Search

Friday, November 6, 2026

সৌদি-সালমানের দানব রুহানি সন্তান!

 












একে এখনও কী কারণে গ্রেফতার করে বিচার শুরু করা হয়নি এ এক বিস্ময়!

এ একটা চলমান দানব! আপনি ভাবতে পারেন এই মানুষটা আইনের ঊর্ধ্বে! এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান! এই ওয়াজ যিনি করছেন তিনি একজন শায়েখ এবং ডক্টর ডিগ্রিধারীও। শাইখ ড. মাযাফফর বিন মুহসিন বলছেন:

বেনামাজিকে মেরে ফেলতে হবে। ফাঁসিতে নইলে জবাই করে, এই বিষয়ে ইমাম-মৌলভি-মোল্লাদের কোন দ্বিমত নাই। কেবল খানিকটা দ্বিমত আছে যে, হত্যা করার পর ওই মানুষটার জানাজা পড়া হবে, কি হবে না?
... পশুকে যেভাবে পায়ে দড়ি বেঁধে গর্তে ফেলে দেওয়া হয়, ওই মানুষকেও ওভাবে গর্তে ফেলে দেওয়ার নির্দেশও তিনি দিচ্ছেন...!

আমি কেন আসাদুজ্জামান নূরের বিরোধিতা করি!

লেখক: Fawaz Rob (https://www.facebook.com/share/1E8km4zb8D/)

"(ডোনাল্ড ট্রাম্প কারাগারে গেলে ইভাঙ্কা ট্রাম্পও নিশ্চয়ই ফেসবুকে সুন্দর, হৃদয়ছোঁয়া একটি পোস্ট লিখতেন)

আমি আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে ঘুমিয়েছি। (দয়া করে কেউ-আবার অন্য অর্থ করবেন না) এমনিতে কথাটি বলার সুযোগ খুব বেশি মানুষের হয়েছে বলে মনে হয় না। 

আচ্ছা, খুলেই বলি। ক্লিকবেইট দিয়ে পাঠক টানার এই সময়ে লেখার শুরুতে একটু চমক রাখাই যেন রেওয়াজ। তবে কথাটি সত্যি। আমি তাঁর ‘সঙ্গে’, অর্থাৎ একই ঘরে ঘুমিয়েছিলাম।

সালটি ২০০৩। আমরা তখন ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে। সবে পড়াশোনা শেষ করে চাচার বাড়িতে বেড়াতে গেছি। নূর চাচা, তখন আমরা তাঁকে এ নামেই ডাকতাম।যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে আমার চাচার বাসায় উঠেছিলেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি মঞ্চে ‘নূরলদীনের সারাজীবন’-এর প্রদর্শনী শেষ করে এসেছেন। দর্শকের বিপুল করতালি পেয়েছে সেই প্রযোজনায়। 

আমেরিকার অনেক বাড়ির মতো সেখানেও অতিথিদের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা ছিল না। তাই কয়েকটি ঘরে ভাগাভাগি করে আমাদের শোয়ার ব্যবস্থা হলো। ঘটনাচক্রে নূর চাচার ঘরেই মেঝেতে পাতা তোশকে আমার জায়গা হলো, সঙ্গে আরও দুজন। কী অসাধারণ গল্পই না-বলতে পারতেন মানুষটি! তাঁর ব্যক্তিত্ব, গল্প বলার ভঙ্গি আর উচ্চারণে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। চারপাশ ঘুমিয়ে পড়ার অনেক পরও তাঁর গল্পে আমাদের রাত জেগে রইল।

আমাদের প্রজন্ম আসাদুজ্জামান নূরকে দেখেই বড় হয়েছে, আমিও। তিনি ছিলেন ভালো মানুষটির প্রতিরূপ। মধ্যবিত্তের চেনা সেই মানুষ, যিনি আত্মমর্যাদা, সম্মান ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান। টেলিভিশনের নাটকে তিনি আসলে চিত্রনাট্যের সংলাপই বলতেন। অথচ আমরা বিশ্বাস করতাম, মানুষটিও বুঝি তেমনই/ এরপর এলো, ‘কোথাও কেউ নেই’। অসাধারণ সেই ধারাবাহিকে তিনি হলেন বাকের ভাই—পাড়ার এক মাস্তান, যে বিত্তবান প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ায়। হুমায়ূন আহমেদের অনন্য রচনা আর নওয়াজীশ আলী খানের অসাধারণ পরিচালনায় নাটকটি এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিল, যার নজির তার আগে বা পরে আর কোনো টেলিভিশন নাটকে দেখা যায়নি। [১]

বিটিভির সেই সময়টাই ছিল আলাদা। গুটিকয় অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক গোটা দেশের মানুষের মনোজগৎকে প্রভাবিত করতেন। নূরের মুখে ‘ইংলিশ টকিং, ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট’—এই সামান্য সংলাপ শুনেই সারা বাংলাদেশ কীভাবে হেসে উঠত, নতুন প্রজন্ম হয়তো তা কখনোই বুঝবে না। আর টেলিভিশনের কাল্পনিক গল্পে যখন তাঁর ফাঁসি হলো, কেঁদেছিল গোটা বাংলাদেশ।

আসাদুজ্জামান নূর যদি বিটিভি আর নাট্যদলের সাংস্কৃতিতে এ জীবনটা পার করতেন, ভালোই হতো। এত কথা হত না। উনি বেঁচে থাকতেন আমাদের মাঝে একজন কিংবদন্তী হয়ে। আমরা হয়তো তাঁকে আমাদের সময়ের অসাধারণ শিল্পী, অভিনেতা ও কথক হিসেবেই মনে রাখতাম। বাংলাদেশের মরগান ফ্রিম্যান হয়ে তিনি অমর হয়ে থাকতে পারতেন। 

ভাবা যায়, একটা চরিত্রের কাল্পনিক মৃত্যুতে মানুষ কুলখানিও করে ফেলে!


একটা সময়ে আমি উনাকে শ্রদ্ধা করতাম। উনার সাথে সেলফি তুলেছি, ওঁর কাছ থেকে এক অনুষ্ঠানে গদ-গদ হয়ে সার্টিফিকেটও নিয়েছি।

কিন্তু..., কিন্তু তিনি রাজনীতিতে এলেন। আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন। তাঁর সুন্দর কণ্ঠ, নম্র ব্যবহার আর শিল্পীসমাজে গ্রহণযোগ্যতা অনেক মানুষকে দলের কাছে টেনে আনল। দলের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল। ফলে উত্থানও হলো দ্রুত। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার তুঙ্গে তিনি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী হলেন।

ভালো কিছু করার চেষ্টাও তিনি করেছিলেন। তাঁর সময়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গন তুলনামূলক স্বাধীনতার এক উজ্জ্বল সময় পার করেছে। চারদিকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জোয়ার ছিল। বেঙ্গল ক্লাসিকাল মিউজিক উৎসব, লোকসংগীত উৎসবসহ নানা আয়োজন চলছিল পুরোদমে। মনে হচ্ছিল, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের এক সুন্দর সময় এসেছে। এখন যেভাবে ধর্মান্ধরা নৌকাবাইচ বা লালন মেলার বিরোধিতা করেন, তখন সেভাবে বাধা দেওয়ার সাহস কেউ করত না।

কিন্তু বড় গল্পের আড়ালেও অন্ধকার থাকে। বিটিভির পর্দায় আমরা যে সৎ মানুষটিকে দেখতাম, আসাদুজ্জামান নূর বাস্তবে তেমন ছিলেন না। নৈতিকতার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসকামী ও দুর্নীতিগ্রস্ত। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার সময়ও তিনি এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, এটি ছিল স্বার্থের সংঘাত। সংবিধানের ১৪৭(৩) অনুচ্ছেদে দায়িত্বে থাকা কোনো মন্ত্রীর মুনাফালাভের উদ্দেশ্যসম্পন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ।

সরকারের নিজস্ব প্রকাশিত জীবনবৃত্তান্তেই সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে একই সঙ্গে এশিয়াটিক গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও দেশ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের মার্চে প্রকাশিত সংবাদেও অভিযোগ ওঠে, তাঁর মালিকানাস্বার্থ ও পরিচালনা পর্ষদে সম্পৃক্ততা থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কাজ পেয়েছিল।

'দিস ইজ বাংলাদেশ'! নূর সাহেবও তাই জেনেশুনেই সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে ও পরে এশিয়াটিক এমসিএল কত সরকারি বিজ্ঞাপন পেয়েছে, কেউ সেই হিসাব খতিয়ে দেখলেই এ দেশের সরকারি কাজ বণ্টনে ক্ষমতাকাঠামোর ভূমিকা অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এবং একটি মাফিয়াচক্রের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রমাণও এখন আমাদের সামনে এসেছে। বিজ্ঞাপন থেকে অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার কাজ বণ্টন—সুযোগ ঘুরেফিরে পেয়েছেন দলের অনুগত গুটিকয় ব্যক্তি। বাংলাদেশের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেট প্রায় ৮২৬ কোটি টাকা। নিজের সময়ে তিনি তাঁর মাফিয়াচক্র নিয়ে মন্ত্রণালয়টিকে শক্ত মুঠোয় নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

যাচাইকৃত ও প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে কয়েক লাখ টাকার ব্যক্তিগত সম্পদের মালিক নূর সাহেবের সম্পদের পরিমাণ বেড়ে ২০২৪ সালে ১৫৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। কে জানে?  হয়তো হঠাৎ কোনো গুপ্তধনের বাক্স থেকে সোনার মুদ্রা পেয়েছিলেন, হয়তো তার নিম্ন মধ্যবিত্ত বাবার   তোষকের নিচে শত কোটি টাকা লুকিয়ে ছিলো। নিশ্চিত করে তো আর বলতে পারি না।

কিন্তু ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে নীলফামারীর রামগঞ্জ বাজারে তাঁর গাড়িবহরে হামলার কথা কে ভুলতে পারে? ওই ঘটনার পর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা কয়েকজনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার উদ্বেগজনক অভিযোগ সামনে আসে। ১৪ ডিসেম্বর বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা নূরের গাড়িবহরে পাথর ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন বলে সংবাদে উঠে আসে। এরপর সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। পরে হামলার ঘটনায় যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম রব্বানী এবং বিএনপির কর্মী আতিকুল ইসলাম আতিক। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে দুজনেরই লাশ পাওয়া যায়। ১৮ জানুয়ারি উদ্ধার করা হয় রব্বানীর গুলিবিদ্ধ লাশ। আর ২০ জানুয়ারি পাওয়া যায় আতিকের লাশ; তাঁর মাথার পেছনে গুলির ক্ষত ছিল।

নূরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের এসব কথিত বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW) এবং (UN human rights group) ও উদ্বেগ জানিয়েছিল। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর আগে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা তাঁদের তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। এতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যার গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়।

এক দশক পর রব্বানীর স্ত্রী শাহিনাজ বেগম আসাদুজ্জামান নূরসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পেছনের ঘটনাপ্রবাহে নূরের সম্পৃক্ততা ছিল। এসব অভিযোগ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বেআইনি হত্যার যেসব অভিযোগ আলাদাভাবে নথিভুক্ত হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে নূরের ব্যক্তিগত দায়কে এক করে দেখাও ঠিক হবে না। হয়তো এ ব্যাপারে উনি কিছুই জানতেন না। কিছুই বুঝতেন না। হয়তো পুরোটাই পার্টি পলিটিক্স। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত।

এমনিতে তিনি কেবল ক্ষমতার কাছাকাছি ছিলেন না, ক্ষমতা উপভোগ করেছেন!


তো, ব্যক্তিগতভাবে আমি কেন নূর সাহেবের বিরোধিতা করি? আগের সব অভিযোগের ক্ষেত্রেই হয়তো সংশয়ের সুবিধা তাঁকে দিতে পারি। বাংলাদেশের আদালত যে সব সময় প্রকৃত ন্যায়বিচারের আদর্শ দৃষ্টান্ত, তা নয়। অনেক মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে কয়েক দশকের অবদানের কথা বিবেচনা করে হয়তো তাঁর মুক্তির পক্ষেও দাঁড়ানো যায়। কিন্তু তাঁকে ক্ষমা করতে না পারার কারণগুলো অন্য জায়গায়।

প্রথমত, তিনি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেছেন। যখন তরুণ-তরুণী ও শিশুরা রাস্তায় প্রাণ হারাচ্ছিল, তখন তাঁদের জীবন নিয়ে তাঁর কোনো উদ্বেগ দেখা যায়নি। বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবনের চেয়ে দলের প্রতি আনুগত্যই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

দ্বিতীয়ত, বছরের-পর-বছর তিনি একটি ফ্যাসিবাদী সরকারকে সমর্থন করেছেন, সেই সরকারের অংশ হয়েছেন। প্রহসনমূলক কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য হয়েছেন। যে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার ও ব্যবস্থা ১৮ বছর ধরে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তিনি তার পাশেই দাঁড়িয়েছেন। কখনো অনুশোচনা দেখাননি। বিটিভির পর্দায় দেখা ন্যায়পরায়ণ মানুষটি তিনি ছিলেন না।

তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগ সরকারের অংশ হওয়ার জন্য একটি দিন, একটি মুহূর্তের জন্যও তাঁকে অনুশোচনা প্রকাশ করতে দেখিনি। গণ-অভ্যুত্থানের পরও এমন একটি ভয়ংকর সরকারের অংশ থাকার জন্য তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ, ঘৃণা কিংবা ব্যক্তিগত অপরাধবোধের কথা বলেননি।

চতুর্থত, আজও তিনি শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য ধরে রেখেছেন। আইন লঙ্ঘন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দুর্নীতি ছড়িয়ে দেওয়া কিংবা এত তরুণের প্রাণ কেড়ে নেওয়া একটি নির্মম সরকারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাঁর কোনো অনুশোচনা দেখা যায় না।

পঞ্চমত, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান কেবল কয়েক দিনের রাজপথের আন্দোলন ছিল না। আওয়ামী লীগের অধীনে বছরের-পর-বছর চলা নির্মম কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ছিল সেটি। সেই সময়ে তরুণদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। অনেকেই আর পরিবারের কাছে ফেরেননি।

এটাতো এখন কঠিন একটা 'ফ্যাক্ট' যে, গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশন ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ পেয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে গুম হিসেবে শনাক্ত করেছে। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনের হিসাবে, জুলাই-আগস্টের দমন-পীড়নে নিহত মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ পর্যন্ত হতে পারে।

নূর সাহেব ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। যে রাজনৈতিক শক্তির অধীনে এই ব্যবস্থা চলেছে, তিনি তারই অংশ ছিলেন। মানুষ যখন গুম হচ্ছিল, তখন তাঁর কণ্ঠ কোথায় ছিল? শিক্ষার্থীদের যখন রাস্তায় গুলি করা হচ্ছিল, তখন তাঁর বিবেক কোথায় ছিল? ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো সেই ‘বাকের ভাই’ কোথায় ছিলেন? একটি বার, একটি বা তিনি গর্জে উঠেননি!

"...নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় যখন আমার স্বপ্ন লুট হয়ে যায়..., 'জাগো বাহে কোনঠে সবায়'... "

হ্যাঁ, তাঁর মেয়ের আবেগঘন ফেসবুক পোস্টটি আমি পড়েছি। ভাষা শুদ্ধ, লেখাটিও হৃদয়ছোঁয়া। কিন্তু মেয়ের আকুতি কিংবা বিটিভির তারকাখ্যাতি কাউকে কয়েক দশকের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় থেকে মুক্তি দেওয়ার অজুহাত হতে পারে না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প কারাগারে গেলে ইভাঙ্কা ট্রাম্পও নিশ্চয়ই ফেসবুকে সুন্দর, হৃদয়ছোঁয়া একটি পোস্ট লিখতেন!

References:

[1] Bangladesh Press Information Department. “Life Sketch of Cultural Affairs Minister Asaduzzaman Noor.” Official ministerial biography. Open source

[2] Reazul Bashar, bdnews24.com (29 March 2014). “Noor ‘made money’ from record bid.” Contemporary reporting on the 2014 event contracts and Noor's corporate positions; includes a response from Asiatic's chairman. Open source

[3] Laws of Bangladesh. Constitution of the People’s Republic of Bangladesh, Article 147(3). Open source

[4] The Daily Star (29 July 2025). “ACC sues Asaduzzaman Noor.” Reports the ACC case and allegations. Open source

[5] Dhaka Tribune (29 July 2025). “ACC files graft case against Asaduzzaman Noor.” Reports alleged Tk 5.37 crore unexplained wealth and Tk 158.78 crore suspicious transactions. Open source

[6] Bangladesh Sangbad Sangstha (29 July 2025). “ACC files graft case against Asaduzzaman Noor.” State news agency report of ACC statement. Open source

[7] bdnews24.com (14 December 2013). “Asaduzzaman Noor’s convoy attacked.” Contemporary report on the Ramganj Bazar clash and casualties. Open source

[8] Human Rights Watch (29 April 2014). “Democracy in the Crossfire: Opposition Violence and Government Abuses in the 2014 Pre- and Post-Election Period in Bangladesh.” See section “Illegal Arrests and Killing of Atikur Rahman, Golam Rabbani, and Mohidul Islam, Nilphamari District.” Open source

[9] UNB (17 September 2024). “Asaduzzaman Noor accused in BNP leader’s 2014 murder.” Reports Shahinaz Begum’s complaint and the court’s action. Open source

[10] The Daily Star (17 September 2024). “Asaduzzaman Noor sued for BNP leader’s murder in 2014.” Reports the complaint naming Noor and 41 others. Open source

[11] Odhikar / FIDH. “Annual Human Rights Report 2014.” Further contemporaneous documentation relating to the Nilphamari incident and deaths. Open source

[12] India Today (5 August 2024). “We failed to understand pulse of people: Awami League MP on Bangladesh crisis.” Interview with Asaduzzaman Noor. Open source

[13] US Department of State. “2018 Country Reports on Human Rights Practices: Bangladesh.” Reports that the December 2018 election was not considered free and fair and was marred by reported irregularities. Open source

