যিনি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন বা (মেজর আখতারুজ্জামান) নামে অধিক পরিচিত।
আমাদের প্রজন্মের কাছে তিনি পূর্বে কোন দল করতেন তা ছাপিয়ে যায়, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা! আমাদের বড় আবেগের জায়গা। এই মানুষটাই তখন ব-ড়-ড় মুখ করে মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযুদ্ধ বলতেন:
"ন্যানো ড্রাইভটা ফেলেছি হারিয়ে/ যেটায়—রাখা ছিল ৮০০ কোটি/ ইউনিটের স্মৃতি জড়িয়ে থাকা/ গাদা-গাদা ডিএনএ প্রোফাইল।"
যিনি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন বা (মেজর আখতারুজ্জামান) নামে অধিক পরিচিত।
আমাদের প্রজন্মের কাছে তিনি পূর্বে কোন দল করতেন তা ছাপিয়ে যায়, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা! আমাদের বড় আবেগের জায়গা। এই মানুষটাই তখন ব-ড়-ড় মুখ করে মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযুদ্ধ বলতেন:
Mun Alert: (https://www.facebook.com/share/19X2ev8aB1/)
"কোন শিশু নিখোঁজ বা হারিয়ে গেলে মুহূর্তে শিশুটির তথ্য ভেসে উঠবে দেশজুড়ে ৭০০+ ওয়ালটন প্লাজার ডিসপ্লেতে থাকা টিভির স্ক্রিনে। চলুন জেনে নিই মুন অ্যালার্ট ও ওয়ালটন প্লাজার এই পার্টনারশিপ কিভাবে কাজ করবে ।
একটি শিশু নিখোঁজ হলে প্রথম ৩ ঘণ্টা সব চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে প্রতিটি সেকেন্ড মিনিটকে কাজে লাগাতে হবে শিশুকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য । বাবা মা পরিবার ও পুলিশের পাশপাশি কমিউনিটিকে যুক্ত করতে হবে নিখোঁজ শিশুটিকে খোঁজার এই মিশনে ।
কোন শিশু হারিয়ে গেলে আপনি শিশুটির ছবি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য নিকটস্থ Walton Plaza জমা দিলেই মুহূর্তে ছড়িয়ে যাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথবা আমরা প্রায় ফেসবুকে দেখি রাস্তায় কোন শিশুকে কান্না করতে যে তার বাবা মাকে হারিয়ে ফেলেছে মোবাইল নাম্বার বা ঠিকানা ঠিকমত বলতে পারছে না। এমন পরিস্থিতে আপনি থানা অথবা নিকটতম ওয়ালটন প্লাজায় শিশুকে নিয়ে গেলে সাহায্য পাবেন। মুন অ্যালার্ট এর ভলান্টিয়রা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করবে। এছাড়া আমাদের টোলফ্রী হেল্পলাইন 13 2 19 নম্বরে কল করে তথ্য দিলেও হবে।
একই সঙ্গে শিশু নিখোঁজ প্রতিরোধে বিভন্ন সচেতনতা মূলক উদ্যোগ গ্রহন করা হবে এই লক্ষ্যে গত (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওয়ালটন করপোরেট অফিসে ওয়ালটন প্লাজা এবং মুন অ্যালার্টের মধ্যে এক পারস্পরিক সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রায়হান এবং মুন অ্যালার্ট এর প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠান জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সাদাত রহমান।
এই মুহূর্তে স্বল্পপরিসরে চালু করা হয়েছে অতিদ্রুত দেশব্যাপি ব্যাপক পরিসরে বাস্তবায়ন করা হবে। ওয়ালটনকে বিশেষ ধন্যবাদ আমাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য এইভাবে আমরা সকলে মিলে এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো যেন ১টি শিশু এক মুহূর্তের জন্য হারিয়ে না যায় ।"
#Zero_Missing_Children
লেখা: Mun Alert: (https://www.facebook.com/share/19X2ev8aB1/)
...
