Search

Thursday, March 26, 2026

ইরান—ইসরাইল—ফিলিস্তিন এবং 'বাঞ্চো...ট্রাম্প'!

'[*]বাঞ্চো...ট্রাম্প' যে কী পরিমাণ চুতিয়া এর ভাল একটা উদাহরণ এটা:

'আমি এবং ইরান মিলে আমরা হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করব', ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর ইরান ট্রাম্পকে নিয়ে 'মজাক'-উপহাস করেছে:
কী অসাধারণ আইডিয়া! গাড়িতে স্টিয়ারিং দুইটা। যাত্রীর আসনের খেলনা স্টিয়ারিং ট্রাম্পের জন্য, হাহাহা!

আমেরিকাকে উদ্দেশ্য করে গোটা বিশ্বকে ইরান এই ম্যাসেজ দিয়েছে।
এই ছোট্ট ক্লিপে এরা 'এপস্টিন' প্রসঙ্গও নিয়ে এসেছে:

'বাঞ্চো...নেতানিয়াহু'-এর পক্ষে ইসরাইল ইউনিসেফের কাছে বিচার দিয়ে চিঠি লিখেছে:
অথচ ইসরাইল-আমেরিকা মিলে প্রথমেই ইরানে মেরে ফেলল, স্কুলে, ১৬৫ জন শিশু:

ইরান শহীদ একেকটা বাচ্চার নাম মিসাইলে লিখে ছুড়েছে। জঙ্গলে জঙ্গলের আইন!:


আমরা হলে গভীর দুঃখে মাথা-গা দুলিয়ে রবীন্দ্র-সঙ্গীত গাইতাম, গভীর দরদ দিয়ে।
বা আমাদের দেশের মৌলভি সাহেবরা বাংলাদেশের ইসরাইলি দূতাবাস ঘেরাও করার জন্য  একটা কঠিন কর্মসূচি দিতেন। আমাদের দেশে এদের দূতাবাস আছে কি নাই এই তথ্য জানার বা জ্ঞান অর্জনের তকলিফে এরা আর যাননি!

আহারে, ইউনিসেফ! বিস্মৃত হয়েছে, ভুলে গেছে ফিলিস্তানি শিশুদের কথা:

ইসরাইলের এই মুখপাত্র দেখে যাওয়ার জন্য বলছে! আহারে, আমিও এই গ্রহের সন্তান—তো ওভাবে চিন্তা করলে এ আমার কাছেও বিচার দিচ্ছে:
আহা, আমাদের কাছে না-বলে তোমার বাপ নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞেস করো না কেন, বাপু!
নেতানিয়াহু ভুলে গেছে সেই মায়ের আর্তনাদ, অভিশাপ! কেমন করে তার বাচ্চা অভুক্ত, রোজারত অবস্থায় মারা গেছে:

সেই এতিম সন্তান, যার হাতে রয়ে গেছে কেবল বাপের জুতা:

১৯৪৭ সালে জুইশরা রিফিউজি হয়ে এসেছিল:
মানব-সভ্যতাকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য কী করেনি, এই রিফিউজিরা!:



পৃথিবীতে এদের মত হিংস্র জাতি নেই সম্ভবত। ফিলিস্তানিদের বাড়িঘরের  উপর নর্দমার পানি নিক্ষেপ করছে!

ভাবা যায়, 'বাঞ্চো...নেতানিয়াহু' সিরিয়াতে ফসলের জমিতে বিমানে করে ক্যামিকেল স্প্রে করে ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে!

আমার ধারণা, ৮৬ বছরের খামেনি শান্ত ভাবে, মুচকি হেসে বিদায় নিয়েছেন:
অজস্র খামেনির জন্য জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন!

বিষাদের সংগে বলি, ইসরাইল, এরা এই গ্রহে বসবাসের অনুপযুক্ত! বেচারা এই গ্রহ, এদের ভার সইতে পারছে না!

* সদয় অবগতি: 'বাঞ্চো' শব্দটা অভিধানে খুঁজে লাভ নাই, পাওয়া যাবে না! অভিধানে কাছাকাছি একটা শব্দ আছে, বাঞ্চোত। আমি আবার ওইটার ভাল অর্থ জানি না—খারাপ কিছু হওয়ার সম্ভাবনা আছে; সেই কারণে বলি না, লেখার চেষ্টা করি না।
তাছাড়া ট্রাম্প-নেতানিয়াহু একই দেশের দুই প্রধান ব্যক্তি! এবং সম্মানিত মানুষ। তাঁদের বেলায় অভিধানের ওই শব্দটা ব্যবহার করা চলে না...।

** এই লেখা অসমাপ্ত। সময়ে-সময়ে লেখা-ছবি-ভিডিও ক্লিপ যোগ হবে।


Wednesday, March 25, 2026

জেনারেল মাসুদ—ভিয়েতকং গেরিলা—গোলাম আযম!

এক-এগারো'র প্রয়োজন ছিল, কি ছিল না; এখানে এই আলোচনা জরুরি না। ওই সময়ের আলোচিত এক নাম 'জেনারেল মাসুদ'। এই নামেই মুখে-মুখে চালু ছিল নামটি। এটাও বলা হয়ে থাকে, সেনাপ্রধান মইনের স্থলে জেনারেল মাসুদ হলে এই দেশের ইতিহাস অন্য ভাবে লেখা হত! এই তর্কও থাকুক আপাতত।

এক-এগারো বা এর পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে হালে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত রিমান্ডও মঞ্জুর করেছেন। তিনি কি অপরাধ করেছেন সেটা আদালতের বিচার্য বিষয়! ফায়ারিং স্কোয়াডে তিন-নলা বন্দুকে বিচার করা হবে নাকি মুক্তি দিয়ে হালুয়া-পুরি খাওয়ানো হবে, এই নিয়েও কোন সমস্যা নাই।

কিন্তু..., এরই মধ্যে ঘটে গেছে এই ভয়াবহ-এক অন্যায়।

জানি-জানি, অনেকে ঠোঁট উল্টে বলবেন, এ আর নতুন কী—অতীতে কত দেখলুম! হ্যাঁ, প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সময় আমরা গন্ডায়-গন্ডায় এই সব দেখেছি! সে ভিন্ন, কারণ ওই সময় আইনের কোন বালাই ছিল বলে তো মনে হয় না এবং ইউনূস স্বয়ং গা দুলিয়ে উস্কানি দিয়েছেন। আর সেসময় আওয়ামীলীগ বলে যে-কাউকে যা-খুশী করা গেছে; যেমনটা পূর্বে শিবির বলে!

তো, ওসময়ও একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেত, আদালতে উত্থাপন করার সময় যে অনাচারগুলো করা হতো, পুলিশ কী করে? আচ্ছা, ভিয়েতকং গেরিলার মত ওরা কী পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে এই সমস্ত অনাচার করে নিমিষেই উধাও হয়ে যায়!

