Search

Thursday, October 15, 2026

বিরল একটা দেশ!

 

হাইওয়েতে লক্ষ-লক্ষ টেসলা নামের যে গাড়িগুলো চলে এটার একটা ছোট্ট নমুনা। এগুলো নাকি নিষিদ্ধ! বিভিন্ন পাজি দেশ সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে সাবমেরিন করে এগুলো পুশ-ইন করেছে আমাদের দেশে। নইলে কিন্তু সরকার বাহাদুর পাকড়াও করে ফেলতেন।

অবৈধ বালু উত্তোলন করে রাস্তা কেটে মোটা-মোটা পাইপ নিয়ে যাবে। সাধারণ-কেউ প্রতিবাদ করলে তার 'ফর্টিন্থ জেনারেশন' উদ্ধার করবে।
'ভাইরাল' না-হওয়া পর্যন্ত কারও চোখে পড়বে না! তখন পেছনে হাত বেধে (সম্ভবত হাতকড়া লাগানো) বালুখেকো মো, বিলাল হোসেন সুন্দর-সুন্দর কথা বলবে!

স্রেফ ভঙ্গিটা দেখুন! কেবল কান ধরে উঠবস না; কী নির্বিকার ভঙ্গিতে, কী নিখুঁত নিশানায় এ লাথি মারছে, চড় মারছে! পুলিশ দাঁড়িয়ে কী তামাশাই না দেখছে!

এমন সত্যবাদি পুলিশ আপনি জগতে কোথাও পাবেন না যিনি ইউনিফর্ম পরে বলছেন, এটা পরেছেনই ঘুষ খাওয়ার জন্য!

সন্ত্রাসীর সামনে পুলিশ বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে কিন্তু  রাজার সামনে প্রজা ওরফে পুলিশ যে প্যান্টে একটু ইয়ে করে দেবে এ আর বিচিত্র কী! তাও আবার সে 'মোহাম্মদপুরের রাজা'! এই তোরা বাজনা বাজা! 

এমন নির্মাণকাজ পৃথিবীর কোথাও আপনি খুঁজে পাবেন না! এটা একেবারেই আমাদের নিজস্ব টেকনলজি!

যে মানুষটা ৮০০ কোটি মানুষ নিয়ে মাথা ঘামায় তাকে আমি চিনি না—আমি নিজেকে আর মানুষ বলে দাবী করতে পারছি না!
তাকে স্যার না-বলে ভাই ডাকা হলো এ নিয়ে তিনি সংক্ষুব্ধ! কেন ভাই ডাকা? আহা, তাকে চুতিয়া ডাকলেও তিনি র মেনে নিতেন কিন্তু তাই বলে ভাই! হলি কাউ-পবিত্র গরু!

এই চিত্র-বিচিত্র দেশে খাটের নীচে থেকে কেবল তেলের খনিই উদ্ধার হয় না!

আস্ত অটোরিকশাও পাওয়া যায়!

এই বিচিত্র দেশে এই সমস্ত 'মহিলা চুতিয়ার' কাছ থেকে আমাদের শিখতে হয় কঠিন ধর্মীয় অনুশাসন!
যথারীতি পাশে বিরাট মাওলানা সাহেব!

পাগলাগারদ থেকে ছাড়া পেয়ে এই পাগলরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে! আটকাবার কেউ নেই!

আবার মেজর আখতার নামের এই মানুষটার প্রয়োজন ছিল চিকিৎসার অথচ সরকার নিয়ে গেল জেলখানায়!

পৃথিবীর একেক দেশে একেক নিয়ম! আমেরিকায় একজন নোবেল লরিয়েটকে ৪০ পারসেন্ট ট্যাক্স দিয়ে হয়।
তাই অধিকাংশ নোবেল লরিয়েট চ্যারেটিতে দিয়ে দেন, দান করে দেন। পৃথিবীতে কোথাও কোনও নোবেল লরিয়েট ট্যাক্স না-দেওয়ার জন্য ইতরের মত  আচরণ করেছেন এমন উদাহরণ নেই। ব্যতিক্রম আমাদের দেশ!
আমাদের দেশে সেসময় ট্যাক্স দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, প্র, ইউনূস ট্যাক্স দিতে মোটেও রাজি ছিলেন না! এই নিয়ে আকাশ-জমিন এক করে ফেলেছিলেন!

এমন দেশেই সম্ভব ২৫০ শয্যার হাসপাতালে জরুরি বিভাগে একজন ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া। ক্যানোলা কেন করল না এই কারণে তাকে আবার পেটাতে যাওয়া!

কী-এক জাতি আমরা! একটা  জলজ্যান্ত মানুষকে রেলগাড়ির ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে ফিরেও তাকাই না!

মহা বিজ্ঞানী আব্বাসী, যে আবিষ্কার করেছে, গুইসাপ বাঁচে ৭৫০ বছর—যার ব্রেনের ওজন ৬০ গ্রাম [১]! এই গবেষণা আর কেউ করতে পারেনি! সেই লোক জাতীয় সংগীত পরিবর্তন চাইছে এই যুক্তিতে—জাতীয় সংগীতের কথায় নাকি আকাশ-বাতাস আছে।
এইসব 'শিরকি কথা' নাকি হচ্ছে!

এমন একটা দেশ যেখানে কোটি-কোটি টাকা ব্যয় করে একজন মানুষের জন্য 'সোয়া জন' মানুষ পরামর্শ দেয়!
মানে ৩০০ জন মানুষের জন্য ৪৭৩ জন পরামর্শক!

এ এমন একটা দেশ যেখানে বিমানমন্ত্রী এম রশীদুজ্জামান মিল্লাত, যাত্রী নামার পর ৯ মিনিটে কনভেয়ার বেল্টে আন্তর্জাতিক লাগেজ হাজির করেন! 
এটা বিরল! পৃথিবীর অন্য নামকরা এয়ারপোর্টের লোকজনেরা কেমন করে ৯ মিনিটে লাগেজ দেওয়া যায় এটা শেখার জন্য স্মাদের দেসগে আসছে, দলে-দলে প্লেনে চেপে। অনেকে জায়গা না-পেয়ে প্লেনে দাঁড়িয়েও আসছে!
এই বিরল মন্ত্রী আবার আমাদেরকে খানিকটা বকাও দেন যে আমরা এতো অস্থির কেন—নামার সঙ্গে-সঙ্গে শূন্য মিনিটে লাগেজ দাবী করি! আপনারাই বলুন, আমরা এতো অস্থির কেন?

গোটা মিল্কিওয়েতেও এমন গ্রহ নাই যেখানে এমন পীরের জন্ম হয় যে কিনা কেয়ামতের ময়দানে বড়-বড় জাহাজ নিয়ে হাজির হবে। অবশ্য ওটা কি 'পানির জাহাজ' নাকি 'হাওয়াই জাহাজ' সেটা এখনও স্থির হয়নি!

এই গ্রহে এত দেশ কিন্তু খলিফা আবু বকরকে ছাড়িয়ে যান কেবল এক বঙ্গাল!

ভাবা যায়, এরা ৩ মিনিট বাতাস আটকে রাখলে পেছন দিয়ে বাতাস বেরিয়ে যায় আর এরা ঠিক করে দিচ্ছেন কে আগে জান্নাতে যাবে!


আমাদের দেশের যুবনেতা! 'ডন টু ডাস্ক'—সকাল থেকে সন্ধ্যা দেশ ও জাতির জন্য প্রায় না-খেয়ে থাকে! 
আহারে-আহারে, অথচ এই মানুষটাই বাসের সঙ্গে দৌড়ে বাসকে পিছু ফেলে দেয়!

একটা বিজ্ঞান-বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসি। বলছেন, তার গায়ের যে ব্লেজার বা কোটটা, এটা ৫০ হাজার বছর আগেই নির্ধারিত!

এই যে আরেক ভিসি! ঘাতক সরি, টাইপিং মিস্টেক—গাতক। 
গান শুনে ইয়ে ভিজে গেল!

আমাদের দেশের আইনের শিক্ষার্থী! তিনি এটা-সেটা, ইসিজি মেশিন ভাঙ্গার পরও বলেন, 'আমি তেমন কিছুই করিনি'!
আইন ভাঙ্গা বলতে তিনি সম্ভবত খুন করা বুঝিয়েছেন!

'দিন-দাহাড়ে'—দিন দুপুরে যেভাবে আসামী প্রিজন ভ্যান থেকে গটগট করে হেঁটে যায় দেলওয়ার জাহান ঝন্টু গাঁজাখুরি বাংলা সিনেমায় এমন দৃশ্য সংযোজন করতে অস্বীকার করেন!

জিন্দা অলির দেশ! রাত সাড়ে তিনটায় ছোট-ছোট বাচ্চাদেরকে উঠিয়ে দেয়!

আর রাজনীতিবিদদের কথা বলে শেষ করা যাবে না!
সবাই মিলে যেভাবে ঝাড়ু দেন পেশাদার ঝাড়ুদাররা একেবারে কেন্দে দেয়!

নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এরা বিএনপির পক্ষের লোক। এদের আগাম মৃত্যুতে প্রতিবাদ জানাই কারণ এঁরা 'বিএনপি'র মিছিল' করে যেতে পারলেন না।


সূত্র:
১. মহা বিজ্ঞানী আব্বাসী: https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_12.html?m=1

 




 

Tuesday, October 13, 2026

ডিয়ার ইউনূস, আপুনি কেমন বোধ করিতেছেন?


আমেরিকান এয়ারপোর্টে যেটা হয়েছে সেটার সঙ্গে আমি একমত না কারণ এখানে দলবাজির বিষয় থাকার সম্ভাবনা প্রবল!
ইউনূসের সাথে যেটা করা হয়েছে এটাকে heckling বলে [*]। দাগ—দাগ থেকে শেখা হলে দাগই ভাল! কখনও-কখনও কারও-কারও পা থাকে আকাশে তখন সে কাঁদলেও গাল না, চুল ভেজে।
'কপোল ভিজিয়া গেল দু-নয়নের জলে—দুই ঠ্যাং বাধা আছে তমালের ডালে'!

প্র, ইউনূস নামের এই মানুষটার ওই সময়ে দায়িত্ব নেওয়ার বিকল্প ছিল, কি ছিল না সে ভিন্ন বিতর্কের বিষয়। এ-ও সত্য, ওই সময়টায় অনেক সীমাবদ্ধতার ভেতর কাজ করতে হয়েছে। এহেন কোন দিন নাই, এহেন কোন পক্ষ নাই যে দাবী আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমে না-এসেছে! কিছু হলেই 'রাজুতে আয়'!
কিন্তু তারপরও প্রলয় থামানো না-গেলেও বিলম্বিত করা যেত কিন্তু প্র, ইউনূস নামের মানুষটা একের-পর-এক অপদার্থগিরি করে গেছেন!  
অসম্ভব স্পর্শকাতর পদে অপদার্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অপদার্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মত লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া। অতি নির্লজ্জ-অতি বেহায়ার মত নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মুখ হাঁ করা। 

সেসব বাদ দিলেও, তারপরও একটা কিন্তু থেকে যায়! প্র, ইউনূস নামের মানুষটার 'এক চোখে জল এক চোখে ছল' দেখে আমরা অভ্যস্ত। হামে আমাদের শত-হাজার শিশু মারা যাচ্ছে তার কোন বিকার নেই—ভুলেও মুখ দিয়ে একটা, একটা শব্দ ব্যয় হয় না কিন্তু এই মানুষটাই চীনে কয়লা খনিতে মৃত্যু নিয়ে ফতুয়া ভিজিয়ে চিঠি লিখেন! 

এমনিতে আমরা তার লোভের চকচকে চোখ দেখে অভ্যস্ত [১] কিন্তু এই প্রথমবার তার ভয়ার্ত চোখ দেখলাম! ঠিক যেমন আমরা বিল গেটসকে দেখেছিলাম প্রকাশ্যে 'বাচ্চার মাংসখেকো' বলার পর বেত্রাহত কুকুরের মত পালিয়ে যাওয়া!
এটা বিরল...! 

সূত্র:
১. ইউনূসনামা: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_10.html?m=1

* 
In America Heckling is generally protected by the First Amendment, but it is not Absolute. It depends on where you are doing it.

When it is protected:

1.  In a public forum: Street, park, town hall meeting, public university campus - shouting at the government or a public figure, throwing questions at them is considered Protected Speech. It is considered "core political speech".

2.  The government cannot arrest you: Police cannot arrest you just for heckling, unless you break a law.

When it is not protected:

1.  On private property: If you heckle at someone's private event, concert, or comedy club, the owner can throw you out. The First Amendment only restricts the government, not a private owner.

2.  If it becomes a Disruption: If your shouting shuts down the event itself, then removing you is legal under "Time, Place, Manner" restriction. For example - continuous shouting during a class can be Disorderly Conduct.

3.  If it is a True Threat or Incitement: "I will kill you" or inciting a crowd to become violent - that is no longer heckling, that is a Crime.

Simply put: In America, heckling is protected because the government cannot shut your mouth, but that does not mean anyone is obligated to listen to you or that you cannot be thrown out of the hall.

Monday, October 12, 2026

মহা বিজ্ঞানী আব্বাসীর নাম ভুল করায় নিন্দা!

আচ্ছা, আপনি যদি হকিংকে পকিং বলেন বা গ্যালিলিওকে ল্যাল্যালিউ বলেন তাহলে কী আমরা মেনে নেব? নাকি মেনে নেওয়া উচিত! সরকারের একজন উপদেষ্টা রাশেদ কানের (টাইপিং মিসটেক, আসলে হবে খান—রাশেদ খান) এই মন্তব্যে প্রতিবাদ জানালুম। কারণ এমন একজন মহা বিজ্ঞানীর নামার ভুল মেনে নেওয়া যায় না!

এই যে 'মহা বিজ্ঞানী আব্বাসী' তার আবিষ্কারের বিষয়ে আমরা কতটুকু জানি?

১. যেমন আমরা জানি, গুই সাপ বা Monitor lizard বাঁচে ২০-৩০ বছর। ভুল!


তিনি গুই সাপের সঙ্গে কথা বলে, রি-সা-র্চ করে আবিষ্কার করেছেন গুইসাপ ৭৫০ বছর বাঁচে [১]।

সোবহান-আল্লাহ! যেহেতু তিনি বলতে বলেছেন, না-বলে আবার কোন গুনাহে গুনাহগার হই!