বাচ্চারা কিভাবে হারায় তার একটা অসাধরণ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে এখানে:
মামুনুর রশীদ হালে একটা নাটক করেছেন যেখানে তিনি কমবয়সী একটা মেয়েকে বিয়ে করেন। এই নাটকটিকে পাবলিককে খাওয়াতে বেচারা মামুনুর রশীদকে অনেক কেরামতি করতে হয়েছে। চিকন-চিকন ঠ্যাং (দৃশ্যমান ১টা কিন্তু বাস্তবে ২টা) বের করতে হয়েছে!
আমরা ক্লিকবেইটের সঙ্গে পরিচিত! 'সাকিবুল হাসান এটা কী করলেন' বা 'অমুক নায়িকা কেন ইয়ে খুললেন'! ক্লিক করে দেখা যাবে ফালতু তথ্য দিয়ে ভরা—কাজের কথা কিছুই নেই! অথবা মামুন-লায়লা, তিসা-মোস্তাকের নষ্টামি নিয়ে [২] আমরা গা করি না! অবশ্য এদেরকে গুরুত্ব না-দিয়ে আমরা এদের মত অসংখ্য ভাগাড়ের পোকা তৈরি করেছি।
কিন্তু তাই বলে মামুনুর রশীদ! সিরিয়াসলি? এই যে তার কো-আর্টিস্ট যা বলছে বা অন্যত্র যা হচ্ছে তা তিনি জানেন না এটা বিশ্বাস করা কঠিন। আসলে তিনি এই খ্যাতি (পড়ুন, ভাগাড়ের খ্যাতি) উপভোগ করছেন। তার ভাষায় এটা নাটককে কেবল নাটকীয় করাই না, প্রমোশনাল কাজ!
আহা, নাটকের নাম, 'আমরা ভাইরাল'! কতটা অরুচিকর হলে মামুনুর রশীদের একটা নাটকের নাম হয়, 'আমরা ভাইরাল'। অন্যদের কথা জানি না কিন্তু আগামীতে মামুনুর রশীদের কোন নাটকের নাম যদি হয়, 'আমরা চুতিয়া', আমি অন্তত অবাক হব না...।
...
লেখাটা এখান এসে সমাপ্ত হলে ভাল লাগত কিন্তু মামুনুর রশীদের মেয়ের আবেগঘন এই ভিডিও ক্লিপটা এক্ষন-মাত্র দেখে মনটা বিষন্ন হলো!
আচ্ছা, শ্রদ্ধেয় মামুনুর রশীদ, আপনি আপনার মেয়ের চোখে চোখ রাখেন কেমন করে! বুকে হাত দিয়ে বলেন তো, লাজ হয় না?
সূত্র:
১. মামুনুর রশীদের রুচির দুর্ভিক্ষ: https://www.ali-mahmed.com/2024/04/blog-post.html?m=1
২. এই সমস্ত জন্তুগুলোকে আইনের খাঁচায় আটকানো আবশ্যক: https://www.ali-mahmed.com/2026/03/blog-post_13.html?m=1
ঈশপের জোঁকের গল্পটা তো আমরা সবাই জানি! জোঁক-ভর্তি নদী সাঁতরে পার হতে হবে। একজন যখন পার হচ্ছে, পাড়ে দাঁড়ানো লোকজনেরা এই বেকুবকে দেখে হতভম্ব হয়ে গেল। কারণ গা-ভর্তি জোঁক অথচ সে একটাকেও ফেলার চেষ্টা করছে না। নিদেনপক্ষে মুখে একটা 'হুশ কুত্তা' বা 'হুশ জোঁক' শব্দও উচ্চারণ করছে না!