ওয়াল্লা, এরা তো ভিয়েতকং গেরিলা না! কী চমৎকার করে কোর্ট-চত্বরে মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে এই লোক সাক্ষাৎকার দিচ্ছে, মাসুদকে কয়টা পচা ডিম মেরেছে, কোন এঙ্গেলে মেরেছে, কোন হাত দিয়ে...!

অনেকে নাক ঝেড়ে বলবেন, সমস্যা কোথায়? সমস্যা আছে, ভয়াবহ সমস্যা! কারণ জেনারেল মাসুদ, এই মানুষটা রাষ্ট্রের কাস্টডিতে ছিলেন। বিচারে শাস্তি দেওয়ার আগ-পর্যন্ত এই দেশের সমস্ত অস্ত্র, সব শক্তি এঁকে বা তার স্থলে অন্য যে-কাউকে রক্ষা করবে।

আমাদের এক অন্ধকার দিক, জেলহত্যা—ওই জেলহত্যা এবং জেনারেল মাসুদ বা অন্য কারো এমন হেনস্তা একই ধরনের অপরাধ! কতটুকু কম-বেশী সে ভিন্ন আলোচনার বিষয়!

আপনাদের কি মনে আছে গোলাম আজমের বিচার-ফাঁসির জন্য লক্ষ-লক্ষ মানুষ শাহবাগে জড়ো হয়েছিল। উত্তাল সমুদ্রের মত মানুষ!

বেশ-বেশ! তা গোলাম আজম তখন কোথায় ছিলেন? এই লক্ষ-লক্ষ মানুষের কাছ থেকে মাত্র পঞ্চাশ কদম দূরে। শাহবাগেই, হাসপাতালে। একটা করে পানির বোতল ছুড়ে মারলে গোটা হাসপাতাল ভেসে যেত! 

এই পঞ্চাশ কদম কিন্তু কেউ অতিক্রম করার কথা কল্পনাও করেননি! এই পঞ্চাশ কদমের মাঝেই কিন্তু গোটা বাংলাদেশ হিমালয়ের মত দাঁড়িয়ে ছিল।


 

Tuesday, March 24, 2026

আন্টাঘর মাঠ—ভিক্টোরিয়া পার্ক—বাহাদুর শাহ পার্ক।

আর্মেনিয়ানদের বিলিয়ার্ড (আন্টা) খেলার জায়গা সংলগ্ন মাঠ ছিল বলে এর নাম ছিল 'আন্টাঘর'! কালে-কালে এর নাম হলো ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক!

১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে খুন করে। এরপর এই মাঠে তাঁদেরকে গাছে-গাছে ঝুলিয়ে দেয়! কাক ঠুকরিয়েছে, ঈগল চোখ গলিয়ে দিয়েছে কিন্তু কেউ লাশ নামাতে সাহস করেনি!

প্রায় একশো বছর পর এই নৃশংসতার স্মরণে এখানে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়:


এখানে যে শত-হাজার মানুষ এসেছে বাহাদুর শাহ পার্ক দর্শনের জন্য না কিন্তু
আমার ধারণা, এখানকার অধিকাংশ মানুষই জানেন না কেন এই জায়গাটা কুখ্যাত-বিখ্যাত! বিশেষ করে এই প্রজন্ম। ওদিন হাজার-হাজার শিক্ষার্থী এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে। এরা জানেই না এদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে কী নৃশংস-অমানবিক-অভূতপূর্ব আচরণ করা হয়েছিল!
মনুমেন্টে কি লেখা আছে এটা বোঝা সাধ্য কার!
আহা! যেটা করা যেত বিশাল একটা বিলবোর্ডে এই অভূতপূর্ব ঘটনা বড়-অক্ষরে লিখে, আমাদের সিপাহিরা গাছে-গাছে ঝুলছে এর প্রতীকী ছবি এঁকে রাখা।
এই যে হাজার-হাজার বাচ্চারা এখানে এসেছে পরীক্ষা দেওয়ার নাম করে—এর সামনে দাঁড়িয়ে চোখ বড়-বড় করে তাকিয়ে থাকত। অন্য রকম আবেগে কাঁপত! এটাও জানত, খুনি-চোর-ডাকু-লুটেরা ইংরেজ [], মানবতার ফেরিওয়ালারা কেমন হিংস্র-অমানুষ ছিল! 
আফসোস, এই প্রজন্ম কিছু না-জেনেই বড় হচ্ছে। আসলে এদের জানাবার দায়-ইচ্ছা আমাদের নেই...।

সূত্র:
১. খুনি-চোর-ডাকু-লুটেরাhttps://www.ali-mahmed.com/2022/09/blog-post_10.html?m=1

Friday, March 20, 2026

অন্য ভুবন—পাকিস্তান—কোল্ড ব্লাডেড মার্ডারার!

অন্য ভুবনে কখনও ভ্রমণে গেলে ওই ভ্রমণের কঠিন নিয়ম হচ্ছে, ওখানে কোথাও অসঙ্গতি মনে হলেও 'এটা সরিয়ে-ওটা সরিয়ে' মাতব্বরি করা যাবে না। অযথা কিছুতেই হাত দেওয়া যাবে না! যেমন ধরুন, অকারণে আপনি ফট করে একটা কাক মেরে ফেললেন।

সর্বনাশ কিন্তু করে ফেললেন! ওখানেও একটা 'ট্রেরাম্প' আছে। প্রোগ্রামিংটা এভাবেই করা ছিল, যে কাকটাকে আপনি হত্যা করলেন সেই কাকটা ট্রেরাম্পের বালকবেলায় তার দু-চোখ গেলে দেবে। সে অন্ধ হয়ে গুলিস্থানের মত কোন-এক জায়গায় ভিক্ষা করবে।

কিন্তু এখন ফল হবে ভিন্ন, কালে-কালে ট্রেরাম্প বড় হবে এবং লক্ষ-লক্ষ মানুষ মেরে ফেলবে! প্রকারান্তরে আপনি একটা কাক হত্যা করে লক্ষ-লক্ষ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী হলেন।

যাই হোক, অন্য ভুবন বাদ এই ভুবনের কথা বলি। পাকিস্তান নামের দেশটার জনগণের কুৎসিত একটা অভ্যাস আছে। যত্রতত্র মুত্র-বিসর্জন করা। পার্লামেন্টে আইনবিদ দ্বারা আইন পাশ করার জন্য বিল উত্থাপিত হল:

যে বান... রাস্তায় মুত্র-বিসর্জন করবে তাকেই 'শুট-অন-সাইট'।

কিন্তু সংসদ সদস্যরা খানিকটা দ্বিধায় পড়ে গেলেন কারণ এদের মধ্যে একজন চৌকশ সামরিক কর্মকর্তাও আছেন। তাকে গুলি করা হবে, কি হবে না? এরিমধ্যে পার্লামেন্টে একটা গাধা ঢুকে পড়ে:

এটা দৈনিক কালবেলা'র ভিডিও ক্লিপ কিন্তু আমার ধারণা, এটা এ, আই-এর কেরামতি। তবে সত্য হলে মন্দ হত না! যদি বিল পাশ করে ওই সামরিক কর্মকর্তাকে মেরে ফেলা হত তাহলে এ আফগানিস্তানে গিয়ে বোমা ফেলে আসতে পারত না। হাসপাতালের ৪০০ রোগীর প্রাণ বেঁচে যেত:

* স্ক্রিনশট: ডি ডব্লিউ


Wednesday, March 18, 2026

রূপলাল হাউস বনাম 'জামাল হাউস'!