২. পুরুষের শরীরের নারীদের চেয়ে ৪গুণ লোহা—যে কারণে পুরুষদের ইয়ে বেশী! ইয়ে মানে ইয়ে আর কী—মানে কেবল পুরুষ ছোঁকছোঁকই করে না তার 'ইয়ের' শক্তিও বেশী। কতটা বেশী তা মহা বিজ্ঞানী আব্বাসী আঁক কষে দেখিয়ে দেবেন! [২]

আর বিশ্বাস না-হলে আপনি এই মহা বিজ্ঞানীকে বদনায় করে আপনার রক্ত দেন তিনি হাতে-হাতে দেখিয়ে দেবেন। বাট, নো চিটিং—রক্ত দেওয়ার সময় 'ইস্তারি সাহেবার' রক্ত মেশাবেন না তাহলে রেজাল্ট ঠিক আসবে না!

৩. এই মহা বিজ্ঞানী আব্বাসী বলছেন, একজন নারীর মগজ ৪০ গ্রাম পুরুষের ৬০ গ্রাম তাই পুরুষের চেয়ে নারীর বুদ্ধি কম [৩]। ওই হিসাবে পুরুষ মহা বিজ্ঞানী আব্বাসীর ব্রেন ৬০ গ্রাম!


অথচ পৃথিবীর সব বিজ্ঞানী বলছেন গড়ে মানুষের ব্রেন ১৩০০ গ্রাম! আরেকটু সহজ করে বললে, মগজের ওজন তার শরীরের ম্যাস বা ওজনের ২ ভাগ।

যেমন, আমার ওজন ৭০ কেজি হলে মগজের ওজন ১৪০০ গ্রাম। (অবশ্য আমার আশেপাশের অধিকাংশ মানুষের ধারণা আমার আদৌ কোন ব্রেনই নাই!)

যাই হোক, এটা এই পৃথিবীর সমস্ত বিজ্ঞানীদের হিসাব কিন্তু মহা বিজ্ঞানী আব্বাসীর হিসাব অন্য। আপনার বিশ্বাস না-হলে জাস্ট মগজটা খুলে দিলে তিনি পাথর-বাটখারা দিয়ে মেপে দেখিয়ে দেবেন।

একদা আমরা হয়তো দেখব যে মানুষটা কথায়-কথায় কাফের ফতোয়া দেন তিনি নিজেকে ব্যতীত তামাম লোকজনকে কাফের ফতোয়া দিয়ে বসে আছেন। হয়তো কোন একদিন এটাও দেখব, 'হেলিকপ্টার হুজুর' নামে পরিচিত এই মহা বিজ্ঞানী রশি দিয়ে বেঁধে হেলিকপ্টার নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এই তিনিই তার ওয়াজে লাইভ করতে দেন না। কেন? ওয়াজ লাইভ করে নাকি ব্ল্যাক ম্যাজিক করা হয়!   

এত ব-ড়-ড় একজন বিজ্ঞানী আব্বাসী, কেবল ব্ল্যাক-ম্যাজিক বা কালো জাদু থেকে বাঁচার জন্য কোন 'ক...ছাতা' আবিষ্কার করতে পারলেন না!  

সূত্র:

১. গুইসাপ বাঁচে ৭৫০ বছর: https://www.ali-mahmed.com/2025/08/blog-post_2.html?m=1

২. ৪০ গ্রাম ব্রেন: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_09.html?m=1





Saturday, October 10, 2026

আবহসংগীত পরিচালক বনাম ধৈর্য্যচ্যুতি!

আগে কি অসাধারণ নাটক হতো! সেইসব দিনগুলো! টেলিভিশন মানেই একমাত্র এবং অন্য রকম ভাললাগা!

তীব্র জ্বর নাকি ভালুকজ্বর তাতে আমাদের কী আসে যায়—কোন ভালমন্দবোধ থাকত না! কোন সিনেমা-নাটক হলে সোজা টিভির সামনে।

কিন্তু একটা বিষয় বড় বিরক্তিকর ছিল।আবহসংগীতের নামে যে বাদ্য বাজত তা অত্যাচারের সামিল! নমুনা:

এগুলোর আবহসংগীত পরিচালক বা মিউজিক ডিরেক্টর (Music Director)-কে কোত্থেকে ধরে আনা হতো কে জানে! এদের অত্যাচারে সংলাপ বোঝা দায় অথচ মাহফুজ এবং প্রয়াত শর্মিলী আহমেদের কী অসাধারণ অভিনয়!
ভাগ্যিস, সরকার আমাদের মত মানুষকে আর্মসের অনুমতি দেয় না নইলে টিভি বরাবর সোজা গুলি চালিয়ে দিতুম :)





Wednesday, October 7, 2026

আমাদের 'বি চৌধুরী'—এক নক্ষত্রের বিদায়!

আবুল কাসেম মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা চৌধুরী—যিনি বি, চৌধুরী নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন।

আমাদের দেশের অসাধারণ একজন মানুষ! যেমন অসাধারণ ডাক্তার তেমন একজন বাকনিপুন-বাকপটু...! কী ছিলেন না তিনি?

 ভিডিও ঋণ: মাহি বি চৌধুরী

জীবনে কোন ভুল করে থাকলে সেটা হচ্ছে রাজনীতিতে আসা...। বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির 'পুতুল রাষ্ট্রপতি' হতে না-চাওয়ার কারণে  তাঁকে রাষ্টপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল!

কেমনতরো পুতুল, পুতুল রাষ্ট্রপতি হতে হয়! আমাদের দেশে একজন রাষ্ট্রপতিকে ক্রমশ একজন দলের লোক  হতে হয়!

সাবেক রাষ্টপতি বি চৌধুরীর সাথেও বিএনপির মতের মিল না-হওয়ার মূল কারণ ছিল—২০০২ সালের ৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে না-যাওয়া!

একটা রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি নিরপেক্ষ থাকতে চেয়েছিলেন। তাঁর কবর-মাজার পরিদর্শনে না-যাওয়ার সিদ্ধান্ত একশো ভাগ সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি তো বিএনপির রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, ছিলেন গোটা রাষ্ট্রের।

এমনিতে কবর ওরফে মাজার জিয়ারতের নামে যেটা হয় তা এক অসভ্য প্রতিযোগিতা।
কল্পনা করা যায়, এরাও মানুষ! আচ্ছা, এদের পরিবার নাই—ওরা দেখে না এসব!

আহ, বি চৌধুরী নামের এই মানুষটাকে অমর্যাদার সঙ্গে কেবল বিদায় দেওয়া হয়নি; হেনেস্তাও করা হয়েছিল, চরম হেনেস্তা! পান্ডারা তাঁর উপর মটরসাইকেল তুলে দিয়েছিল, লাঞ্চিত করেছিল।

ছবি ঋণ: প্রথম আলো, ১২.০৩.০৪


Monday, October 5, 2026

মেজর আখতারুজ্জামান, 'বহু মুখ'-এর অধিকারী!

যিনি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন বা (মেজর আখতারুজ্জামান) নামে অধিক পরিচিত।

আমাদের প্রজন্মের কাছে তিনি পূর্বে কোন দল করতেন তা ছাপিয়ে যায়, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা! আমাদের বড় আবেগের জায়গা। এই মানুষটাই তখন ব-ড়-ড় মুখ করে মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযুদ্ধ বলতেন:

দেশ তখন উত্তাল—কোটা বিষয়ে সে সময়ে শেখ হাসিনাকে নিয়ে যে ভঙ্গিতে, যে মুখে ডিফেন্ড করছেন তা সম্ভবত তাকেই মানায়! 

এখানে আমরা দেখছি জামায়েত ইসলামি-কে তিনি যে মুখে বাংলা সাবান (এই প্রজন্ম এটা চিনবে না, সাবানটা গোল হত) দিয়ে ধুয়ে দিচ্ছেন! ধোপাও সম্ভবত লজ্জা পাবে!
জোকস এপার্ট—তিনি জামায়েত ইসলামিতে যোগ দিয়েছেন। এখন এদের নিয়ে যে মুখে সুন্দর-সুন্দর কথা বলেন! 
আহা, স্যারের একটা মুখ দৃশ্যমান, অন্যগুলো অদৃশ্য! 

হালে বিমানবন্দরে অসঙ্গতি নিয়ে যে মুখ করে, কথা বলতে গিয়ে তিনি যে আচরণ করেছেন তা ভীতিকর!
যে ভঙ্গিতে হেলমেট ছুড়ে মারলেন এটায় কারও মাথা ফেটে গেলে তো আরেক ধারা যোগ হতো!

ছিল জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন—বেকুব সরকার নিয়ে গেল কয়েদখানায়!




Saturday, October 3, 2026

সেলাম জানাই গো—'মুন এলার্ট', 'ওয়ালটন'!

Mun Alert:  (https://www.facebook.com/share/19X2ev8aB1/)

"কোন শিশু নিখোঁজ বা হারিয়ে গেলে মুহূর্তে শিশুটির তথ্য ভেসে উঠবে দেশজুড়ে ৭০০+ ওয়ালটন প্লাজার ডিসপ্লেতে থাকা টিভির স্ক্রিনে। চলুন জেনে নিই মুন অ্যালার্ট ও ওয়ালটন প্লাজার এই পার্টনারশিপ কিভাবে কাজ করবে ।

একটি শিশু নিখোঁজ হলে প্রথম ৩ ঘণ্টা সব চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে প্রতিটি সেকেন্ড মিনিটকে কাজে লাগাতে হবে শিশুকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য । বাবা মা পরিবার ও পুলিশের পাশপাশি কমিউনিটিকে যুক্ত করতে হবে নিখোঁজ শিশুটিকে খোঁজার এই মিশনে । 

কোন শিশু হারিয়ে গেলে আপনি শিশুটির ছবি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য নিকটস্থ Walton Plaza জমা দিলেই মুহূর্তে ছড়িয়ে যাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথবা আমরা প্রায় ফেসবুকে দেখি রাস্তায় কোন শিশুকে কান্না করতে যে তার বাবা মাকে হারিয়ে ফেলেছে মোবাইল নাম্বার বা ঠিকানা ঠিকমত বলতে পারছে না। এমন পরিস্থিতে আপনি থানা অথবা নিকটতম ওয়ালটন প্লাজায় শিশুকে নিয়ে গেলে সাহায্য পাবেন। মুন অ্যালার্ট এর ভলান্টিয়রা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করবে। এছাড়া আমাদের টোলফ্রী হেল্পলাইন  13 2 19 নম্বরে কল করে তথ্য দিলেও হবে।

একই সঙ্গে শিশু নিখোঁজ প্রতিরোধে বিভন্ন সচেতনতা মূলক উদ্যোগ গ্রহন করা হবে এই লক্ষ্যে গত (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওয়ালটন করপোরেট অফিসে ওয়ালটন প্লাজা এবং মুন অ্যালার্টের মধ্যে এক পারস্পরিক সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রায়হান এবং মুন অ্যালার্ট এর প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠান জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সাদাত রহমান।

এই মুহূর্তে স্বল্পপরিসরে চালু করা হয়েছে অতিদ্রুত দেশব্যাপি ব্যাপক পরিসরে বাস্তবায়ন করা হবে। ওয়ালটনকে বিশেষ ধন্যবাদ আমাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য এইভাবে আমরা সকলে মিলে এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো যেন ১টি শিশু এক মুহূর্তের জন্য হারিয়ে না যায় ।"




#Zero_Missing_Children

লেখা: Mun Alert:  (https://www.facebook.com/share/19X2ev8aB1/)

...

বাচ্চারা কিভাবে হারায় তার একটা অসাধরণ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এখানে:


ভিডিও ঋণ: The Daily Star




Friday, October 2, 2026

'আমরা ভাইরাল' এবং মামুনুর রশীদের রুচির দুর্ভিক্ষ!

মামুনুর রশীদ হালে একটা নাটক করেছেন যেখানে তিনি কমবয়সী একটা মেয়েকে বিয়ে করেন। এই নাটকটিকে পাবলিককে খাওয়াতে বেচারা মামুনুর রশীদকে অনেক কেরামতি করতে হয়েছে। চিকন-চিকন ঠ্যাং (দৃশ্যমান ১টা কিন্তু বাস্তবে ২টা) বের করতে হয়েছে!

কত কিছুই না করতে হয়েছে! অবশ্য নাটকের জন্য এইসব করা যেতেই পারে, এটা বিষয় না।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি আবার এই প্রসঙ্গে পেট নাড়িয়ে হাসতে-হাসতে বলছেন, 'গুজবপ্রিয় বাঙালি'! এটার আবার তিনি নাম দিয়েছেন প্রমোশনের জন্য! 

ঠিক ধরেছেন, স্যার, আমরা সাধারণ মানুষ, শ্লা, 'বেকুব গুজবপ্রিয় বঙাল'! আহা, আপনি তো বি-রা-ট রুচিশীল মানুষ, তাই না? এই আপনিই তো বাণী দিয়েছিলেন হিরো আলমকে নিয়ে, 'রুচির দূর্ভিক্ষ' [১]! বেশ-বেশ! কিন্তু আপনার ইয়েতে এত জোর নাই যে মিডিয়া টাইকুন মাহফুজুর রহমানের গান নিয়ে এই কথাটাই বলেন। 

এখানে মামুনুর রশীদের কো-আর্টিস্ট (নাটকে যাকে বিয়ে করেছিলেন) এমন করে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন যেন তিনি এবং মামুনুর রশীদ সত্যি-সত্যি বিয়ে করেছেন!

আমরা ক্লিকবেইটের সঙ্গে  পরিচিত! 'সাকিবুল হাসান এটা কী করলেন' বা 'অমুক নায়িকা কেন ইয়ে খুললেন'! ক্লিক করে দেখা যাবে ফালতু তথ্য দিয়ে ভরা—কাজের কথা কিছুই নেই! অথবা মামুন-লায়লা, তিসা-মোস্তাকের নষ্টামি নিয়ে [২] আমরা গা করি না! অবশ্য এদেরকে গুরুত্ব না-দিয়ে আমরা এদের মত অসংখ্য ভাগাড়ের পোকা তৈরি করেছি।

কিন্তু তাই বলে মামুনুর রশীদ! সিরিয়াসলি? এই যে তার কো-আর্টিস্ট যা বলছে বা অন্যত্র যা হচ্ছে তা তিনি জানেন না এটা বিশ্বাস করা কঠিন। আসলে তিনি এই খ্যাতি (পড়ুন, ভাগাড়ের খ্যাতি) উপভোগ করছেন। তার ভাষায় এটা নাটককে কেবল নাটকীয় করাই না, প্রমোশনাল কাজ! 

