কোরান মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হওয়াকে তীব্রভাবে নিন্দা করে এবং আখিরাতে (পরকালে) কঠিন শাস্তির কথাও বলে, কিন্তু দুনিয়াতে মৃত্যুদণ্ড বা শারীরিক শাস্তির স্পষ্ট নির্দেশ কোরানে কোথাও নেই।
এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী বলছেন, কেউ মুরতাদ হয়ে গেলে, মানে ইসলাম গ্রহণের পর ধর্ম ত্যাগ করলে তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে!
কোরানে মুরতাদ নিয়ে আয়াত:
১. সূরা আল-বাকারা ২:২১৭ (মুরতাদ/ধর্মত্যাগ সম্পর্কিত):
বাংলা: ...“আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার দ্বীন থেকে ফিরে যাবে (মুরতাদ হবে) এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, তাদের আমলসমূহ দুনিয়া ও আখিরাতে বরবাদ হয়ে যাবে। আর তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।” (অংশবিশেষ) English: "...And whoever among you renounces their own faith and dies a disbeliever, their deeds will become void in this life and in the Hereafter. It is they who will be the residents of the Fire. They will be there forever." আরবি: وَمَن يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَن دِينِهِۦ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌۭ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَـٰلُهُمْ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْـَٔاخِرَةِ ۖ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَـٰلِدُونَ২. সূরা আল-ইমরান (৩:৮৬)বাংলা: “কেমন করে আল্লাহ সেই সম্প্রদায়কে সুপথ দেখাবেন যারা ঈমান আনার পর, রাসূলকে সত্য বলে স্বীকার করার পর এবং তাদের নিকট সুস্পষ্ট দলীল আসার পর কুফরী করে?”(এরপর আয়াতগুলোতে লানত ও ক্ষমার অযোগ্যতার কথা বলা হয়েছে)। English: "How will Allah guide a people who chose to disbelieve after they had believed, acknowledged the Messenger to be true, and received clear proofs? For Allah does not guide the wrongdoing people." আরবি: كَيْفَ يَهْدِى ٱللَّهُ قَوْمًۭا كَفَرُوا۟ بَعْدَ إِيمَـٰنِهِمْ وَشَهِدُوٓا۟ أَنَّ ٱلرَّسُولَ حَقٌّۭ وَجَآءَهُمُ ٱلْبَيِّنَـٰتُ ۚ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلظَّـٰلِمِينَ৩. সূরা আন-নিসা (৪:১৩৭)বাংলা: “নিশ্চয় যারা ঈমান আনল, অতঃপর কুফরী করল, আবার ঈমান আনল, আবার কুফরী করল, অতঃপর কুফরীতে অগ্রসর হতে থাকল, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না এবং পথপ্রদর্শন করবেন না।” English: "Indeed, those who believed then disbelieved, then believed and again disbelieved—˹only˺ increasing in disbelief—Allah will neither forgive them nor guide them to the ˹Right˺ Way." আরবি: إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ثُمَّ كَفَرُوا۟ ثُمَّ ءَامَنُوا۟ ثُمَّ كَفَرُوا۟ ثُمَّ ٱزْدَادُوا۟ كُفْرًۭا لَّمْ يَكُنِ ٱللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيلًۢا
এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীকে নিয়ে এখানে গুরুত্ব আলোচনার কারণ আছে। তিনি নিজেকে গ্র্যান্ড মুফতি দাবী করেন। এবং আমরা তাকে বিরাট বিজ্ঞানী রূপেও আবিষ্কার করি।তিনি আবিষ্কার করেছেন গুইসাপ বাঁচে ৭৫০ বছর [১] এবং একটা পুরুষ মানুষের মগজের ওজন ৬০ গ্রাম! [২]যাইহোক, মুরতাদকে মেরে ফেলার বিষয়ে হাদিসের প্রসঙ্গ নিয়ে এসেছেন। এবং এটাও বলছেন:
৪. সূরা আল-ইমরান ৩:৯০ বাংলা: “নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে, অতঃপর কুফরীতে বেড়ে গেছে—তাদের তওবা কখনো কবুল করা হবে না। আর তারাই পথভ্রষ্ট।”English (Sahih International): "Indeed, those who disbelieve after their belief and then increase in disbelief—never will their [claimed] repentance be accepted, and they are the ones astray."আরবি: إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بَعْدَ إِيمَـٰنِهِمْ ثُمَّ ٱزْدَادُوا۟ كُفْرًۭا لَّن تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ وَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلضَّاۤلُّونَ
এর ঠিক আগের আয়াতেই ক্ষমার কথা বলা হচ্ছে:৫. সূরা আলে-ইমরান ৩:৮৯বাংলা: তবে এরপর যারা তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।English: Except for those who repent thereafter and reform, for indeed, Allah is Forgiving and Merciful.আরবি: إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُوا۟ مِنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ وَأَصْلَحُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌ
কোরানে জোরপূর্বক ফিরিয়ে আনা বা হত্যার তো নির্দেশ নেই-ই বরং ২:২৫৬-এ বলা হয়েছে:
এর ঠিক আগের আয়াতেই ক্ষমার কথা বলা হচ্ছে:৫. সূরা আলে-ইমরান ৩:৮৯বাংলা: তবে এরপর যারা তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।English: Except for those who repent thereafter and reform, for indeed, Allah is Forgiving and Merciful.আরবি: إِلَّا ٱلَّذِينَ تَابُوا۟ مِنۢ بَعْدِ ذَٰلِكَ وَأَصْلَحُوا۟ فَإِنَّ ٱللَّهَ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌ
কোরানে জোরপূর্বক ফিরিয়ে আনা বা হত্যার তো নির্দেশ নেই-ই বরং ২:২৫৬-এ বলা হয়েছে:
“ধর্মে কোনো জোরজবরদস্তি নেই”।
যে কোরান মানে কিন্তু হাদিস মানে না সে মুসলমান না।নবী মারা যান ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের, ১১ হিজরিতে। হাদিস সংকলন শুরু হয় অনেক পরে। উমর বিন আব্দুল আজিজ ৯৯ হিজরিতে প্রথম সরকারিভাবে হাদিস লিখে রাখার আদেশ দেন। নবীর মৃত্যুর প্রায় 88 বছর পর।কিন্তু কিতাব আকারে বড় সংকলন শুরু হয় ২য়-৩য় হিজরি শতকে। বুখারি ২৫৬ হিজরি, মুসলিম ২৬১ হিজরিতে লিখেছেন। নবীর মৃত্যুর প্রায় ২৫০ বছর পর।যে-সমস্ত সহিহ হাদীস সংকলিত হয়েছে তার পালন করলে জীবনযাপন করা দুঃসহ হয়ে যাবে! যেমন টিকটিকি বিষয়ে সহীহ হাদিস আছে [৩]:
"...টিকটিকি মারো। প্রথম আঘাতে মারলে ১০০ নেকি, দ্বিতীয় আঘাতে কম... কারণ ইবরাহিমের আগুনে ফুঁ দিয়েছিল।"
-উৎস: সহিহ মুসলিম ২২৪০; সহিহ বুখারি ৩৩৫৯
সেই কবে, আনুমানিক ৪ হাজার বছর পূর্বে টিকটিকির কোন-এক পূর্বপুরুষের অপরাধের কারণে এখন, ২০২৬ সালে একজন মুসলমান অজান্তেই মেরে ফেলবে কোন-এক গর্ভবতী টিকটিকি! তার পেটের সন্তান জানবেও না কী অপরাধে তার এবং তার মা'র মৃত্যু হল!
খালেদ মুহিউদ্দিনের সাথে আলোচনায় তিনি এটাও বলেছেন, 'রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তি যেমন মৃত্যুদন্ড তেমনি মুরতাদেরও', বেশ-বেশ!
* ৪. সহীহ বুখারী ৬০৪৫ সোর্স: http://sunnah.com/bukhari:6045বাংলা: আবূ যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সা. কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি কোনো লোককে 'কাফের' বলে আখ্যায়িত করে অথবা 'আল্লাহর দুশমন' বলে, অথচ সে তা না হয়, তবে তার উপরই তা বর্তাবে।আরবি: عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلاً بِالْفِسْقِ أَوِ الْكُفْرِ، إِلاَّ ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ، إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَلِكَ ".ইংরেজি: Narrated Abu Dhar: That he heard the Prophet saying, "If somebody accuses another of Fusuq or accuses him of Kufr, then such an accusation will revert to him if his companion is not so."
৫. সহীহ বুখারী ৬১০৫ সোর্স: http://sunnah.com/bukhari:6105বাংলা: আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে কাফের বলে অপবাদ দেয়, সে যেন তাকে হত্যা করল।আরবি: وَمَنْ قَذَفَ مُؤْمِنًا بِكُفْرٍ فَهُوَ كَقَتْلِهِইংরেজি: And whoever accuses a believer of disbelief, then it is as if he killed him.