 

বলা হয়ে থাকে 'রূপলাল হাউজ' পূর্বে এমন ছিল। চোখ কপালে উঠার মত একটা স্থাপনা! 'গানাবাজানা', নাচানাচি, হাউকাউ তখন তো হরদম লেগেই থাকত। এখনও হাউকাউ লেগে থাকে তবে পিয়াজ-মরিচ-রসুনের দরদামে!


আহা, এটা একটা কী অসাধারণ দর্শনীয় স্থান হতে পারত অন্তত বিদেশী দর্শনার্থীদের কাছে। হায়, একটা জাতি কেবল অর্থ-সম্পদেই দরিদ্র হয় না, মননেও!

ভাবা যায়! এমন একটা অসাধারণ  স্থাপনা ঘুরে দেখা যাবে না, হাত দিয়ে ছোঁয়া যাবে না—আমি আমার পূর্বপূরুষের হাড় বুকে জাপটে ধরতে পারব না! ওরে, আমাদের সেনাবাহিনী দুম করে গুলি করে বসল, তখন? একটাই প্রাণ—একবার মরলে তো আর বাঁচব না।
ওরি আল্লাহ, আবার দেখি ভবনের ছবি তোলাও নিষেধ! এমনিতে কোন ভবনের ছবি তুললে সেটা হুড়মুড় করে দাঁড়ানো থেকে বসে গেছে বা লম্বা হয়ে শুয়ে পড়েছে এমনটা তো দেখিনি, শুনিনি! কে জানে, হতেও পারে এমনটা, বঙ্গালদেশ বলে কথা!

এমনিতে আমি ভয়ে-ভয়ে আছি! ছবি তুলে এই যে অপরাধটা করলুম তখন তো ওরা আমার নাগাল পায়নি এখন কী এই অপরাধে আমার বাসস্থান লক্ষ করে কামান দাগবে?

তো, মগজ-মননে দরিদ্র একটা জাতির অহংকার 'রূপলাল হাউজ' এমন করেই 'জামাল হাউজ' হয়ে যায়!


Saturday, March 14, 2026

দুধ ফেলে মুত খাওয়া জাতি!

 

ছোট-ছোট বাচ্চাগুলো এক ফোঁটা দুধের জন্য কী হাহাকার করছে অথচ এরা দুধ পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছে!

দুধ ফেলে এরা চুমুকে-চুমুকে মুত খাচ্ছে! শিক্ষিত সমাজ হয়তো মুত জিনিসটা  চট করে ধরতে পারবেন না—গরু যে মুত্র-বিসর্জন করে, ওটা। গরুরটা সম্ভবত মুত হবে না, হবে 'গোমুত'!

এমনিতে আমরা হলাম 'দুধ বেচে শুটকি খাওয়া জাতি' আর এরা হলো 'দুধ ফেলে মুত খাওয়া জাতি'! 
অবশ্য মুত খাওয়ার উপকারীতার তুলনা নেই, অতুলনীয়! নমুনা:
কত সহজে গ্যাস উৎপন্ন করা যায়! ড্রেনে পাইপ লাগিয়ে চুমুক দিলেই হয়!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আবিষ্কার করেছেন, বৃষ্টির মধ্যে রাডার অচল, তাও এটা বিমানবাহিনীর প্রধানকে শেখাচ্ছেন!

আবার এমন দিবাস্বপ্নও দেখা যায় যে, সমস্ত পৃথিবী হাতের মুঠোয় চলে এসেছে!

Friday, March 13, 2026

এই সমস্ত জন্তুগুলোকে আইনের খাঁচায় আটকানো আবশ্যক।

লায়লা-মামুন! বয়স্ক ধুমসি শিক্ষিত এক-মহিলা লায়লা, পোলা মতান্তরে নাতির বয়সি মামুনের সঙ্গে মাসের-পর-মাস, বছরের-বছরের পর ধরে খুল্লামখুল্লা যা করে গেল এ অকল্পনীয়! তাও বিবাহ-বহির্ভুত! বাংলাদেশে!

লায়লা-মামুনের পাশাপাশি নতুন ভার্সান চলে এসেছে! এদের আইনের আওতায় না-আনলে এই সংখ্যা জ্যামেতিক হারে বাড়বে, ঝড়ের গতিতে।

মোশকাত-তিশা! বিবাহিত কিন্তু একই ঘটনা! আচ্ছা, এই চুতিয়াদের কি পরিবার-পরিজন নাই!

এই যে, আরেকটা! মনিকা কবীর, এটা এসেছে রাশিয়া থেকে। এর সাথে আবার প্রায় সময়ই মা থাকে! মধ্য-রাস্তায় পোশাক পরিবর্তন, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে নাচানাচি করা, গায়ে পড়ে লোকজনের সাথে ঝগড়া লাগনো—সেটা আবার সোশ্যাল মিডিয়ার জাঁক করে বলে বেড়ায়!

তনি নামের এই মহিলা অফ-লাইন অন-লাইনে কাপড় বেচে। যতটা না বিক্রির জন্য হাত চলে তার চেয়ে চলে এর মুখ! খিস্তিখেউড় বস্তিবাসীকে ছাড়িয়ে যায়!

এডলফ খান নামের এই পুরুষ(!), এ নাকি বঙালদেশের সুদর্শন পুরুষ! ওয়াক!

রুমি কারিম নামের এই পুরুষ(!), এ নাকি ডিজাইনার! কোন চুতিয়ারা এদের পুরস্কার দেয়!
আর শুয়োরের ছানা মিডিয়াগুলোও! এই মিডিয়াগুলো পারলে এদের ইয়েতে বুম নিয়ে ঢুকে যাবে।
দেশে এখন কাক বেশি না মিডিয়া এটা গবেষণার বিষয়:


এটা কালের কন্ঠের মারাত্মক লেভেলের একটা খবর! এই খবরের এই জন্তুদের দেখা মেলে কেবল ইদ আসলে। প্রতিবার ইদের বাজেট ৪/৫ লাখ টাকা! ভাল কথা, এ 'টম-ফোর্ড' গায়ে না-মেখে কী চুলে দেয়! 
আর এর বাপ কত টাকা ট্যাক্স দেয় এটা আমাদের আয়কর বিভাগের পেটমোটা স্যারদের দেখা অতীব জরুরি।
যে দেশে সবচেয়ে বেশি দূর্নীতি হয় রমজান মাসে (ঘুষখোর শুয়োরের বাচ্চারা রোজা রেখে দেদারসে ঘুষ খায় বরং ইদ সামনে রেখে বেশী-বেশী খায়!) সেই দেশে ইদ নিয়ে এই সমস্ত নোংরামি হবে এ আর বিচিত্র কী! এই দুই ইদকে সামনে রেখে কতশত মানুষের চোখের জল ভেসে যায়, নর্দমায়! অথচ আগের ইদগুলো এমন ছিল না।
*(বাই দ্য ওয়ে, কালের কন্ঠ লেখার সময় আমি ভয়ে-ভয়ে থাকি। ভুলে 'ক'-এর স্থলে 'ব' লিখে ফেললে সর্বনাশ!)

এই সমস্ত জন্তুদের আয়ের উৎস কি, আয়কর দেয় কত টাকা?

এই, আরেকটা! এ উটের দুধ খাওয়ার জন্য হরহামেশা দুবাই যেত। যাক,  উটের দুধ না-খেয়ে বাঘের দুধ খাক এতে সমস্যা নেই! কিন্তু এখন নাকি দুবাইয়ে স্বর্ণের শো-রুম খুলেছে। এ বাংলাদেশ থেকে দুবাই টাকা নিল কোন উপায়ে! দুদক-ফুদকের  কি ধারণা, ভ্যানেটি ব্যাগে করে নিশ্চয়ই নেয়নি? 

ইদকে কীভাবে 'একটা চুতিয়া ইদে' পরিণত করেছিল এই সমস্ত চুতিয়া মিডিয়া (অতীতে ঈদসংখ্যা নামে বিভিন্ন আবর্জনা প্রসব করে)। হালে, নমুনা:

বয়স্ক এই মানুষটাকে চুরির সন্দেহে নির্মম ভাবে এরা যেভাবে পেটাচ্ছে আমি নিশ্চিত, এরা আদি-অকৃত্রিম জন্তু!

** এই লেখাটা অসমাপ্ত। সময়ে-সময়ে চরিত্র যোগ হবে।



Wednesday, March 11, 2026

একজন ধর্মীয় শিক্ষক আমাদেরকে যা শেখান।

এই শায়েখ আব্দুর রাজ্জাক প্রধানমন্ত্রীর একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া সবার সংগে পরিচিত হন।


তিনি তারেক জিয়ার মাথায় হাত দিয়ে রেখেছেন—এতে কোনও সমস্যা নেই। বয়সে ছোট হলেও একজন ধর্মীয় শিক্ষক এটা করতেই পারেন। কিন্তু...!

একটা গুরুতর কিন্তু আছে! সবাই উঠে হোস্ট এবং প্রধানমন্ত্রীকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছেন কিন্তু ব্যতিক্রম কেবল আব্দুর রাজ্জাক! তিনি সব কর্মকান্ড বসে-বসে করেছেন!

এটা খুবই সাধারণ শিষ্টাচার—কেউ আপনার সংগে দাঁড়িয়ে কথা বললে আপনি দাঁড়িয়ে কথা বলবেন। অবশ্য যাদের পা নাই তাদের জন্য এই শিষ্টাচার খাটে না। যতদূর জানি আব্দুর রাজ্জাক সাহেব আল্লাহর রহমতে সুস্থ-সবল একজন মানুষ—আলহামদুলিল্লাহ।

হয়তো ধর্মীয় আচারের কারণে তিনি এটা করেননি! জেনে ভাল লাগল।


কিন্তু এখানে শায়েখের বসে না-থেকে দাঁড়িয়ে থাকাটা দেখতে ভাল লাগছে না! চোখে লাগে, বসে যান-বসে যান...!

এমনিতে আমাদের এই ধর্মীয় শিক্ষক আমাদেরকে যা শিক্ষা দেন:


এখানে তিনি বলছেন:

"নারীর জন্ম কলঙ্ক...  অমঙ্গল...কুলক্ষণ...নারীর আত্মা নেই...স্বামী স্ত্রীকে বিক্রি করতে পারে...স্ত্রী হচ্ছে বাড়ির সম্পদ...!"

সবিনয়ে বলি, আমি ধর্মীয় শিক্ষক মহোদয়ের সাথে একমত হতে পারছি না। নারীর জন্ম না-হলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমস্যা নাই কারণ তিনি তার জন্ম বায়োলজিক্যাল বলে মনে করেন না!


কিন্তু আব্দুর রাজ্জাক সাহেব বা আমাদের জন্য তো বিপদ, মহাবিপদ! ওরে, আমাদের জন্ম আটকে যাচ্ছে যে!


এই ধর্মীয় শিক্ষক বলছেন, নারীরা চাকরি করতে পারবেন না। পর্দা করেও বাজারে যেতে পারবেন না! না মানে, না—কাভি নেহি!

এমন অসংখ্য বয়ান আছে এই ভদ্রলোকের। একটা আরেকটাকে ছাড়িয়ে যায়!

অথচ নবীর সময়ে একজন নারী নবীকে লক্ষ করে ছোড়া তীর নিজের উপর নিয়ে নবীকে রক্ষা করেন []। তীর কোথায় চলে, রান্নাঘরে নিশ্চয় না?

"...উহুদের যুদ্ধে রাসুল (সা.)-কে নুসাইবা (রা.) রক্ষা করতে গিয়ে তীরের আঘাত শরীর পেতে নিয়েছিলেন। সেই তীরের আঘাত নেয়ার জন্য নুসাইবা (রা.) সেখানে রাসুল (সা.) এর ফিজিক্যাল প্রক্সিমিটিতে উপস্থিত ছিলেন।
হঠাৎ করে উড়তে-উড়তে ঠিক তীরের আঘাতের সময় এসে তীরের আঘাত তিনি শরীর পেতে নেননি, তা নেয়ার জন্য ওখানে উনার উপস্থিতি ছিলো, এ নিশ্চিত।

শুধু নুসাইবা (রা.) একলাই না, আরো মেয়ে সাহাবারা ছিলেন। রাসুল (সা.) অলমোষ্ট যত পাবলিক স্পেইসে ছিলেন, মেয়ে/ মহিলারাও একই পাবলিক স্পেইসে ছিলেন। তারা অদৃশ্য ছিলেন না।"

সূত্র:
১. ডিয়ার জামাতে আমির...:  https://www.ali-mahmed.com/2024/11/blog-post.html?m=1


Saturday, March 7, 2026

৭ মার্চের ভাষণ বনাম আওয়ামি শাসন!

আমার হাজার-হাজার লেখার মধ্যে  মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শতশত লেখা আছে কিন্তু একটা লেখাও সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবর রহমান বা জিয়াউর রহমানের স্তুতি-লেখা নাই! তাঁদের প্রতি অশ্রদ্ধার কারণে এমনটা কিন্তু না। এই বিষয়ে আমার সবিনয় যুক্তি হচ্ছে, এঁদের নিয়ে লেখার জন্য হাজার-হাজার লোক আছেন।

আমি না-হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধে একজন শুয়োর-চড়ানো বীরপ্রতীক, একজন সুইপার, একজন ঠেলা-চালানো কমান্ডো এদের নিয়েই লিখলাম [১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ১৫]

এ সত্য, সাহিত্য মানেই যেমন ইংরাজি ভাষার সাহিত্য, মুভি মানেই যেমন হলিউডের তেমনি মুক্তিযুদ্ধ মানেই আওয়ামী লীগ। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে আওয়ামীলীগ-করা অধিকাংশ মানুষের মুক্তিযুদ্ধে অবদান নেই!


এরা যেমন গোটা মুক্তিযুদ্ধকে ছিনতাই করেছে, ৭ মার্চের ভাষণও! ৭ মার্চের ভাষণ হরেদরে জায়গায়-কুজায়গায় শব্দদূষণ করে বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে ফেলেছিল অথচ ৭ মার্চের ভাষণ ব্যতীত আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম কল্পনা করা যায় না। অবাক এক দেশ যেখানে আজ ৭ই মার্চের ভাষণ বাজে না কোথাও...!

কী অদ্ভুত একটা দেশ!

৭ মার্চের ভাষণ কী নিষিদ্ধ? বা ৩২ নাম্বার বাড়ি কী নিষিদ্ধ বাড়ি!


এই মানুষটাকেও কী সন্ত্রাসী আইনে গ্রেফতার করা হবে?

কারণ এই মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা দেওয়া হয়েছে, জুতা দিয়ে পেটানো হয়েছে
... ... ... 
যাক, শেষপর্যন্ত জানা গেল ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো, এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ!


... ... ...
৭ মার্চের ভাষণ কেবল আওয়ামী সম্পত্তি বা দেশের সম্পত্তি না, এই ঐতিহাসিক ভাষণ ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো কর্তৃক “মেমোরি অফ দি ওয়ার্ল্ড” (Memory of the World) বা বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 
আমরা অনেকে এটাও জানি না যে সু-অভিনেতা আবুল খায়েরের আছে বিপুল অবদান:

-সূত্র:

১. সাদী মহাম্মদhttp://www.ali-mahmed.com/2013/07/1971.html

২. মশিহুর রহমানhttp://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html
৩. সুরুয মিয়াhttp://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_28.html
৪. উক্য চিংhttp://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8752.html
৫. ভাগিরথীhttp://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_6057.html
৬. প্রিনছা খেঁhttp://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_27.html
৭. রীনা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_7644.html
৮. দুলা মিয়াhttp://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_08.html
৯. মুক্তিযুদ্ধে, একজন ঠেলাওয়ালাhttp://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html 
১০. মুক্তিযুদ্ধে  সুইপার: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8807.html
১১. নাইব উদ্দিন আহমেদhttp://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_2292.html
১২.  একজন ট্যাংকমানবhttps://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html  
১৩. ফাদার মারিনো রিগনhttp://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_7597.html
১৪. শুয়োর চড়ানো একজন বীরপ্রতীক...:  https://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_1.html?m=1
১৫. লালুhttp://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post.html

Thursday, February 26, 2026

কফিনে প্রথম পেরেক বা পেরেকগুলো!!

প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার অতীত নিয়ে, ১৭ বছর লন্ডনে থাকা নিয়ে আলাপে যদি না যাই তাহলে আমি বলব তাঁর শুরুটা খুবই চমৎকার ছিল। আমরা অতিরিক্ত আশাবাদী হয়ে পড়েছিলাম!

অবশ্য মিনমিন করে এটাও নোকতা আকারে যুক্ত করা হয়েছিল, তাঁর আশেপাশের লোকজনেরা তাঁকে ভাল থাকতে দেবে না! কিন্তু এটা যে এত দ্রুত হবে তা কল্পনাতীত!

তাঁর যেমন অনেক সবল দিক আছে—অনুমান করি, দুর্বল দিক সব ছাপিয়ে যাবে। আশেপাশে অনেকেই আছেন যারা তাঁর গুরুজন—তাঁর মা'র সময়ে ছিলেন। কঠিন হওয়া তাঁর জন্য কঠিন!



বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর কেবল একটা পদ না, একটা প্রতিষ্ঠান—একটা প্রতিষ্ঠানকে রাতের আঁধারে গুড়িয়ে দেওয়া চলে না। তেমনই বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন গভর্নরকে এভাবে বের করে দেওয়া যায় না!


আহসান এইচ মনসুরকে যে ভঙ্গিতে বিদায় দেওয়া হলো তা কেবল নজীর বিহীনই না, অসভ্যতা–অন্যায়!

এই গর্ভনের সময়ে মানুষ ব্যাংগুলোর উপর আস্থা ফিরে পেয়েছিল, রেমিটেন্স যোদ্ধারা ঝাপিয়ে পড়ে টাকায় দেশ সয়লাব করে দিয়েছেন আমি এই সমস্ত কু-তর্কে যাব না।

ধরে নিলাম, এই গর্ভনরের অনেক অনাচার নিয়ে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন, কোন সমস্যা নেই। পদত্যাগ করান, তথ্য-উপাত্তের ভিক্তিতে বিচার করুন, ফায়ারিং-স্কোয়াডে হাজার রাইফেল তাক করুন, কোন সমস্যা নেই।


কিন্তু নির্বাচিত সরকারের সময় এমন বিদায়, তার উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে যারা ব্যাংক থেকে বের করে দিল এরা কি 'মববাজ' না! সিরিয়াসলি, একটা নির্বাচিত সরকারের সময়? মব, তাও বাংলাদেশ ব্যাংকে!
স্বয়ং অর্থমন্ত্রী বলছেন তিনি জানেন না:

তখন জিয়াউর রহমানের সময়। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিক্ষোভ করে সমস্ত দেশের ব্যাংকগুলো অচল করে দিলেন। এদেরকে বাবা-সোনা বলে অনেক বোঝাবার চেষ্টা হলো যে একটা জরুরি প্রতিষ্ঠান এভাবে বন্ধ রাখা যায় না। লাভ হলো না! জিয়াউর রহমান সবগুলোকে ছাঁটাই করলেন। এরপর দেশের অন্যরা মরা সাপের মত সোজা...!

... ... ... 

আরেকটা ঘটনা ঘটেছে, অহেতুক-হুদাহুদি! এ সত্য, মোহন রায়হানের নাম আগে কখনও শুনিনি! পরে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, দুধে ভাসা মাছি—সব দুধই ভাসে। সবই সত্য কিন্তু লেজেগোবরে করে আম-জনতার হাতে ক্ষুর তুলে দেওয়া যায় না।


আজব, দমাদম করে কেউ এভাবে কফিনে পেরেক ঠোকার কাজ করে! 
অনুমান করি, বাই এনি চান্স, জনগণের হইচই-এর কারণে মোহন রায়হান নামের এই ব্যক্তিত্বহীন মানুষটাকে পরবর্তীতে পুরষ্কার দেয়া হলে তিনি প্রত্যাখ্যান করবেন না।

অথচ এই সমস্ত অনাচারের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে কী অসাধারণ, চোখ ভিজে যাওয়ার মত একটা উদ্যোগ!


১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকের কৃষি-ঋণ সুদে-আসলে এই সরকার মওকুফ করে দিয়েছে। ভাবা যায়! এতে ১২ লক্ষ কৃষক উপকৃত হবেন—প্রকারান্তরে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ! (একটা পরিবারে অন্তত ৫ জন সদস্য ধরলে)
... ... .... 
এই যে আরেকটা। একজন হাই-কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়া হবে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু, এভাবে!
এই ভদ্রলোক নাকি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা! যে ভাষা, যে দেহভঙ্গি—একটা এয়ারপোর্টে হেঁটে-হেঁটে যে ভংগিতে একজন হাই-কমিশারকে বহিষ্কার করছেন তা অকল্পনীয়!
... ... ... 
ফ্যামেলি কার্ডের মাধ্যমে বস্তিতে বসবাসরত নিম্নবিত্ত লোকজনেরা ২৫০০ টাকা করে পেয়েছে। কী খুশি এরা! কত অল্পতেই না এরা খুশি হয়:



একটি শস্তা চিঠির খসড়া!

... ,

আপনার সমস্যার কথা 'ইয়ে' আমারে জানাইছে। আসলে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করাটা আমার জন্য মুশকিল। একটু ঘুরায়া বলি, আপনে বুদ্ধিমান মানুষ, বুইঝা নিবেন।

আমার মা মারা গেছে ৫ বছরের উপরে হইল। আমি এখনও তার জন্য কান্না করি!

ইয়ু নো, শালার পুরুষ মানুষের কান্না করার জায়গার খুব অভাব—সে যেইখানে-সেইখানে পা ছড়ায়া কান্না করতে পারে না। তার জায়গা একটাই, বাথরুমের পানির ট্যাপ ছাইড়া মন খুইলা কান্দাকান্দি করা। ট্যাপের জলের সঙ্গে ভাইসা যায় চোখের জল। আরে, কোন শালা দেখব তখন!

বিজ্ঞানিরা কয়, মস্তিস্ককে নাকি বানান হইছে এমন কইরা সে ক্রমশ বিস্মৃত হয়। হেরা বা… জানে! আমার বেলায় হইছে উল্টাটা। আমার মা মারা যাওয়ার সময় মাইনা নিছিলাম কারণ সে বাঁইচা থাকলে খুব কষ্ট করত। আর তখন আমার টাকা-পয়সারও খুব টানাটানি…। আফসোস, একসময় দু-হাত ভইরা টাকা আসল কিন্তু সে আর নাই!

যে মহিলার স্বামীর ১৯৭০ সালে নিজস্ব মরিস মাইনর গাড়ি ছিল তার চিকিৎসা হয় সরকারী হাসপাতালে! শালার এইটা একটা জীবন হইল! এখনও মানতে পারি না। এই কষ্টটা আজীবন আমারে পাগলা কুত্তার মত তাড়া করব।

এই মহিলা শারীরিক ভাবে মারা গেছে কিন্তু এখনও সে জীবিত। হাসপাতালের বেডে শুইয়া আছে, বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। তারে নিয়া একটা সিরিজ লেখা শুরু করছিলাম, ‘হাসপাতাল পর্ব’। ১৪/১৫টা লেখা মনে হয় লিখছিলাম পরে আর লিখতে পারি নাই []। তার মৃত্যুটা আর লিখতে পারি নাই, বুঝলেন! ওখানে-হাসপাতালে সে এখনও বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। গাল ফুলিয়ে ছোট একটা বাচ্চার মত বারবার বলছে, 'তুই আমারে বাড়ি নিয়া যাইবি কবে'? শোনো কথা, ডাক্তার না বললে আমি বাড়ি নিয়া যাই কেমনে!

আচ্ছা, সে থাকুক না ওমনি—বাড়ি ফেরার স্বপ্ন নিয়া, সমস্যা কোথায়…। 

আমি-না আমার মার জন্য এখনও হাহাকার করি…। কোন মহাপুরুষ বলে গেছেন, "জ্ঞানীরা মৃতের জন্য শোক করেন না"। হুশ, এমন জ্ঞানী হইতে আমার বয়েই গেছে!

জানেন, আমি কিন্তু আমার মা'র খুব আদরের ছিলাম না। খোকা এটা খাস নে, খেয়েছি। খোকা ওটা করিস না, করেছি।

আহারে-আহারে, আমার মা-টার জন্য কিছুই করতে পারিনি, সিনেমার ডায়লগ মনে হবে কিন্তু তার খানিকটা স্পর্শ, তার গায়ের গন্ধ—কোটি টাকা আমার কাছে তুচ্ছ।

কানে-কানে গোপন একটা কথা বলি, আমাকে খুনি বানাবার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে আমার মাকে নিয়ে কুৎসিত কথা বলা। যে বলবে তাকে স্রেফ খুন করে ফেলব। ক্ষমতায় না-কুলালে নিজে খুন হয়ে যাব। নো মার্সি, নো জেনেভা কনভেনশন- জঙ্গলে কেবল জঙ্গলের আইন। 

দেখেন কান্ড, যেটা আমি এক লাইনে বলে আপনাকে বোঝাতে পারতাম সেটা বোঝাতে গিয়ে লাইনের-পর-লাইন লিখলাম। চুতিয়া লেখকদের এটাই সমস্যা…।

১.হাসপাতাল পর্ব: https://www.ali-mahmed.com/search/label/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%20%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC?m=0

Tuesday, February 24, 2026

গুন্ডামি, সেকাল—একাল!


ডিবির হারুন কাউকে অত্যাচার করার পূর্বে অন্তত জনসম্মুখে থাকত না কিন্তু এখানে ডিসি মাসুদ স্বয়ং উপস্থিত!
এখানে যে দুর্ধর্ষ অস্ত্র 'বারামাত' মানে উদ্ধার বা পাওয়া গেছে সেটা একটা হাতুড়ি, তাও লিকলেকে! এটা দিয়ে কোনও মানুষের খুলি ভাংতে পারলে ক্যাশ ১০০ টাকা পুরষ্কার।  
ডিসি মাসুদ গংদের প্রশ্নগুলো বড় অদ্ভুদ!
১. হাতুড়ি দিয়ে কি করেন? (মনে হচ্ছে এটা দিয়ে কারও কেল্লা ফালা-ফালা করবে!)
২. অন্ধকার উদ্যানে আসা কেন? (পকেটে বালব নিয়ে আসা উচিত ছিল!)
৩. অন্য রাস্তা দিয়ে না-এসে এখান দিয়ে যাওয়া কেন? (মনে হচ্ছে, এই রাস্তাটা ডিসি মাসুদদের)
৪. রোজা-রমজানের দিন—ইফতারে পর কোন ভদ্রলোক এখানে থাকে না! (ওহ, আচ্ছা, রোজা-রমজানের দিন না-হলে এখানে থাকা যেত)
৫. এখানে গাঞ্জাখোর-ইয়াবাখোররা থাকে—এখানে আসার কারণ আমরা জানি। (বেশ-বেশ, সন্দেহ! এখন পুলিশ সন্দেহের বশে যে-কাউকে ধর্ষণের অভিযোগে পাকড়াও করবে কারণ ইয়ে করার ইয়ে সে বহন করছে)
ডিসি মাসুদ যেভাবে তুমি-তুমি করে বলছেন মনে হচ্ছে তিনি মালিক অন্যরা কর্মচারি অথচ ব্যাপারটা উলটো।
নাঈমউদ্দিন নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র সমস্ত প্রমাণ দেওয়ার পরও জনসমক্ষে অন-ক্যামেরায় তাকে যে-ভংগিতে আঘাত করা হলো (মাথায়ও) ডিসি মাসুদ গংদের শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে, এখনই...। 
...
এই যে চুতিয়া 'মোবাইল মিডিয়া'! এই ছেলেকে বারবার দেখিয়ে বলছে, এটা মাসুদের সফল অভিযান:


এই যে কিছু চুতিয়া-লোক চলে এসেছে 'শিবের গীত' গাইতে। এখানে অন্যায় হয়েছে এটা না-বলে পেছনের গীত গাইছে:


এই যে আরেক জ্ঞানপাপী চুতিয়া! একটা অন্যায় হয়েছে—সাদাকে সাদা না-বলে গা-দুলিয়ে গীত গাওয়া শুরু করেছে:


আমাগো একজন মহামান্য রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু!

আমাদের এখনকার রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু পূর্বের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের মত না; যে আব্দুল হামিদের মত হরেদরে এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রিয়াংকা চোপড়াকে নিয়ে রসিকতা করবেন। 

তাই দুষ্ট পোলাপানরা যখন এমন কমপ্লিমেন্ট নিয়ে আলোচনা শুরু করল:


তখন বিশ্বাস করেন, আমি অন্তত বিশ্বাস করিনি—স্যয়ার অন মাই...। তো, সত্যতা যাচাই করতে মহামান্য স্যারের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গেলাম কিন্তু আফসোস, প্রোফাইল লকড—তালা বন্ধ কিন্তু চাবি তো আর আমার কাছে নাই:

এদিকে আবার দেখেন 'জোকারের বাপ' বা জুকারবার্গ যাই বলেন সে করেছে আরেক কেরামতি; লকড প্রোফাইলের আবার স্ক্রিনশট নেওয়া যায় না—হাজারবার চেষ্টা করলেও ডার্ক স্ক্রিন আসে। হে-হে-হে, 'জোকারের বাপ' চলে ডালে-ডালে আর আমরা বঙালরা চলি পাতায়-পাতায়!

আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি চুপ্পু'র বেদনা দেখে বুক ভেঙে আসে—তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ-রজ বা চরণধূলি পান না!            
এ নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি! আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। অনেকে বিষয়টা বুঝতে পারেননি! এ সত্য, তিনি এটা বলেছিলেন রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন কিন্তু তখন বর্ষাকাল চলছিল বিধায় চরণধূলি পাওয়া সম্ভব ছিল না—আরে বাপ, বর্ষাকালে সবই তো কাদা—'চরণকাদা'!
ওরে, বেকুবের দল, ধূলো কি শিশিতে জমিয়ে রাখা যায় রে, যে চাইলেই আতরের মত খানিকটা নিয়ে গায়ে মেখে নিলুম!

যাই হোক, আজ আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি  একটা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কালের কন্ঠকে [*]।

মহামান্যের জুতাটাও মান্যতা রাখে।


এটা সাক্ষাৎকারের খানিকটা অংশ—এটুকু পড়েই দাঁড়িয়ে যায়, গায়ের লোম! কী সাহস-কী সাহস! অবশ্য এই সাহস নতুন না—আমাদের মহামান্য যে মহা-ঝড় উঠান:


তিনিই পারেন অনায়াসে পাবনা-ঢাকা রেল চালু করতে, আগামী সেপ্টেম্বরে! কোন বছরের কোন সেপ্টেম্বর এটা আলোচ্য বিষয় না, এমনকি রেলের ইঞ্জিনিয়ারদেরও এই তথ্য জানার প্রয়োজন নেই। যারা আবার দুম করে বলে বসবেন, অন্তত বৃষ্টির পানিতে দু-বছর লাগে রেলের মাটি বসতে।

এইসব আসলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না! মহামান্যের ট্রেন ঝড়ের গতিতে ছুটছে আর আমরা সামান্যরা ট্রেনে বসে আছি। ট্রেন এবং আমরা পাবনা-ঢাকা, ঢাকা-পাবনা যাতায়াতের সময় একসঙে থাকব কিনা সেটাও এখানে আলোচ্য বিষয় না...!

... ... ... 

*সদয় অবগতি:' কালের কন্ঠ' (এটা টাইপ করার সময় আমি খুব সাবধানে থাকি কারণ 'ক'-এর স্থলে 'ব' হয়ে গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে!

একবার এক লেখায় মহাজাতকের জায়গায় 'মহাঘাতক' লিখে গোলমাল হয়ে গিয়েছিল। ভাগ্যিস, তখন সঞ্জীব চৌধুরী সামলে নিয়েছিলেন।

এবার নিজেকে নিজেই ধন্যবাদ দেই কারণ এবার আর গোলমাল হয়নি! অতি সাবধানে লিখেছি, কালের কন্ঠ!)

... ... ... 

জাইমা রহমানকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি যেভাবে সালাম ঠুকছেন দেখেই মনটা ভাল হয়ে যায়। আহা, কী বিশাল তার হৃদয়!

আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি কেমন দৃঢ়চেতা তার নমুনা—১২টা বাজিয়ে পরে ১টা!:

আহারে, পদ! পদ ত্যাগ করলে হাঁটার উপায় নেই:


Sunday, February 22, 2026

আফগানিস্তান-বাংলাস্তান!

আফগানিস্তান এমন এক জাতি যাদের কেউ পরাস্ত করতে পারেনি! না সুপার পাওয়ার রাশিয়া, না আমেরিকা! এ এক বিস্ময়!