আহা, নাটকের নাম, 'আমরা ভাইরাল'! কতটা অরুচিকর হলে মামুনুর রশীদের একটা নাটকের নাম হয়, 'আমরা ভাইরাল'। অন্যদের কথা জানি না কিন্তু আগামীতে মামুনুর রশীদের কোন নাটকের নাম যদি হয়, 'আমরা চুতিয়া', আমি অন্তত অবাক হব না...। 

...

লেখাটা এখান এসে সমাপ্ত হলে ভাল লাগত কিন্তু মামুনুর রশীদের মেয়ের আবেগঘন এই ভিডিও ক্লিপটা এক্ষন-মাত্র দেখে মনটা বিষন্ন হলো!

আহারে, যদি পারতাম, যদি পারতাম এমন একটা কঠিন লেখা না-লিখতে। বেশ হত—কিন্তু পারা যায় না! ১ হাজার মামুন-লায়লা-এডলফ-রুমি কারিম মিলে যতটা না অরুচিকর কর্মকান্ড করছে একা মামুনুর রশীদ সেটা করে দেখালেন। আমাদের বড় আবেগের জায়গাটা নষ্ট করে দিলেন!

আচ্ছা, শ্রদ্ধেয় মামুনুর রশীদ, আপনি আপনার মেয়ের চোখে চোখ রাখেন কেমন করে! বুকে হাত দিয়ে বলেন তো, লাজ হয় না?

সূত্র:

১. মামুনুর রশীদের রুচির দুর্ভিক্ষ: https://www.ali-mahmed.com/2024/04/blog-post.html?m=1

২. এই সমস্ত জন্তুগুলোকে আইনের খাঁচায় আটকানো আবশ্যক: https://www.ali-mahmed.com/2026/03/blog-post_13.html?m=1

ঈশপ কখনও এদেশে আসেননি কিন্তু জোঁক...!

ঈশপের জোঁকের গল্পটা তো আমরা সবাই জানি! জোঁক-ভর্তি নদী সাঁতরে পার হতে হবে। একজন যখন পার হচ্ছে, পাড়ে দাঁড়ানো লোকজনেরা এই বেকুবকে দেখে হতভম্ব হয়ে গেল। কারণ গা-ভর্তি জোঁক অথচ সে একটাকেও ফেলার চেষ্টা করছে না। নিদেনপক্ষে মুখে একটা 'হুশ কুত্তা' বা 'হুশ জোঁক' শব্দও উচ্চারণ করছে না!

সবার হইচই যখন আকাশে উঠল তখন সে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল, লাভ কী! একটা ফেললে আরেকটা সেই জায়গায় আসবে—নতুন করে রক্ত খাওয়া শুরু করবে! তারচেয়ে যেগুলো ঝুলছে, থাকুক—রক্ত খেয়ে এদের পেট ঢোল হয়ে আছে। আর রক্ত খাওয়ার জায়গা নাই...! আমাদের দেশে ঈশপ এসেছিলেন কিনা এ তথ্য নাই কিন্তু তাঁর জোঁকগুলো দান করে গেছেন!

রাড্ডা হাসপাতাল নিয়ে যেটা হলো সেটা এখনকার দেশের একটা চিত্র মাত্র!


পুলিশের এটা বলার কোন সুযোগ নেই যে তারা জানে না!
হেভি এক্সেভেটর লোকবল নিয়ে যখন গুড়িয়ে দিতে আসছে তখন সামনে পুলিশের গাড়ি দেখা গেছে যেন পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে!
ওখানকার ওসির বক্তব্য খুবই মাই ডিয়ার টাইপের ছিল!


'বৈধ কাগজপত্র-থাকা লোকজনেরা জায়গা বুঝে নিচ্ছে'। এই অপদার্থকে কেউ জিজ্ঞেস করেনি, বৈধ ভাবে রাতের বেলা কে-কোথায় জায়গা দখল নেয়! এই ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার কোন শাস্তি না, তার কাঁধের বল্টুগুলো (তকমা) খুলে ফেলা প্রয়োজন!

আর ওই এলাকার সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলছেন:

হানিফ (সন্ত্রাসী) আমার মামাশ্বশুরের ছেলে আমার নামে প্রভাব খাটান কিনা জানি না।
বিভিন্ন প্রকারে ঘুরেফিরে এই সংসদ সদস্যের নাম উঠে এসেছে! এর 'ছেনেহের হাত' ব্যতীত এই কর্ম সাধন সম্ভব না!

পরদিন ছিল শিশুদের টিকা দেওয়ার দিন। কী অবলীলায়ই-না এরা টিকাগুলো নষ্ট করেছে!

অদম্য এঁরা! তারপরও থেমে থাকেনি টিকাদান কর্মসূচি!

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যকে কেবল বহিষ্কার করতে হবে এমনই না জড়িত প্রমাণ হলে গ্রেফতার করতে হবে!

এরা সব তছনছ করেছে। হারিয়ে গেছে রেজিষ্টার খাতা। সেখানে লিপিবদ্ধ ছিল শিশু-রোগীদের নাম। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গারির কাছ থেকে ১০ টাকার কাগজ ১০ হাজার টাকায় কিনতে চাইছে!

...

শেখ হাসিনার সময় যেমন গুম [১] শিল্পের পর্যায়ে চলে গিয়েছিল তেমনি এখন দখল-চাঁদাবাজ,  প্রায় শিল্পের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আসলে প্রকৃতি শুন্যস্থান পছন্দ করে না!

কিছু নমুনা:

মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হবে!


চাঁদা না-দেওয়ায় ঘাসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দিয়েছে! সেই ঘাস খেয়ে মহিষ মারা গেছে!



একজন সিনিয়র সিটিজনের প্রাইভেট পার্ট চেপে ধরার যে দৃশ্য আমরা দেখেছি তা অকল্পনীয়!

যুবদল নেতা বলছে, ইউএনও-কে নগ্ন করে পেটাবে:

কী কনফিডেন্ট! বিএনপির এক পান্ডার শখ জেগেছে সে আস্ত মানুষকে পোড়াবে।
তাও আবার বলছে কল রেকর্ড করে রাখ!

একজন বাপকে ব্যানার টাঙিয়ে  তাঁর চোখের সামনে ধর্ষিতা মেয়ের জন্য বিচার চাইতে হয়!

এই এমপি সাহেবের কথা শুনে এক চোখে জল অন্য চোখে পানি চলে আসল।


বাদ যাচ্ছে না রোগির এম্বুল্যান্সও! একটা জায়গা এখনও বাকী আছে, কবরস্থান!

চাঁদাবাজির কারণে লোকজন স্ট্রোক করে মারাও যাচ্ছে!


শিল্পপতি, হকার কেউ বাদ নাই!

সালমান মুক্তাদিরকে বিভিন্ন কারণে অনেকে অপছন্দ করতে পারেন, এই কাতারে আমি নিজেও কিন্তু সে ভিন্ন আলোচনা।
কিন্তু তার প্রোপার্টি ভাংচুর হয়েছে এটা তো সত্য। এখন সে জিডি করেছে কি করেনি এটা অহেতুক আলাপ! এই দেশের কোথাও ক্রাইম হবে, পুলিশ দেখবে। কেউ ইচ্ছা করে ক্রাইম-সিন সাজালে সেটাও পুলিশ খুঁজে বের করবে।

তার স্টুডিও ভাংচুরের পর আগ বাড়িয়ে বিএনপির নামে যেটা বলেছে এটা অন্যায় সেটা নিয়ে সমালোচনা-আলোচনা হতে পারত কিন্তু রাষ্ট্র  মনে হয় ঝাপিয়ে পড়েছে। আমরা পূর্বে এমনটা দেখেছি, লিমনের এক পা'র বিরুদ্ধে রাষ্ট্র গোটা দেশকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল [২]! 

রাষ্ট্রের পাশাপাশি সাহেদ আলম নামের এই লোক সালমানের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য বলছে, বেশ! আইনে কুলালে মামলা করেন, সমস্যা নেই। কিন্তু এই লোক বলছে, হান্ড্রেড বিলিয়ন ডলারের মামলা করতে। এই মাটন-হেডের কী জানা আছে হান্ড্রেড বিলিয়নে কত টাকা হয়—আমাদের গোটা দেশের বাজেট কত বিলিয়ন ডলার?

সূত্র:
১. গুম...:  https://www.ali-mahmed.com/search/label/%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%AE?m=1


Tuesday, September 29, 2026

চুতিয়া মিডিয়া 'চ্যানেল আই' এবং একজন রুমি কারিম!


রুমি কারিম টাইপের লোকদের গ্রেফতার না-করা গেলে অন্তত বয়কট করা উচিত! কারণ এই টাইপের চিকিৎসাযোগ্য লোকজনের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে [১], [২]!

লায়লার মত মানুষকে এখনও কেন গ্রেফতার করা হয়নি এ এক বিস্ময়! মামুনের সঙ্গে লিভ টুগেদার করেই কেবল ক্ষান্ত দেয়নি রসিয়ে-রসিয়ে বলেছেও। এখানে এসে আমাদের মোল্লারা, 'কবি এখানে নিরব' হয়ে যান! সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষ পারে না সব খুলে ফেলতে!
আনিস আলমগীরের মত সিনিয়র সাংবাদিকও একের-পর-এক খাওয়ার ছবি পোস্ট করে—আমি ভয়ে-ভয়ে আছি কোন দিন না প্রসেসিং খাবার বের হওয়ার ছবি দিয়ে বসেন! হলুদের মাঝে ভাসছেন আনিস আলমগীর এটা কল্পনা করতেও কল্পনার প্রয়োজন হয়!

এখন চ্যানেল আইয়ের মত মিডিয়া কেমন করে 'চুতিয়া মিডিয়া' হয়ে পড়ে এর চমৎকার একটা উদারণ দেখলাম। রুমি কারিমের মত, এই চিকিৎসার অতীত লোকজনেরা এখন মিডিয়া দাপিয়ে বেড়াচ্ছে! এ দিনও দেখার ছিল মানুষ 'ইয়ে দিয়ে' খাবার খাচ্ছে! 

সূত্র:

২. খাঁচায় আটকানো: https://www.ali-mahmed.com/2026/03/blog-post_13.html?m=1

Monday, September 28, 2026

ড্রেসকোড এবং একজন সাজ্জাদ হোসেন।

প্রথম আলোর মতিউর রহমান ওরফে বাচ্চু ভাইয়ের পত্রিকা যেহেতু বলে দিয়েছে, 'আ্যথলেটকে হেনেস্তা', এরপর আর কথা চলে না!
তারপরও বাচ্চু ভাইয়ের প্রতি সবিনয়ে বলি, ওইটা কেবল হাফপ্যান্ট না, হাফপ্যান্টের ছোট ভাই, 'লাফপ্যান্ট'! চাড্ডির ইমিডিয়েট বড় ভাই! ডিয়ার, বাচ্চু ভাই, ডু ইয়ো নো, চাড্ডি...?

বিষয়টা ব্যাপক আলোচনায় এসেছে কারণ সাজ্জাদ হোসেন পরিচিত আ্যথলেট। নাখালপাড়ার কোন হাজ্জাদ হলে কিন্তু ঘটনা ভিন্ন হত। এখন সাজ্জাদের জন্য একপ্রকার আর নাখালপাড়ার হাজ্জাদের জন্য অন্য প্রকার এভাবে হয় না আসলে...!
তাঁকে, সাজ্জাদ হোসেনকে হেনেস্তা করা হয়ে থাকলে তা অবশ্যই নিন্দনীয় এবং বিচার্য বিষয়।

কিন্তু তিনি যে বারবার ড্রেসকোডের কথা বলছিলেন 'কোথায় লেখা আছে'-কোথায় লেখা আছে-কোথায় লেখা আছে? তাঁর সঙ্গে পন্ডিতরাও গলা মেলাচ্ছেন।
এটাও কিন্তু লেখা নেই যে নগ্ন হয়ে মেট্রোরেলে যাওয়া যাবে, কি যাবে না? সব কিছু পেছনে লিখে রাখতে হয় না। প্রত্যেক সমাজে কিছু ভ্যালুজ থাকে—স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় নূন্যতম বোধটুকু থাকতে হয়। সব কিছু নোটিসে বা কেতাবে, নিদেনপক্ষে 'ইয়ের পেছনে' লেখা থাকে না।

এই ঘটনাটা ভারতের। স্রেফ উদাহরণের জন্য দেওয়া। এই মানুষটা ট্রেনের ভেতর প্রকাশ্যে 'মুত্র বিসর্জন' করছেন! তিনিও কিন্তু এই কঠিন প্রশ্নটা ছুড়ে দিতে পারতেন, ট্রেনের গায়ে কোথায় লেখা আছে, এটা করা যাবে না?

ধরুন, ডেভিড হফম্যানের মত, কোন-এক বঙ্গাল ৮৮ নম্বর বরাবর গামছা বা ত্যানা প্যাঁচিয়ে মেট্রোতে চলে এলেন! যুক্তি মারাত্মক থাকবে! আহা, পরের স্টেশনে যে তার 'পরদশনি' আছে।
বা কোন একদিন, কোন একজন 'মুহতরমা' সাঁতারের পোশাকে মেট্রো-পাবলিক প্লেসে চলে এলেন এবং তাড়াহুড়োর কারণে গা মোছারও সময় পেলেন না, হে-হে-হে, তখন কিন্তু আপনিই পুলিশের কলার ধরতে যাবেন...।
...
বঙ্গাল এক খেলা থেকে অন্য খেলায় চলে যায়!

আমাদের বাচ্চু ভাইয়ের প্রথম আলো শিরোনাম করেছে মারাত্মক!
হেনেস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে তারা!

'তারা'! তারা, কারা-কারা? এই ছবিটা মতি ভাই নিজেই তুলেছেন সম্ভবত। ওয়াইড এঙ্গেলে বাকী অন্যদের আনতে পারেননি!

যথারীতি আমাদের মোল্লা সাহেব এসে হাজির হয়েছেন—যে-কোন বিষয়ে ধর্মকে টেনে না-আনলে এরা আরাম পান না[১]! 

আমার স্পষ্ট বক্তব্য যে-কেউ হেনেস্তা হলে তার আলোচনা হোক, বিচার হোক সমস্যা তো নাই কিন্তু একেকজনের জন্য একেক নিয়ম তো চালু করা যায় না। আর আমাদের বাচ্চু ভাইয়ের মত লোকজনেরা যে হেনেস্তার কথা বলছেন সাজ্জাদ নিজেও কিন্তু সাধারণ মানুষকে  হেনেস্তা করেছেন! তিনি মারমুখো হয়ে যে ভঙ্গিতে কথা বলছেন, মনে হচ্ছে তিনি লাট সাহেব! তার ড্রেস নিয়ে অন্যরা, সাধারণ যাত্রীরা কথা বলতে পারবেন না!

সুত্র:
১ মোল্লা সাহেবরা...: https://www.ali-mahmed.com/2019/04/blog-post.html?m=1




অপচয়কারী রাষ্ট্র!

 

এই মানুষটার নাম ওবাইদুর রহমান চুন্নু। তিনি কল্পনাও করেননি তাঁর সঙ্গে কেউ এমন আচরণ করতে পারে!
পুলিশ পাহারায় এই রকম গায়ে হাত তোলা গেলে আমাদের ট্যাক্সের পয়সায় পুলিশ পোষার আদৌ কোন প্র‍য়োজন নেই!
শুধুশুধু ট্যাক্সের টাকার অপচয়!



Friday, September 25, 2026

হার্ট-লিভার-ফুসফুস-কিডনি বনাম 'ব্লাড মানি'!.

 

যে ভিডিও ক্লিপ দেখলেন এটা কিন্তু কোন সিনেমার দৃশ্য না—১৭ বছরের এক ধনীর দুলাল, গরীব একজন মানুষের উপর জাস্ট গাড়ি তুলে দিয়েছে! ঘটনা সামান্যই ছিল—বেচারা ড্রাইভার বলির পাঁঠা!

গাড়িটা যে 'ধনীর দুলাল বাবু' চালাচ্ছিল এটা ভিডিও ফুটেজে তার নামার ভঙ্গি দেখলেই হবে। সে নেমেছে চালকের আসন থেকে আর ড্রাইভার নেমেছে প্যাসেঞ্জার সিট থেকে! 

এতে গরীব মানুষটার মৃত্যু  হয়েছে। হায়াত ছিল না—'আল্লার মাল আল্লাহ নিয়া গেছেন'! পুলিশ ছেলেটিকে ছেড়েও দিয়েছিল। কিন্তু এই ভিডিও ফুটেজ এবং পাবলিক গোলমাল পাকিয়েছে। এরা বলছে, এই ছেলেটাই কালপ্রিট!
আদতে এই ছেলেটি কিন্তু নিষ্পাপ! হত্যাকারী অন্যরা!

গাড়িটা ছেলেটার মায়ের নামে। এই ছেলে আগেও গাড়ি নিয়ে চালাবার চেষ্টা করেছে এবং এটা তার মা জানেন না এটা বিশ্বাস করা কঠিন। অন্তত তার মা কি ড্রাইভারকে পইপই করে নিষেধ করেছিলেন যে ভুলেও যেন স্টিয়ারিং এর হাতে না-দেওয়া হয়? এটা না-বলে থাকলে তার মা পরোক্ষ হত্যাকারী!

যাই হোক, 'ধনী পুলিশ' (পুলিশ সবসময় ধনীর পক্ষে থাকে তাই পুলিশকে 'গরীব পুলিশ' বলার অবকাশ নাই) জনতার চাপে এই ছেলেকে আদালতে সোপর্দ করে! এরপর শুরু হয় খেলা, আসল খেলা। এদিকে এই ছেলের বাবা আবার  বিমানের পাইলট!
তিনি বিমান চালানোর পাশাপাশি 'দিমাগ' মানে মাথাও অসাধারণ চালান। নমুনা: 
৯ লাখ টাকায় তিনি একটা মৃতদেহ কিনেছেন! ওই মৃতদেহের পরিবারকে এই টাকা দিয়ে আপোষ করেছেন। তিনিও পরোক্ষ হত্যাকারী! 

তবে এটা স্বীকার করতেই হবে তিনি জিতেছেন!

গুগল একটা হিসাব দিয়েছে। একটা মানুষের কেবল ব্যবহারযোগ্য মূল অর্গানগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। অবশ্য একটি মানব দেহের পার্ট-পার্ট করে সব মিলিয়ে আনুমানিক মূল্য ৫০০ কোটি টাকা!

ওভাবে বললে আমাদের পাইলট সাহেব বড় শস্তায় কেনাকাটা করেছেন! 
আচ্ছা, স্রেফ কৌতুহল! কেউ যদি ওনার সন্তানের মূল্য ১০ গুণ দিতে চায়, ৯০ লাখ টাকা? তিনি কি রাজি হবেন? আহা, নইলে আমরা একটু বার্গেনিং করব। আরও ১০ ধরে দেব নে... ।

ভাল কথা, আইনজীবী মহোদয়ের মুখে শুনলাম, 'শান্তা  ডেভালাপার'-এর প্রতিনিধিও মধ্যস্থতাকারী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। শান্তা  ডেভালাপারের পরিবারের কারও এই প্রকারের 'ব্লাড মানি'-র প্র‍য়োজন হলে সেটার দর যে শান্তার ভবনের মত উঁচু হবে এতে কারও কোনও আপত্তি থাকার কথা না!
আর এই যে মহৎ মানুষটা, আইনের ধারক-বাহক, আইনজীবী—খুবই মাই ডিয়ার টাইপের মানুষ! তিনিই এই দরদামের প্রধান মাধ্যম।
তিনি এমন ভাবে বলছেন যেন পেছনের সিটে ছিলেন! আমরা ভিডিও ফুটেজে যেটা দেখছি সেটা ভুল! গাড়ি উল্টে যাওয়ার পর নাকি দরোজা উল্টে যায়, লোকও উল্টে যায়!
তিনি ল-অফিসার না হলে আমি বিশ্বাস করতাম না। কারণ কোন আইনের মানুষ যদি বলেন, আমরা খাবার মুখ দিয়ে না, অন্যদিক দিয়ে গ্রহণ করি—অন্তত আমি বিশ্বাস করি। বিজ্ঞ আইনজীবী বলে কথা!
প্রবল আশা, তার নিজ সন্তানের বেলায়ও তিনি এমন একটা দরদাম-কেনাকাটার বিষয়ে আগ্রহের সঙ্গে নেগোসিয়েটর হবেন। তার সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে তাতে তিনি মোটেও পিছপা হবেন না।  

আমাদের দেশের আইনও বলিহারি! শিশু আইন ২০১৩, ধারা ৫৩-তে ১৮ বছরের নীচে কাউকে শিশু হিসাবে গণ্য করতে হবে। ১৭ বছরের ধামড়া ছেলেকেও শিশু হিসাবে গণ্য করতে হবে! এবং 'এই ছেলে'-'এই ছেলে' বলতে হবে, নাম নেওয়া যাবে না! ছবি ছাপানো যাবে না, 'শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে' রাখতে হবে।
অথচ এখন বাচ্চা-বাচ্চা ছেলে-মেয়েরা ঠান্ডা মাথায় খুন করছে। হাতে-হাতে ফোন, সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আমাদের প্রজন্মের চেয়ে হাজার গুণ এগিয়ে আছে! অপ্রতীমের [১] ঠান্ডা মাথার খুনিদের মধ্যে ১ জন 'তথাকথিত শিশু'!
ওই শিশু সহ, যারা ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে তারা খুন করার পর অপ্রতীমের স্বজনের সঙ্গে খোঁজার ভান করেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাসও দিয়েছে, যাকে খুন করেছে তার মাকে আবার সান্ত্বনাও দিয়েছে!