সবার হইচই যখন আকাশে উঠল তখন সে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল, লাভ কী! একটা ফেললে আরেকটা সেই জায়গায় আসবে—নতুন করে রক্ত খাওয়া শুরু করবে! তারচেয়ে যেগুলো ঝুলছে, থাকুক—রক্ত খেয়ে এদের পেট ঢোল হয়ে আছে। আর রক্ত খাওয়ার জায়গা নাই...! আমাদের দেশে ঈশপ এসেছিলেন কিনা এ তথ্য নাই কিন্তু তাঁর জোঁকগুলো দান করে গেছেন!
আর ওই এলাকার সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলছেন:
হানিফ (সন্ত্রাসী) আমার মামাশ্বশুরের ছেলে আমার নামে প্রভাব খাটান কিনা জানি না।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যকে কেবল বহিষ্কার করতে হবে এমনই না জড়িত প্রমাণ হলে গ্রেফতার করতে হবে!
এরা সব তছনছ করেছে। হারিয়ে গেছে রেজিষ্টার খাতা। সেখানে লিপিবদ্ধ ছিল শিশু-রোগীদের নাম।
...
শেখ হাসিনার সময় যেমন গুম [১] শিল্পের পর্যায়ে চলে গিয়েছিল তেমনি এখন দখল-চাঁদাবাজ, প্রায় শিল্পের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আসলে প্রকৃতি শুন্যস্থান পছন্দ করে না!
কিছু নমুনা:
মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হবে!
হেনেস্তার প্রতিবাদে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে তারা!
'তারা'! তারা, কারা-কারা? এই ছবিটা মতি ভাই নিজেই তুলেছেন সম্ভবত। ওয়াইড এঙ্গেলে বাকী অন্যদের আনতে পারেননি!
'শ্লা, জানিস, ফকিন্নির পোলার উপর যখন গাড়িটা উঠে গেল ফট করে খুলি ভাঙ্গার শব্দ হলো। তুই যদি গলগল করে রক্ত বের হওয়া দেখতি; শালা, খেত কী! এতো রক্ত আসে কোত্থেকে! হোয়াডা সিন, ব্রো! ফা... মাই আ্যস, রক্ত-মাংস লেপ্টে টায়ারের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিল...! ইয়ো নো, ইটস আ ম্যাটার অব 'নাইন হান্ড্রেড কে', ব্রো'!
কেন? কারণ তিনি একজন আওয়ামীলীগের ডাই হার্ড কর্মী! একজন কঠিন দলবাজ যিনি দলের কোন নেতাকে কাউকে খুন করতে দেখলেও উদাস হয়ে আকাশের সৌন্দর্য দেখে বিড়বিড় করবেন: 'এটা খুন না, এটা মুন'! তিনি অপ্রতিমের পরোক্ষ খুনি!
আর আমরা, 'সাধারণ তামাশাবাজ', পূর্বে শিবির-বিএনপি'র নামে কাউকে মেরে ফেললে নির্বিকার ভঙ্গিতে আকাশ দেখতাম; এখনও আকাশ দেখি নিষিদ্ধ সংঘটন-আওয়ামীলীগ নামে কাউকে মেরে ফেললে। আকাশ দেখতে-দেখতে আমরাও পরোক্ষ খুনি হয়ে যাচ্ছি।
এখন ভার্চুয়াল জগতে লোকজন পারে না নগ্ন হয়ে যেতে। এখানে কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা—কোনটা এআই, কোনটা এআই না এটা বোঝা প্রায় অসম্ভব! আবার কোনটা মেকি, কোনটা আসল ভিডিও ক্লিপ এটাও ধরা মুশকিল!
আমদের দেশের সেরা সন্তান যাকে আমরা কর্ণেল অলি নামে চিনতাম এখন 'নষ্ট অলি' নামে চিনি!
লেখক: Taimoor Mahmud Shomik
"থানার ডিউটি অফিসার আমাকে বলেছিলেন, 'চব্বিশ ঘণ্টা দেখেন। বাচ্চা রাগ কইরা কোথাও হয়তো গেছে, ঠিকই ফিরা আসবো'।
আমার ছেলে ফিরে ছিল। ঠিক একচল্লিশ দিন পর। আমার দোকান থেকে সাতশো গজ দূরের একটা আধাপাকা বিল্ডিংয়ের নিচতলা থেকে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, তার আঠারো দিন আগেই ও মারা গিয়েছিলো। ওই আঠারো দিন আমরা বিকাশে ওর মুক্তিপণের টাকা পাঠিয়েছি।
আমার দোকান বনশ্রীর সি ব্লকে। মোবাইল ফোন, কাভার, চার্জার আর ফ্লেক্সিলোডের দোকান। বারো বছর ধরে ওই এক জায়গাতেই বসি। এলাকার লোকে আমাকে নামে না চিনলেও, ফোনের দোকানদার হিসেবে ঠিকই চেনে।
আরহামের স্কুল ছুটি হতো পৌনে দুইটায়। বাসায় না-গিয়ে ও সোজা দোকানে চলে আসত। স্কুলব্যাগটা কাউন্টারের নিচে ছুঁড়ে ফেলে টুলে উঠে বসত। তারপর আপনমনে গোছাতে লেগে যেত চার্জারের বাক্স।
ওর বয়স সাত। পড়ে ক্লাস টু’তে। গোছানোর নামে জিনিসপত্র আরও এলোমেলো হয়ে যেত। আমি কিছু বলতাম না।
ওর ডান পায়ের গোড়ালিতে একটা কালো সুতা বাঁধা থাকতো। জন্মের সাতদিনের মাথায় ওর মা বেঁধে দিয়েছিলো, মানুষের নজর যেন না-লাগে সেই অভিপ্রায়ে।
ক্লাস টুতে উঠে ছেলেটা লজ্জা পেতে শুরু করলো। একদিন বললো, 'আব্বু, বন্ধুরা হাসে। খুলে ফেলি'?
ওর মা রাজি ছিলো। কিন্তু বাধা দিয়েছিলাম আমি। বলেছিলাম, থাক না বাপ। কী এমন ক্ষতি করতেছে!
দোকানে আমার সাথে একটা ছেলে কাজ করতো। ওর নাম সোহাগ। বয়স হবে তেইশের মতো। বাড়ি জামালপুরে। তিন বছর ধরে কাজ করছে।
দুপুরে আমরা দুইজন একসাথে ভাত খেতাম। দুই ঈদের নতুন জামা আর বোনাস দিতাম নিজের ছোট ভাইয়ের মতো করে। আরহাম ওকে ডাকতো সোহাগ কাকা। গত ঈদে সোহাগ নিজের টাকায় ওকে একটা খেলনা বন্দুক কিনে দিয়েছিলো।
ঘটনাটা ঘটলো মার্চের দশ তারিখ, দুপুর আড়াইটার সময়। দোকানে তখন দুইজন কাস্টমার। একজনের সাথে সেকেন্ড হ্যান্ড একটা ফোনের দরদাম চলছিলো।
আরহাম টুল থেকে নেমে আমার পাঞ্জাবি ধরে টান দিলো, 'আব্বু, ললি আইসক্রিম খামু'।
মানিব্যাগ থেকে তাকে একটা বিশ টাকার নোট বের করে দিলাম। সোহাগ বললো, 'মামা, আমি নিয়া যাই। পাশের দোকানই তো'।
আমি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম। চোখ তখন কাস্টমারের হাতে ধরা ফোনটার দিকে। ব্যস এটুকুই।
কুড়ি মিনিট পর সোহাগ একা ফিরে এলো। মুখটা তখন তার রক্তশূন্য। হাঁপাতে-হাঁপাতে বললো, 'মামা, আপনার পোলায় তো মাঠের দিকে দৌড় দিলো! আমি পিছন পিছন ছুইটা গেছি, পাই নাই'!
আমি দোকান খোলা রেখেই দৌড়ে বের হয়েছিলাম।
সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা পুরো সি ব্লক তোলপাড় করে ফেলেছি। সবার আগে দৌড়াচ্ছিল সোহাগ। গলির মুখে দাঁড়িয়ে ছেলেটা হাউমাউ করে কেঁদেছিলো। সন্ধ্যা ছয়টায় আমি থানায় গেলাম। সোহাগ গেলো আমার সাথে।
ডিউটি অফিসার মুখ তুলে না তাকিয়ে বললেন, 'এতো অস্থির হওয়ার কিছু নাই! চব্বিশ ঘণ্টা পার হোক'।
আমি শঙ্কিত গলায় বললাম, 'স্যার, বাচ্চাটার বয়স সাত বছর'!
উনি খাতার পাতা উল্টাতে-উল্টাতে বললেন, 'আরে মিয়া, আপনের মতো রোজ দশজন আসে। বাচ্চা হারাইছেন আপনে, আমি কী করমু? যান, নিজেরা খোঁজেন। পাইলে আমারে জানাইয়েন'।
জিডিটা লেখাতে দুইদিন লেগেছিলো। মামলা হয়েছে আরও নয় দিন পর, এলাকার এক কাউন্সিলরের হাত ধরে। মাঝখানের ওই এগারোটা দিন আমার ছেলের খোঁজে কর্তৃপক্ষ এক পা ফেলেনি।
প্রথম ফোনটা এলো তিন নম্বর দিনে। একটা অচেনা নম্বর থেকে। ওইপাশের গলাটা কেমন ভাঙা ভাঙা, 'তোরপোলা আমগো হাতে। চাইর লাখ টাকা লাগবো। আর মনে রাখিস, পুলিশের কাছে গেলে লাশ ফেরত পাবি'।
আমি চিৎকার করে বলেছিলাম, 'ভাই, একবার আমার বাচ্চাটার গলাটা শুনান। একটাবারের জন্য শুনান গো, ভাই'!
লাইন কেটে গেলো পরমুহূর্তে।
কণ্ঠটা আমার কাছে কেমন চেনা-চেনা ঠেকেছিলো। আমি ভেবেছিলাম আটচল্লিশ ঘণ্টা না-ঘুমানোর জন্য মাথা আউলে গেছে।
বারো বছর ফোনের দোকান চালানো একজন মানুষ এই ব্যাপারগুলো বোঝে। আমি জানতাম নম্বরটা অন্য কারো এনআইডি দিয়ে তোলা। আমি এ-ও জানতাম বিকাশের প্রত্যেকটা লেনদেনের হিসাব বিকাশের সার্ভারে সাজানো আছে। ট্রানজেকশন আইডি, সময়, ক্যাশ আউটের এজেন্টের নাম, সব কিছু।
তদন্ত কর্মকর্তার হাতে আমি কাগজে লিখে সেই সমস্ত তথ্য ধরিয়ে দিয়েছিলাম।
উনি চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললেন, 'প্রসেস আছে ভাই। সিডিআর তুলতে উপরের অনুমতি লাগে। সময় লাগবো'।
সেই সময় আঠারো দিনে গিয়ে ঠেকেছিলো। টাকা আমি দিয়েছি। তিন কিস্তিতে সর্বমোট দুই লাখ চল্লিশ হাজার টাকা। দোকানের সব মাল বিক্রি করেছি। ওর মায়ের কানের দুল গেছে, গলার চেইন গেছে, হাতের দুইটা চুড়ি গেছে। শ্বশুরের কাছে হাত পেতেছি। দোকানের দলিল জমা দিয়েছি ব্যাংকে।
প্রত্যেকবার টাকা পাঠানোর পর ওরা বলতো, 'আইজ রাইতেই ছাইড়া দিমু। সকালে মোড়ে খাড়াইয়া থাকিস'।
আমি চল্লিশটা সূর্যোদয় ওই মোড়ে দাঁড়িয়ে দেখেছি। আরহামের মা দশদিনের মাথায় কথা বলা বন্ধ করে দিলো।
সে রোজ সকালে উঠে ছেলের স্কুল ড্রেসটা ইস্ত্রি করে রাখতো। টিফিন বক্সে রুটি আর ডিম ভরে সযতনে ঢুকিয়ে দিতো ব্যাগে।
আমি একদিন মেজাজ হারিয়ে বলেছিলাম, 'এইসব করতেছো ক্যান? মাথা খারাপ হইয়া গেছে তোমার'?
ও উদাস হয়ে শুধু বলেছিলো, 'ছেলেটা ফিরা আইসা খাইবো কী'?
ওই একচল্লিশ দিনে আমি একটা জিনিস অন্তত চার হাজারবার দেখেছি। দোকানের ক্যামেরার নয় সেকেন্ডের ফুটেজটা।
আরহাম বাঁ দিক থেকে ফ্রেমে ঢোকে, হাতে কুড়ি টাকার নোট। পেছনে সোহাগ। দুইজন দরজা দিয়ে বেরিয়ে ডানে মিলিয়ে যায়। মাত্র নয় সেকেন্ডে!
চার হাজারবার আমি ওই ফুটেজে অচেনা একটা মুখ খুঁজেছি। ব্যাকগ্রাউন্ডে কে দাঁড়িয়ে আছে, রাস্তায় কোন মোটরসাইকেল থেমে আছে, কার চোখ ছেলেটার দিকে।
প্রত্যেকবার আমার চোখ সোহাগের উপর থেকে অবচেতনভাবে সরে গেছে। কারণ ওইখানে অস্বাভাবিক কিছু ছিলো না। আমার দোকানের কর্মচারী আমার ছেলের হাত ধরে বের হচ্ছে। এর চেয়ে স্বাভাবিক দৃশ্য আমার জীবনে আর কী হতে পারে?
ওই ফুটেজ সোহাগ আমার পাশে বসে আমার সাথে দেখেছে। ঠিক কতোবার দেখেছে, আমি গুনিনি!
এই কয়দিনে ছেলেটা রোজ দোকানে এসেছে। ঝাঁপ খুলেছে, হিসাব মিলিয়েছে, মোড়ে গিয়ে চা এনেছে আমার জন্য। দুপুরে আমরা দুইজন এক তরকারিতে ভাত খেয়েছি।
মাছের বড় টুকরাটা ও প্রত্যেকদিন আমার পাতের দিকে ঠেলে দিতো। নরম গলায় বলতো, 'মামা, আপনে খান। আপনের শরীর ভাইঙ্গা যাইতেছে'।
![]() |
| ছবি: প্রতীকী |
পঁয়ত্রিশ নম্বর দিনে পুলিশ এজেন্ট পয়েন্টের ক্যামেরার ফুটেজ চাইলো। ওইদিনই সন্ধ্যায় সোহাগ দোকান থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি!
ধরা পড়লো তার ছয়দিন পর, জামালপুরে নিজের গ্রামে। ছেলেটা মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য এক দালালকে এক লাখ টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে বসে ছিলো। বাকি চার লাখ না-দিলে আগের টাকাটাও জলে যাবার সমূহ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো। দালাল নানা প্রকারের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার গলা চেপে ধরেছিলো তিনমাস ধরে।
আরহামকে ও নিয়ে গিয়েছিলো ডি ব্লকের একটা আধাপাকা বিল্ডিংয়ে। রাতে ওইখানে কেউ থাকে না। ও ভেবেছিলো মাত্র দুইদিনের মামলা।
জবানবন্দিতে ও বলেছে:
বাচ্চাটা কান্না থামাইতেছিলো না। খালি আব্বু-আব্বু করতেছিলো। পাশের প্লটে লোক আছিলো। আমি মুখ চাইপা ধরছিলাম শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়া, যতোক্ষণ না-পর্যন্ত নিস্তেজ হইয়া আসে! অবশ্য ওরে মারার পরেই ফোন দিছি। টাকাটা তো আমার লাগতোই।
ওই বিল্ডিংটার সামনে দিয়ে আমি রোজ যাতায়াত করতাম। বিল্ডিংটার দেয়ালে আমি নিজের হাতে আমার ছেলের নিখোঁজ হবার পোস্টার লাগিয়েছিলাম। সোহাগ আঠার ডিব্বা ধরে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো বিষণ্ণ বদনে।
আমাকে ডাকা হয়েছিলো লাশ শনাক্ত করতে। এর মাঝে আঠারো দিন পার হয়ে গেছে। মুখ দেখে চেনার মতো কিছু বাকি ছিলো না। ডাক্তার সাহেব চাদর সরালেন। ডান পায়ের গোড়ালিতে কালো সুতাটা তখনো বাঁধা।
আমি বললাম, 'জি, এইটা আমার ছেলে'।
তারপর ওইখানেই মেঝেতে বসে পড়লাম। যেই সুতাটা ছেলেটার পা থেকে আমি কাটতে দিইনি, শেষ পর্যন্ত ওইটাই আমার আত্মজকে চিনিয়ে দিলো।
দাফনের পর আরহামের মা তিনদিন একটা কথাও বলেনি। চতুর্থ দিন সকালে উঠে আরহামের স্কুলের শার্ট যত্ন নিয়ে ইস্ত্রি করা শুরু করলো।
আমি দৌড়ে গিয়ে ওর হাত ধরে ফেললাম। ছেলেকে হারাবার পর থেকে আর ওর চোখে চোখ রেখে কথা বলা হয়নি আমার।
সেই মামলার চৌদ্দ মাস পার হলো। চার্জশিট দিতে সাত মাস লেগেছে। সাক্ষী হাজিরার তারিখ পড়ে, সাক্ষী আসে না। উকিল বলেন, 'ধৈর্য ধরেন, রায় একদিন হবেই'।
যেই ডিউটি অফিসার আমাকে চব্বিশ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলেছিলেন, তার কিচ্ছু হয়নি। উনি এখনো বহাল তবিয়তে সেই থানায় আছেন। একদিন কোর্টের বারান্দায় ওনার সাথে চোখাচোখি হলো।
উনি আমাকে চিনতে পারেননি। নিখোঁজ হবার পোস্টারে আমার দোকানের নম্বরটা প্রিন্ট করা ছিলো।
পোস্টারগুলো এখনো বনশ্রীর দেয়ালে ঝুলে আছে। রোদে রং উঠে গেছে, কোণাগুলো ছিঁড়ে গেছে।
এখনো মাসে দুই তিনটা করে ফোন আসে। অচেনা মানুষেরা দরদভরা কণ্ঠে বলে:
ভাই, পোস্টারটা দেখলাম। বাচ্চাটা কি পাইছেন?
আমি বলি, 'জি, পাইছি'।
বেশিরভাগ মানুষ গলার স্বর শুনেই বুঝে যায়। আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। মাঝেমধ্যে এমন ফোন আসে, যেখানে ওইপাশের মানুষটার গলা কাঁপে, 'ভাই, আমার মাইয়াটারে পাইতেছি না তিনদিন ধইরা। আপনে তো এইসব পরিস্থিতি পার করছেন। আমি এখন কী করমু'?
আমি তাদের একটাই কথা বলি, থানায় গিয়া জিডি না, সরাসরি মামলা করবেন। আর কেউ যদি বলে চব্বিশ ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, তার কথা বিশ্বাস করবেন না'।
ওই নয় সেকেন্ডের ভিডিওটা আমার ফোনে এখনো আছে। অসংখ্যবার চেষ্টা করেও ডিলিট করতে পারিনি। একটা কথা এতোক্ষণ বলা হয়নি।আরহাম জানতো, আমি ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে নিরাপত্তার খাতিরে দোকানের ক্যামেরা দেখি। তাই দোকান থেকে বের হওয়ার সময় ছেলেটা রোজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়তো।
ওইদিনও নেড়েছিলো। ছয় সেকেন্ড পার হবার মুহূর্তে।
আমি তখন ফোনটা হাতে নিয়েই দাঁড়িয়ে ছিলাম। একজন কাস্টমারের সাথে দুইশো টাকা নিয়ে দরদাম করছিলাম।
আমার ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছিলো। আর আমি একটাবারের জন্য তাকাইনি।
আরহামের বাবা, তাইমুর মাহমুদ শমীক, ১৯/৯/২০২৬"
—লেখক: Taimoor Mahmud Shomik ( https://www.facebook.com/share/1GmNKctW18/)
সহায়ক সূত্র:
১. ইউনূসনামা: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_10.html?m=1
পিচাশ এবং পিশাচ—লিখতে-বলতে গিয়ে আমি গুলিয়ে ফেলি। এবার ভাল করে অভিধান দেখে নিয়েছি। ভয়ে-ভয়ে লিখছি কারণ এমন-একজন বিখ্যাত, বিপ্লবীকে নিয়ে লিখতে হচ্ছে!
পিশাচ নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। যিনি আসিফ নজরুলের ছাগল কেবল খেয়েই ফেলেননি। ভয়াবহ-নৃশংস ঘটনাও ঘটিয়েছেন। চোরদের প্রস্তুতি থাকে না তাই ভোঁতা বটি দিয়ে জবাইয়ের চেষ্টা বিফল হলে অনেক পরে কসাইয়ের কাছ থেকে ধারালো ছুরি এনে ছাগলটিকে জবাই করা হয়। এরিমধ্যে প্রাণীটি পশুদের কাছ থেকে অবর্ণনীয় যন্ত্রণা ভোগ করে।
আসিফ নজরুলের নিজের মুখে আমরা ঘটনাটা শুনি:
পিশাচদের মধ্যেও আবার 'ভাল পিশাচ' 'মন্দ পিশাচ' আছে যদিও এদের আমরা দেখিনি কিন্তু জানি। আজ 'নগ্ন পিশাচ' দেখলাম।
সোস্যাল মিডিয়া বাজারের মত। বাজারের যেমন একটা নিজস্ব ভাষা আছে সোস্যাল মিডিয়াতেও। ইচ্ছে হলো আপনি দিগম্বর হয়ে ঘুরে বেড়ালেন আর তাচ্ছিল্য করে বললেন, 'মেরা মড়জি'-আমার ইচ্ছা। হবে না! হয় আপনাকে আইনের আওতাও নিয়ে আসতে হবে অথবা পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি। চুজ, হেলথ অর টোব্যাকো না, টোব্যাকো অর টোব্যাকো—এই খাঁচা অথবা ওই খাঁচা।
সম্প্রতি এই ছেলেটা তার বোনকে নিয়ে এটা পোস্ট দিয়েছে। এটা এত বেশি ছড়িয়ে গেছে যে এখন ব্লার করে দিলেই কী আর না-দিলেই কী!
চমৎকার একটা কাজ হয়েছে! একে আটক করা হয়েছে। আদালত একে জামিনও দিয়েছেন। তাতে সমস্যা নেই, বয়স বিবেচনায় সেটা দেয়া যেতেই পারে।
আমাদের দেশে এখন এইগুলো দেখার জন্য একটা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ থাকাটা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। এখানে এসে যা-খুশী তাই করে যাচ্ছে [১]। এডলফ খান যায় তো রুমি কারিম আসে!
এর সুন্নত হয়েছে কি না কে জানে, এ আবার সুন্নতি-কলা খায়। :
১. এই জন্তুগুলোকে...: https://www.ali-mahmed.com/2026/03/blog-post_13.html?m=1
২. বিজ্ঞানী...: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_09.html?m=1