** খালেদ মুহিউদ্দিন এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীকে স্যার-হুজুর ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন, সেটা সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে, অল্প জ্ঞান নিয়ে গল্প করা যায় না! তিনি আব্বাসীর মত মানুষকে, যিনি নিজেই নিজেকে বি-রা-ট পন্ডিত মনে করেন তার কাছে নিজের জ্ঞানের স্বল্পতা দিয়ে তাকে আরও বড় পন্ডিত বানিয়ে দিচ্ছেন। নমুনা:
খালেদ মুহিউদ্দিনের সাথে আলোচনায় তিনি এটাও বলেছেন, 'রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তি যেমন মৃত্যুদন্ড তেমনি মুরতাদেরও', বেশ-বেশ!
এই ভিডিও ক্লিপে তিনি বলছেন, তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না, বেশ কিন্তু জাতীয় সংগীত মানেন না, তিনি সংবিধান মানেন না।
যেখানে আইন প্রণয়ন হয়, সেই সংসদকে আপনি বলছেন, 'মূর্তি'! আপনি সংসদকে অস্বীকার করছেন প্রকারান্তরে আপনি এই দেশের বৈধ সরকারকে অস্বীকার করছেন। দেশকে অস্থিতিশীল করে দেশকে বিপন্ন করার অপচেষ্টা করছেন। এটা একপ্রকারে রাষ্ট্রদ্রোহীতা করছেন!
দণ্ডবিধির ১২৪ (ক) ধারা রাষ্ট্রদ্রোহ (Sedition) অনুযায়ী:বাংলাদেশ দণ্ডবিধি 1860 এর ধারা ১২৪(ক) / Sedition: যে ব্যক্তি, শব্দ দ্বারা, মৌখিক বা লিখিত, বা চিহ্ন দ্বারা, বা দৃশ্যমান প্রতীক দ্বারা, বা অন্য কোনোভাবে, ১. বাংলাদেশে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা অবজ্ঞা সৃষ্টি করে, বা সৃষ্টির চেষ্টা করে, অথবা ২. বাংলাদেশে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি অসন্তোষ সৃষ্টি করে, বা সৃষ্টির চেষ্টা করে, সে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে।
সংসদকে 'মূর্তি' বলা, সংবিধান অস্বীকার করা, জাতীয় সংগীতকে ব্যঙ্গ করা ১২৪(ক)-এর 'অবজ্ঞা সৃষ্টি'র সংজ্ঞায় পড়ে কিনা, তা আদালত বিবেচনা করবে। তবে আপনার বক্তব্য রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আপনি নিজে সরাসরি এবং মাসুম বান্দাদের প্রভাবিত করার মাধ্যমে কেবল রাষ্ট্রদ্রোহিতারই উস্কানি দিচ্ছেন না কাফের বলেও [১]ফতোয়াও দিচ্ছেন!
সূত্র:১. গুইসাপ বাঁচে ৭৫০ বছর: https://www.ali-mahmed.com/2025/08/blog-post_2.html?m=1২. এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর ৬০ গ্রাম ব্রেন: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_09.html?m=1৩. হাদিস...: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_08.html?m=1* ৪. সহীহ বুখারী ৬০৪৫ সোর্স: http://sunnah.com/bukhari:6045বাংলা: আবূ যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সা. কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি কোনো লোককে 'কাফের' বলে আখ্যায়িত করে অথবা 'আল্লাহর দুশমন' বলে, অথচ সে তা না হয়, তবে তার উপরই তা বর্তাবে।আরবি: عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَرْمِي رَجُلٌ رَجُلاً بِالْفِسْقِ أَوِ الْكُفْرِ، إِلاَّ ارْتَدَّتْ عَلَيْهِ، إِنْ لَمْ يَكُنْ صَاحِبُهُ كَذَلِكَ ".ইংরেজি: Narrated Abu Dhar: That he heard the Prophet saying, "If somebody accuses another of Fusuq or accuses him of Kufr, then such an accusation will revert to him if his companion is not so."
৫. সহীহ বুখারী ৬১০৫ সোর্স: http://sunnah.com/bukhari:6105বাংলা: আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে কাফের বলে অপবাদ দেয়, সে যেন তাকে হত্যা করল।আরবি: وَمَنْ قَذَفَ مُؤْمِنًا بِكُفْرٍ فَهُوَ كَقَتْلِهِইংরেজি: And whoever accuses a believer of disbelief, then it is as if he killed him.
** খালেদ মুহিউদ্দিন এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীকে স্যার-হুজুর ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন, সেটা সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে, অল্প জ্ঞান নিয়ে গল্প করা যায় না! তিনি আব্বাসীর মত মানুষকে, যিনি নিজেই নিজেকে বি-রা-ট পন্ডিত মনে করেন তার কাছে নিজের জ্ঞানের স্বল্পতা দিয়ে তাকে আরও বড় পন্ডিত বানিয়ে দিচ্ছেন। নমুনা: