লেখক: Fawaz Rob (https://www.facebook.com/share/1E8km4zb8D/)
"(ডোনাল্ড ট্রাম্প কারাগারে গেলে ইভাঙ্কা ট্রাম্পও নিশ্চয়ই ফেসবুকে সুন্দর, হৃদয়ছোঁয়া একটি পোস্ট লিখতেন)
আমি আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে ঘুমিয়েছি। (দয়া করে কেউ-আবার অন্য অর্থ করবেন না) এমনিতে কথাটি বলার সুযোগ খুব বেশি মানুষের হয়েছে বলে মনে হয় না।
আচ্ছা, খুলেই বলি। ক্লিকবেইট দিয়ে পাঠক টানার এই সময়ে লেখার শুরুতে একটু চমক রাখাই যেন রেওয়াজ। তবে কথাটি সত্যি। আমি তাঁর ‘সঙ্গে’, অর্থাৎ একই ঘরে ঘুমিয়েছিলাম।
সালটি ২০০৩। আমরা তখন ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে। সবে পড়াশোনা শেষ করে চাচার বাড়িতে বেড়াতে গেছি। নূর চাচা, তখন আমরা তাঁকে এ নামেই ডাকতাম।যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে আমার চাচার বাসায় উঠেছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি মঞ্চে ‘নূরলদীনের সারাজীবন’-এর প্রদর্শনী শেষ করে এসেছেন। দর্শকের বিপুল করতালি পেয়েছে সেই প্রযোজনায়।
আমেরিকার অনেক বাড়ির মতো সেখানেও অতিথিদের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা ছিল না। তাই কয়েকটি ঘরে ভাগাভাগি করে আমাদের শোয়ার ব্যবস্থা হলো। ঘটনাচক্রে নূর চাচার ঘরেই মেঝেতে পাতা তোশকে আমার জায়গা হলো, সঙ্গে আরও দুজন। কী অসাধারণ গল্পই না-বলতে পারতেন মানুষটি! তাঁর ব্যক্তিত্ব, গল্প বলার ভঙ্গি আর উচ্চারণে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। চারপাশ ঘুমিয়ে পড়ার অনেক পরও তাঁর গল্পে আমাদের রাত জেগে রইল।
আমাদের প্রজন্ম আসাদুজ্জামান নূরকে দেখেই বড় হয়েছে, আমিও। তিনি ছিলেন ভালো মানুষটির প্রতিরূপ। মধ্যবিত্তের চেনা সেই মানুষ, যিনি আত্মমর্যাদা, সম্মান ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান। টেলিভিশনের নাটকে তিনি আসলে চিত্রনাট্যের সংলাপই বলতেন। অথচ আমরা বিশ্বাস করতাম, মানুষটিও বুঝি তেমনই/ এরপর এলো, ‘কোথাও কেউ নেই’। অসাধারণ সেই ধারাবাহিকে তিনি হলেন বাকের ভাই—পাড়ার এক মাস্তান, যে বিত্তবান প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায়। হুমায়ূন আহমেদের অনন্য রচনা আর নওয়াজীশ আলী খানের অসাধারণ পরিচালনায় নাটকটি এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিল, যার নজির তার আগে বা পরে আর কোনো টেলিভিশন নাটকে দেখা যায়নি। [১]
বিটিভির সেই সময়টাই ছিল আলাদা। গুটিকয় অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক গোটা দেশের মানুষের মনোজগৎকে প্রভাবিত করতেন। নূরের মুখে ‘ইংলিশ টকিং, ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট’—এই সামান্য সংলাপ শুনেই সারা বাংলাদেশ কীভাবে হেসে উঠত, নতুন প্রজন্ম হয়তো তা কখনোই বুঝবে না। আর টেলিভিশনের কাল্পনিক গল্পে যখন তাঁর ফাঁসি হলো, কেঁদেছিল গোটা বাংলাদেশ।
আসাদুজ্জামান নূর যদি বিটিভি আর নাট্যদলের সাংস্কৃতিতে এ জীবনটা পার করতেন, ভালোই হতো। এত কথা হত না। উনি বেঁচে থাকতেন আমাদের মাঝে একজন কিংবদন্তী হয়ে। আমরা হয়তো তাঁকে আমাদের সময়ের অসাধারণ শিল্পী, অভিনেতা ও কথক হিসেবেই মনে রাখতাম। বাংলাদেশের মরগান ফ্রিম্যান হয়ে তিনি অমর হয়ে থাকতে পারতেন।
ভাবা যায়, একটা চরিত্রের কাল্পনিক মৃত্যুতে মানুষ কুলখানিও করে ফেলে!
একটা সময়ে আমি উনাকে শ্রদ্ধা করতাম। উনার সাথে সেলফি তুলেছি, ওঁর কাছ থেকে এক অনুষ্ঠানে গদ-গদ হয়ে সার্টিফিকেটও নিয়েছি।
কিন্তু..., কিন্তু তিনি রাজনীতিতে এলেন। আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন। তাঁর সুন্দর কণ্ঠ, নম্র ব্যবহার আর শিল্পীসমাজে গ্রহণযোগ্যতা অনেক মানুষকে দলের কাছে টেনে আনল। দলের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল। ফলে উত্থানও হলো দ্রুত। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার তুঙ্গে তিনি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী হলেন।
ভালো কিছু করার চেষ্টাও তিনি করেছিলেন। তাঁর সময়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গন তুলনামূলক স্বাধীনতার এক উজ্জ্বল সময় পার করেছে। চারদিকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জোয়ার ছিল। বেঙ্গল ক্লাসিকাল মিউজিক উৎসব, লোকসংগীত উৎসবসহ নানা আয়োজন চলছিল পুরোদমে। মনে হচ্ছিল, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের এক সুন্দর সময় এসেছে। এখন যেভাবে ধর্মান্ধরা নৌকাবাইচ বা লালন মেলার বিরোধিতা করেন, তখন সেভাবে বাধা দেওয়ার সাহস কেউ করত না।
কিন্তু বড় গল্পের আড়ালেও অন্ধকার থাকে। বিটিভির পর্দায় আমরা যে সৎ মানুষটিকে দেখতাম, আসাদুজ্জামান নূর বাস্তবে তেমন ছিলেন না। নৈতিকতার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসকামী ও দুর্নীতিগ্রস্ত। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার সময়ও তিনি এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, এটি ছিল স্বার্থের সংঘাত। সংবিধানের ১৪৭(৩) অনুচ্ছেদে দায়িত্বে থাকা কোনো মন্ত্রীর মুনাফালাভের উদ্দেশ্যসম্পন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ।
সরকারের নিজস্ব প্রকাশিত জীবনবৃত্তান্তেই সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে একই সঙ্গে এশিয়াটিক গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও দেশ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের মার্চে প্রকাশিত সংবাদেও অভিযোগ ওঠে, তাঁর মালিকানাস্বার্থ ও পরিচালনা পর্ষদে সম্পৃক্ততা থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কাজ পেয়েছিল।
'দিস ইজ বাংলাদেশ'! নূর সাহেবও তাই জেনেশুনেই সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে এশিয়াটিক এমসিএল কত সরকারি বিজ্ঞাপন পেয়েছে, কেউ সেই হিসাব খতিয়ে দেখলেই এ দেশের সরকারি কাজ বণ্টনে ক্ষমতাকাঠামোর ভূমিকা অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এবং একটি মাফিয়াচক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রমাণও এখন আমাদের সামনে এসেছে। বিজ্ঞাপন থেকে অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার কাজ বণ্টন—সুযোগ ঘুরেফিরে পেয়েছেন দলের অনুগত গুটিকয় ব্যক্তি। বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেট প্রায় ৮২৬ কোটি টাকা। নিজের সময়ে তিনি তাঁর মাফিয়াচক্র নিয়ে মন্ত্রণালয়টিকে শক্ত মুঠোয় নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
যাচাইকৃত ও প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে কয়েক লাখ টাকার ব্যক্তিগত সম্পদের মালিক নূর সাহেবের সম্পদের পরিমাণ বেড়ে ২০২৪ সালে ১৫৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। কে জানে? হয়তো হঠাৎ কোনো গুপ্তধনের বাক্স থেকে সোনার মুদ্রা পেয়েছিলেন, হয়তো তার নিম্ন মধ্যবিত্ত বাবার তোষকের নিচে শত কোটি টাকা লুকিয়ে ছিলো। নিশ্চিত করে তো আর বলতে পারি না।
কিন্তু ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে নীলফামারীর রামগঞ্জ বাজারে তাঁর গাড়িবহরে হামলার কথা কে ভুলতে পারে? ওই ঘটনার পর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা কয়েকজনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার উদ্বেগজনক অভিযোগ সামনে আসে। ১৪ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা নূরের গাড়িবহরে পাথর ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন বলে সংবাদে উঠে আসে। এরপর সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। পরে হামলার ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম রব্বানী এবং বিএনপির কর্মী আতিকুল ইসলাম আতিক। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে দুজনেরই লাশ পাওয়া যায়। ১৮ জানুয়ারি উদ্ধার করা হয় রব্বানীর গুলিবিদ্ধ লাশ। আর ২০ জানুয়ারি পাওয়া যায় আতিকের লাশ; তাঁর মাথার পেছনে গুলির ক্ষত ছিল।
নূরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের এসব কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) এবং (UN human rights group) ও উদ্বেগ জানিয়েছিল। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর আগে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা তাঁদের তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। এতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যার গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়।
এক দশক পর রব্বানীর স্ত্রী শাহিনাজ বেগম আসাদুজ্জামান নূরসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পেছনের ঘটনাপ্রবাহে নূরের সম্পৃক্ততা ছিল। এসব অভিযোগ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বেআইনি হত্যার যেসব অভিযোগ আলাদাভাবে নথিভুক্ত হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে নূরের ব্যক্তিগত দায়কে এক করে দেখাও ঠিক হবে না। হয়তো এ ব্যাপারে উনি কিছুই জানতেন না। কিছুই বুঝতেন না। হয়তো পুরোটাই পার্টি পলিটিক্স। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।
এমনিতে তিনি কেবল ক্ষমতার কাছাকাছি ছিলেন না, ক্ষমতা উপভোগ করেছেন!
তো, ব্যক্তিগতভাবে আমি কেন নূর সাহেবের বিরোধিতা করি? আগের সব অভিযোগের ক্ষেত্রেই হয়তো সংশয়ের সুবিধা তাঁকে দিতে পারি। বাংলাদেশের আদালত যে সব সময় প্রকৃত ন্যায়বিচারের আদর্শ দৃষ্টান্ত, তা নয়। অনেক মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে কয়েক দশকের অবদানের কথা বিবেচনা করে হয়তো তাঁর মুক্তির পক্ষেও দাঁড়ানো যায়। কিন্তু তাঁকে ক্ষমা করতে না পারার কারণগুলো অন্য জায়গায়।
প্রথমত, তিনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেছেন। যখন তরুণ-তরুণী ও শিশুরা রাস্তায় প্রাণ হারাচ্ছিল, তখন তাঁদের জীবন নিয়ে তাঁর কোনো উদ্বেগ দেখা যায়নি। বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবনের চেয়ে দলের প্রতি আনুগত্যই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
দ্বিতীয়ত, বছরের-পর-বছর তিনি একটি ফ্যাসিবাদী সরকারকে সমর্থন করেছেন, সেই সরকারের অংশ হয়েছেন। প্রহসনমূলক কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য হয়েছেন। যে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার ও ব্যবস্থা ১৮ বছর ধরে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তিনি তার পাশেই দাঁড়িয়েছেন। কখনো অনুশোচনা দেখাননি। বিটিভির পর্দায় দেখা ন্যায়পরায়ণ মানুষটি তিনি ছিলেন না।
তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগ সরকারের অংশ হওয়ার জন্য একটি দিন, একটি মুহূর্তের জন্যও তাঁকে অনুশোচনা প্রকাশ করতে দেখিনি। গণ-অভ্যুত্থানের পরও এমন একটি ভয়ংকর সরকারের অংশ থাকার জন্য তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ, ঘৃণা কিংবা ব্যক্তিগত অপরাধবোধের কথা বলেননি।
চতুর্থত, আজও তিনি শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য ধরে রেখেছেন। আইন লঙ্ঘন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দুর্নীতি ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা এত তরুণের প্রাণ কেড়ে নেওয়া একটি নির্মম সরকারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাঁর কোনো অনুশোচনা দেখা যায় না।
পঞ্চমত, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান কেবল কয়েক দিনের রাজপথের আন্দোলন ছিল না। আওয়ামী লীগের অধীনে বছরের-পর-বছর চলা নির্মম কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ছিল সেটি। সেই সময়ে তরুণদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। অনেকেই আর পরিবারের কাছে ফেরেননি।
এটাতো এখন কঠিন একটা 'ফ্যাক্ট' যে, গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশন ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ পেয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে গুম হিসেবে শনাক্ত করেছে। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনের হিসাবে, জুলাই-আগস্টের দমন-পীড়নে নিহত মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ পর্যন্ত হতে পারে।
নূর সাহেব ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। যে রাজনৈতিক শক্তির অধীনে এই ব্যবস্থা চলেছে, তিনি তারই অংশ ছিলেন। মানুষ যখন গুম হচ্ছিল, তখন তাঁর কণ্ঠ কোথায় ছিল? শিক্ষার্থীদের যখন রাস্তায় গুলি করা হচ্ছিল, তখন তাঁর বিবেক কোথায় ছিল? ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো সেই ‘বাকের ভাই’ কোথায় ছিলেন? একটি বার, একটি বা তিনি গর্জে উঠেননি!
"...নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় যখন আমার স্বপ্ন লুট হয়ে যায়..., 'জাগো বাহে কোনঠে সবায়'... "
হ্যাঁ, তাঁর মেয়ের আবেগঘন ফেসবুক পোস্টটি আমি পড়েছি। ভাষা শুদ্ধ, লেখাটিও হৃদয়ছোঁয়া। কিন্তু মেয়ের আকুতি কিংবা বিটিভির তারকাখ্যাতি কাউকে কয়েক দশকের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় থেকে মুক্তি দেওয়ার অজুহাত হতে পারে না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প কারাগারে গেলে ইভাঙ্কা ট্রাম্পও নিশ্চয়ই ফেসবুকে সুন্দর, হৃদয়ছোঁয়া একটি পোস্ট লিখতেন!
References:
[1] Bangladesh Press Information Department. “Life Sketch of Cultural Affairs Minister Asaduzzaman Noor.” Official ministerial biography. Open source
[2] Reazul Bashar, bdnews24.com (29 March 2014). “Noor ‘made money’ from record bid.” Contemporary reporting on the 2014 event contracts and Noor's corporate positions; includes a response from Asiatic's chairman. Open source
[3] Laws of Bangladesh. Constitution of the People’s Republic of Bangladesh, Article 147(3). Open source
[4] The Daily Star (29 July 2025). “ACC sues Asaduzzaman Noor.” Reports the ACC case and allegations. Open source
[5] Dhaka Tribune (29 July 2025). “ACC files graft case against Asaduzzaman Noor.” Reports alleged Tk 5.37 crore unexplained wealth and Tk 158.78 crore suspicious transactions. Open source
[6] Bangladesh Sangbad Sangstha (29 July 2025). “ACC files graft case against Asaduzzaman Noor.” State news agency report of ACC statement. Open source
[7] bdnews24.com (14 December 2013). “Asaduzzaman Noor’s convoy attacked.” Contemporary report on the Ramganj Bazar clash and casualties. Open source
[8] Human Rights Watch (29 April 2014). “Democracy in the Crossfire: Opposition Violence and Government Abuses in the 2014 Pre- and Post-Election Period in Bangladesh.” See section “Illegal Arrests and Killing of Atikur Rahman, Golam Rabbani, and Mohidul Islam, Nilphamari District.” Open source
[9] UNB (17 September 2024). “Asaduzzaman Noor accused in BNP leader’s 2014 murder.” Reports Shahinaz Begum’s complaint and the court’s action. Open source
[10] The Daily Star (17 September 2024). “Asaduzzaman Noor sued for BNP leader’s murder in 2014.” Reports the complaint naming Noor and 41 others. Open source
[11] Odhikar / FIDH. “Annual Human Rights Report 2014.” Further contemporaneous documentation relating to the Nilphamari incident and deaths. Open source
[12] India Today (5 August 2024). “We failed to understand pulse of people: Awami League MP on Bangladesh crisis.” Interview with Asaduzzaman Noor. Open source
[13] US Department of State. “2018 Country Reports on Human Rights Practices: Bangladesh.” Reports that the December 2018 election was not considered free and fair and was marred by reported irregularities. Open source
[14] Human Rights Watch (2 January 2019). “Bangladesh: Election Abuses Need Independent Probe.” Reports allegations of vote-rigging, intimidation and other election abuses. Open source
[15] The Daily Star (4 January 2026). “75% of disappearance survivors Jamaat-Shibir, 68% of those still missing are from BNP.” Reports the Commission of Inquiry's final report: 1,913 complaints, 1,569 verified as enforced disappearances. Open source
[16] bdnews24.com (4 January 2026). “Disappearance orders came from ‘highest level of Awami League government’: inquiry.” Reports the Commission's findings and scope. Open source
[17] UN Human Rights Office / UN Bangladesh (12 February 2025). “Bangladesh: UN report finds brutal, systematic repression of protests, calls for justice for serious rights violations.” UN estimate of up to 1,400 deaths between 1 July and 15 August 2024. Open source
[18] The Daily Star (December 2018). “Of couples and their wealth.” Analysis of election affidavits, including Noor’s declared income and assets. Open source
[19] European Union Election Expert Mission (2024). “Bangladesh 2024: Final Report.” Context on the 7 January 2024 election; use only if discussing the 2024 election, not Noor's personal role. Open source"
—লেখক: Fawaz Rob (https://www.facebook.com/share/1E8km4zb8D/)
১. ... একজন বাকের ভাই: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_23.html?m=1