সেই আফগানিস্তান হালে শরিয়া আইন করেছে। ফিরে এসেছে দাসপ্রথা!

নাগরিককে আবার ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে! সর্বোচ্চ শ্রেণিতে থাকবেন উলেমা এবং মোল্লারা। এই শ্রেণি যদি কোনও অপরাধ করে, তাহলে স্রেফ কিছু উপদেশ দিয়ে মুক্তি দেওয়া হবে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে আশরাফ বা উচ্চবিত্তরা। তাদের অবশ্য অপরাধের শাস্তিস্বরূপ যেতে হবে আদালতে। তবে সেখানে কিছু উপদেশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।

তৃতীয় শ্রেণিতে থাকবেন মধ্যবিত্ত আফগানরা। তাঁরা অপরাধ করলে যথাযথ তদন্ত করে শাস্তি পেতেই হবে। কারাদণ্ড পেতেই পারেন তাঁরা। একেবারে শেষ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে দরিদ্রতম আফগানদের। তাঁরা অপরাধ করলে কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ডের মতো সাজা দেওয়া হবে।

মহিলাদেরকে স্বামী মারতে পারবেন তবে হাড় ভাংগা যাবে না এবং দৃশ্যমান আঘাত করা যাবে না।

এই বিষয়ে ধর্মীয় শিক্ষক আল্লামা মামুনুল হক এক সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ব্যাখ্যা জানার পূর্বে এটা জানাটা সমীচীন, যিনি দেশের এক-ক্রান্তিলগ্নে (এনসিপি নেতাদের মত হাওয়া খেতে কক্সবাজার চলে যাওয়া) রিসোর্টে ছিলেন। অবশ্য তিনি ছিলেন অন্য নারীকে নিয়ে:



তো, আল্লামা মামুনুল হক ওই সাক্ষাৎকারে যেটা বলেন:


আফগানিস্তান বিষয়ে তিনি যথেষ্ট বিশ্লেষণ করেছেন। ওখানে যে-সমস্ত আইন করা হচ্ছে, দাসপ্রথা, অভিজাত শ্রেণী, কু-জাত শ্রেণীর শাস্তিপ্রথা, নারীকে অমানবিক নির্যাতন এ সমস্তই একশত ভাগ কোরান-সুন্নার আলোকে।

যাক, একজন ধর্মীয় শিক্ষক, একজন আল্লামা যখন বলেছেন কোরানের আলোকে এই সমস্ত কর্মকান্ড সবৈব সত্য এরপর আর কথা চলে না।

আল্লামা মামুনুল হক অন্য-এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তারা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশেও শরিয়া আইন চালু করবেন। তখন বাংলাদেশ হবে 'বাংলাস্তান'—রাতদিন বাজবে এই ওয়াজ:



Saturday, February 21, 2026

আমার ভাষা, আমার হাসি-কান্না-চিৎকার!

কখনো-কখনো, কেউ-কেউ, কেমন-কেমন করে যেন অযাচিত ভালবাসা পেয়ে যায়! নইলে আমার মত এক-অভাজন ফেব্রুয়ারির এক পড়ন্ত বিকেলে জাতীয় শহীদ মিনারের মত একটা জায়গায় দাঁড়াবার দুঃসাহস করে কেমন করে! 

৩জন শব্দ সৈনিক—জনাব. অনুপ ভট্টাচার্য, জনাব. সুজেয় শ্যাম, জনাব. গোলাম মোস্তাফা।

ছবির এই ৪ জনের মধ্যে এঁরা ৩ জনই অতি বিখ্যাত কেবল এই  অধমই অখ্যাত।

আবার ছবির এই ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই অন্য ভুবনে চলে গেছেন। কেবল আমার মত অকাজের মানুষটাই বেঁচে আছে। মেঘে-মেঘে বেলা হয়ে যাচ্ছে—সময় ফুরিয়ে আসছে ক্রমশ। অথচ কিছুই করা হলো না—কেবল একজন 'পাইপমানুষ' (যারা পৃথিবীতে আসে খেতে এবং বর্জ্য ত্যাগ করতে)! 

ওখানে আমাকে কিছু-একটা বলার জন্য বলা হয়েছিল! আমি এলোমেলো মাথা এবং ছাপাছাপি চোখ নিয়ে বুঝে উঠতেই পারছিলাম না কেমন করে বলব, কী বলব?

পূর্বে আমারই এক লেখা থেকে ধার করে খানিকটা ওখানে বলে পার পেয়েছিলাম []:

"ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ছয় হাজার ভাষার মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। 
লাটভিয়ায় ‘লিভোনিয়ান’ ভাষায় কথা বলেন এমন একজনই মাত্র জীবিত আছেন, তিনি মারা গেলে সেই ভাষারও মৃত্যু হবে। এটা ২০০৯ সালের কথা, এরিমধ্যে তিনি মারা গেছেন কিনা আমি জানি না।
আলাস্কার ‘আইয়াক’ ভাষা জানা শেষ ব্যক্তিটি মারা যান ২০০৮ সালে। তাঁর সঙ্গেই মৃত্যু হয় ‘আইয়াক’ ভাষার।
যে আড়াই হাজার ভাষা এই গ্রহ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে আমাদের বাংলা ভাষাও থাকতে পারত কিন্তু আমাদের অপার সৌভাগ্য আমাদের বাংলা ভাষা যে কেবল টিকেই আছে এমন না, আছে সদর্পে, সীমাহীন গৌরবে!
বাংলা নামের আমাদের মায়ের ভাষা—এটা তো আর এমনি-এমনি হয়নি, কেউ আমাদেরকে এটা মুফতে-দানে দেয়নি! এর জন্য আমরা কেবল দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর ধরেই লড়াই করিনি; লড়াই করেছি যুগের-পর-যুগ ধরে!
এই দেশের অসংখ্য সেরা সন্তান তাঁদের রক্ত অকাতরে বিলিয়ে গেছেন আমাদের জন্য। আমাদের বেদনার কথা যে অক্ষর দিয়ে লিখি সেই কালির সঙ্গে মিশে আছে তাঁদের রক্ত। জান্তব স্বপ্ন নামের সেই মানুষগুলোর অনেকেই আজ নেই কিন্তু তাদের মায়াভরা সুশীতল ছায়া ছড়িয়ে আছে আমাদের মাথার উপর।
তাঁদের ছায়ার পাশে যখন আমার মত অভাজন দাঁড়াই তখন নিজেকে কী ক্ষুদ্র, লজ্জিতই না মনে হয়। নতচোখে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে না-থেকে কোন উপায় থাকে না।"

...

গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, জনাব. শংকর সাঁওজালকে:

...
এই প্রজন্ম যেভাবে বেড়ে উঠছে:


সূত্র:
https://www.ali-mahmed.com/2010/06/blog-post_22.html?m=0