ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া। এই সমস্ত যে কোরানে বর্ণিত আয়াতের [+] চেয়ে কত ভয়ংকর তা কল্পনাও করা যায় না! কালে-কালে সে হয়ে উঠে আরেক বলাৎকারী!

+

"তোমরা তো এমন অশ্লীল কর্ম করছ, যা তোমাদের পূর্বে দুনিয়ায় কেউ করেনি। 

তোমরা কি পুরুষের সঙ্গে উপগত হচ্ছ না? 

...উত্তরে তার সম্প্রদায় এটুকুই বলল যে, আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আনো... 

(কোরান শরিফ, সুরা আনকাবুত ২৮-২৯)"

কোরানে বর্ণিত ওরা বিরাট পাপাচারী ছিল এ সত্য কিন্তু এখনকার মসজিদ-মাদ্রাসার যে সমস্ত বলাৎকারী তাদের ধারেকাছেও ছিল না। কারণ ওরা ছিল অবিশ্বাসী—অন্তত এখনকার মোল্লাদের মত পবিত্র কোরান স্পর্শ করিয়ে বলাৎকার করত না।


কী ভয়ংকর-কী ভয়াবহ!

আপনি কী কল্পনা করতে পারেন, ৭ বছরের এই বাচ্চাকে যে, এই ৬ জন সিনিয়র ছাত্র-শিক্ষক মিলে দিনের-পর-দিন চরম নির্যাতন করেছে!

যে ৫ জনকে ধরা হয়েছিল—এদের মধ্যে এরা ২জন! একটাকে দেখে তো স্রেফ দৈত্য মনে হচ্ছে!

আপনি জাস্ট চোখ বন্ধ করে একটু কল্পনা করুন এই দৃশ্যটা দেখে, এদেরকে দেখে! ছোট্ট একটা বাচ্চা, দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস! অন্য ভুবনের কষ্ট ভোগ করছে এদের দ্বারা!


++

জামসেদ নামের একে দেখেছি ওয়াজের চেয়ে বেশি মধু বেচতে। ফেসবুকে এ যে কয়টা বিজ্ঞাপন চালায় তা এ এবং জাকারবার্গ ব্যতীত কেউ জানে না!

এদের হাতে ভয়ংকর-এক অস্ত্র! 'ডারকা বিজনেস'! জানাজা না-পড়ানো। জানাজা মোল্লাদের দিয়ে পড়াতে হবে কেন? জানাজা পড়াবেন মৃতের স্বজনেরা। কিভাবে পড়াতে হয় শিখে না-থাকলে শিখে ফেলুন, এখুনি। আরবি না পারলে বাংলা পড়বেন—পরম করূণাময় আপনার আকুতি-ডাক অবশ্যই শুনবেন:

১ম তাকবীর, সানা

আরবি: سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالٰى جَدُّكَ وَجَلَّ ثَنَاءُكَ وَلَا اِلٰهَ غَيْرُكَ

বাংলা উচ্চারণ: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তা'আলা জাদ্দুকা, ওয়া জাল্লা ছানাউকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, তুমি পবিত্র, তোমার প্রশংসা সহ। তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা সুউচ্চ, তোমার প্রশংসা মহান, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

২য় তাকবীর, দরুদে ইবরাহীম।

আরবি: 

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ করো যেমন ইবরাহীমের ওপর করেছো। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও মহিমাময়।

৩য় তাকবীর, মৃতের জন্য দোয়া।

আরবি:

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا

اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির লি-হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা ওয়া সাগীরিনা ওয়া কাবীরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনসানা। আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফা-আহয়িহি আলাল ইসলাম, ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফা-তাওয়াফফাহু আলাল ঈমান। আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়ারহামহু ওয়া আফিহি ওয়াফু আনহু। 

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সবাইকে ক্ষমা করো। আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবে ইসলামের ওপর রাখো, যাকে মৃত্যু দেবে ঈমানের ওপর দাও। হে আল্লাহ, এই মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমা করো, দয়া করো, নিরাপত্তা দাও ও মাফ করে দাও।

নোট: ৪র্থ তাকবীর দিয়ে ডানে-বামে সালাম—আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।"

Grok-কে বলেছিলাম যাচাই করতে:


ChatGpt কেউ একই কথা বলা হলো ঠিক আছে কিনা চেক করার জন্য:



এরপর DeepSeek:


—তারপরও কোন ভুল চোখে পড়লে, জানালে কৃতজ্ঞতা।
... ... ... 
আমি যখন লেখাটা লিখছি তখন চলে আসছে এই সমস্ত একের-পর-এক বিভীষিকাময় খবর:








কেবল মসজিদ-মাদ্রাসায় বলাৎকার লিখে সার্চ দিয়েছিলাম।















WhatsApp