আজকের এই ধনীর দুলাল যখন শিশু থেকে 'অ-শিশু' হবে—উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশ যাবে। রসিয়ে-রসিয়ে একে-ওকে গল্প করবে:
'শ্লা, জানিস, ফকিন্নির পোলার উপর যখন গাড়িটা উঠে গেল ফট করে খুলি ভাঙ্গার শব্দ হলো। তুই যদি গলগল করে রক্ত বের হওয়া দেখতি; শালা, খেত কী! এতো রক্ত আসে কোত্থেকে! হোয়াডা সিন, ব্রো! ফা... মাই আ্যস, রক্ত-মাংস লেপ্টে টায়ারের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিল...! ইয়ো নো, ইটস আ ম্যাটার অব 'নাইন হান্ড্রেড কে', ব্রো'!
বীরত্বের এই গল্প তার গার্লফ্রেন্ড আবার চোখ বড়-বড় শুনবে। তথাকথিত ওই শিশুটাকে তখন কী ম্যানলি-ই না লাগবে! যুদ্ধ ফেরত জেনারেল...!  

* কোন কাজ অর্ধেক ফেলে রাখতে নেই, পাপও! যেহেতু আইনজীবী বলছেন, গাড়িটা শিশু চালাচ্ছিল না, চালাচ্ছিলেন ড্রাইভার—তাই ড্রাইভারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিন। ল্যাঠা চুকে গেল...! 




Sunday, September 20, 2026

একজন অপ্রতিম, একটি আইফোন এবং 'খুনি আমরা'!

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান আইফোনের জন্য খুন হয়ে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে—যাদের ধরা হয়েছে এরা খুনি না, আসলে আমরা সবাই খুনি!

যে মানুষটা এই লেখাটা দিয়েছেন তিনি বালক অপ্রতিমের মৃত্যুতে উল্লসিত। কারণ তার কঠিন ধারণা, এই ছেলেটির মা তার নেত্রীর বিপক্ষে ছিলেন। শুশান্ত নামের এই মানুষটাকে(!), উন্নত দেশে বসবাস, উন্নত শিক্ষা, উন্নত খাবার কোনটাই  মানুষ বানাতে কাজ করেনি! সমস্ত বিদ্বেষ উগরে দিয়ে তৈরি করেছে পরোক্ষ এক খুনি!

কেন? কারণ তিনি  একজন আওয়ামীলীগের ডাই হার্ড কর্মী! একজন কঠিন দলবাজ যিনি দলের কোন নেতাকে কাউকে খুন করতে দেখলেও উদাস হয়ে আকাশের সৌন্দর্য দেখে বিড়বিড় করবেন: 'এটা খুন না, এটা মুন'! তিনি অপ্রতিমের পরোক্ষ খুনি!

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যারা গিয়েছিল শিক্ষা অর্জনে। তারা আওয়ামিলীগের কর্মীর নামে একজন মানুষকে যেভাবে নির্যাতন করছে—এরা দলবাজির নামে হাত পাকাচ্ছে কেবল। দলবাজী, দলের দোহাই দিয়ে যে-কোন অন্যায় জাস্টিফাই হয়ে যাচ্ছে। কালে-কালে এরাই হয়ে উঠবে একেকটা হিংস্র খুনি! সাবজেক্ট বদলাবে কেবল—অপ্রতিমের জায়গায় আসবে প্রতিম! 

আর আমরা, 'সাধারণ তামাশাবাজ', পূর্বে শিবির-বিএনপি'র নামে কাউকে মেরে ফেললে নির্বিকার ভঙ্গিতে আকাশ দেখতাম; এখনও আকাশ দেখি নিষিদ্ধ সংঘটন-আওয়ামীলীগ নামে কাউকে মেরে ফেললে। আকাশ দেখতে-দেখতে আমরাও পরোক্ষ খুনি হয়ে যাচ্ছি।

আমাদেরকে যারা নিরাপত্তা দেবেন, সেই পুলিশ পূর্বে পয়সা খেয়ে বাইক ছিনতাইয়ের মামলায় যে তুহিনকে ছেড়ে দিল সেই পুলিশও পরোক্ষ খুনি। এই ঘুষখোর পুলিশরাই  পরবর্তীতে অপ্রতিমকে খুন করতে তুহিনকে তৈরি করেছেন!

এখন ভার্চুয়াল জগতে লোকজন পারে না নগ্ন হয়ে যেতে। এখানে কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা—কোনটা এআই, কোনটা এআই না এটা বোঝা প্রায় অসম্ভব! আবার কোনটা মেকি, কোনটা আসল ভিডিও ক্লিপ এটাও ধরা মুশকিল!

তারপরও আমরা যদি এই ভিডিও ক্লিপটাকে একটা উদাহরণ হিসাবে ধরি, এই হচ্ছে এখনকার প্রজন্ম! আচ্ছা, এর কোন পরিবার-পরিজন নেই? যে একে বোঝাতে পারে যে, ধান গাছ দিয়ে তক্তা হয় না!

অপ্রতিম নামের এই বালকের হাতে কে-কারা বাইক তুলে দিল!
কীভাবে সে দিনের-পর-দিন টিকটক করে গেল! সে কেমন করে  মা'র লক করা আইফোন  উঠিয়ে নিয়ে যায়? দিনের-পর-দিন ওর এই সমস্ত কর্মকান্ড, ওর বাবা-মা-ভাই-বোন-স্বজন কারই চোখে পড়ল না? এরাও অপ্রতিমের পরোক্ষ খুনি!  

আমদের দেশের সেরা সন্তান যাকে আমরা কর্ণেল অলি নামে চিনতাম এখন 'নষ্ট অলি' নামে চিনি!

তিনি যখন এই ভাষায় কথা বলেন তখন এই প্রজন্ম দিক ভ্রষ্ট আদর্শহীন একটা নষ্ট প্রজন্ম হিসাবে গড়ে উঠবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই!

এই 'নষ্ট অলি'-ও একজন পরোক্ষ খুনি কারণ আমাদের প্রজন্মের কাছে উদাহরণ দেখাবার লোকের বড় অভাব...!

একজন ডাকাত, ছিনতাইকারী ৪৫টা মামলায় ৪৫বার জামিন পায়। কে দেয় এই জামিন। পুলিশের কী ঠ্যাকা পড়েছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একে ধরবে আর জাজ জামিন দিয়ে দেবেন?


কোন জাজরা এই সমস্ত ভয়ংকর সন্ত্রাসীদেরকে জামিন দেন? সেই জাজদেরকে কি শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়? ওই জাজরাও অপ্রতিমের পরোক্ষ খুনি!

এই জাজদের কর্মকান্ড যিনি খুব কাছ থেকে দেখতে পারতেন, আমাদের আইনমন্ত্রী, তিনি পড়ে আছেন উকিলদের প্রেম নিয়ে:
হায় প্রেম! পরোক্ষ...! 
...
০২.১০.২৬
সন্তান হারাবার বেদনা বাবা-মা'র সহ্যাতীত! অপ্রতিমের মা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন। 
কিন্তু সন্তানের অন্যায়কে প্রমোট করা শোক না, প্রকারান্তরে এ আরেক অন্যায়...!




WhatsApp