[14] Human Rights Watch (2 January 2019). “Bangladesh: Election Abuses Need Independent Probe.” Reports allegations of vote-rigging, intimidation and other election abuses. Open source

[15] The Daily Star (4 January 2026). “75% of disappearance survivors Jamaat-Shibir, 68% of those still missing are from BNP.” Reports the Commission of Inquiry's final report: 1,913 complaints, 1,569 verified as enforced disappearances. Open source

[16] bdnews24.com (4 January 2026). “Disappearance orders came from ‘highest level of Awami League government’: inquiry.” Reports the Commission's findings and scope. Open source

[17] UN Human Rights Office / UN Bangladesh (12 February 2025). “Bangladesh: UN report finds brutal, systematic repression of protests, calls for justice for serious rights violations.” UN estimate of up to 1,400 deaths between 1 July and 15 August 2024. Open source

[18] The Daily Star (December 2018). “Of couples and their wealth.” Analysis of election affidavits, including Noor’s declared income and assets. Open source

[19] European Union Election Expert Mission (2024). “Bangladesh 2024: Final Report.” Context on the 7 January 2024 election; use only if discussing the 2024 election, not Noor's personal role. Open source"

—লেখক: Fawaz Rob (https://www.facebook.com/share/1E8km4zb8D/)

১. ... একজন বাকের ভাই: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post_23.html?m=1

Thursday, November 5, 2026

মহান আল্লাহ কি কেবল আরবিই বোঝেন!

কোরানে আরবি ভাষা নিয়ে যে আয়াতগুলো আছে সবগুলোতেই আল্লাহ নিজেই বলছেন, 'আমি কোরান আরবিতে নাজিল করেছি'।কেন?  কেন আরবিতে!

আরবি রাসূলের মাতৃভাষা ছিল, তাই তাঁর জাতি আরবি ভাষাভাষী ছিল বিধায় সহজে বুঝতে পারবে। রাসূলের ভাষা আরবি—কোরান আল্লাহর কালাম সেসময়ের প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছে আরবিতে এটা আমরা মানি কিন্তু আল্লাহ'র কালাম/ ভাষা কি?

পবিত্র কোরানে এমন কোন আয়াত নেই যে, অসীম ক্ষমতাধর  আল্লাহর ভাষা আরবি! এমন কি সহীহ হাদিসেও নেই!

১. সুরা ইউসুফ ১২:২ 

'কোরান আমি তো আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পার'।

২. সুরা ত্বহা ২০:১১৩

'এভাবেই আমি আরবি ভাষায় কোরান অবতীর্ণ  করেছি... '।

৩. সুরা যুমার ৩৯:২৮

'আরবি ভাষায় এ-কোরান, এর মধ্যে কোনো জটিলতা নেই, যাতে মানুষ সাবধানতা অবলম্বন করে'। 

৪. সুরা হা-মিম-সিজদা ৪১:৩

'এই আরবি কোরান যারা বোঝে সেই সম্প্রদায়ের জন্য, কিতাবের আয়াতের বিশদ ব্যাখ্যা দেয়'।

৫. সুরা শূরা ৪২:৭

'এভাবেই আমি তোমার প্রতি আরবি ভাষায় কোরান অবতীর্ণ করেছি'।

৬. সুরা যুখরুফ ৪৩:৩

'আমি আরবি ভাষায় এ-কোরান অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো'।

৭. সুরা রাদ ১৩:৩৭ 

'এভাবেই আমি আরবি ভাষায় অবতীর্ণ করেছি এক নির্দেশ।... '

৮. সুরা আহকাফ ৪৬:১২

'...এ কিতাব মুসার কিতাবেরই সমর্থক, আরবি ভাষায়...'।

৯. সুরা নাহল ১৬:১০৩

'...কিন্তু এ তো পরিষ্কার আরবি ভাষা'।

১০. সুরা শোআরা ২৬:১৯৫

'এ (অবতীর্ণ করা হয়েছে) পরিষ্কার আরবি ভাষায়'।

১১. সুরা হা-মিম-সিজদা ৪১:৪৪

'আমি যদি আজমি (অ-আরবি) ভাষায় কোরান অবতীর্ণ করতাম, ওরা অবশ্যই বলত, এর আয়াতগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হলো না কেন? (কী আশ্চর্য, ভাষা) আজমি আর রসূল আরবীয়...'!

(অনুবাদ: কোরানশরিফ, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান) 

কোরানে আল্লাহ বার-বার বলেন 'কোরানের ভাষা আরবি, কিন্তু আল্লাহর ভাষা আরবি একবারও বলেননি!

১. সুরা রূম ৩০:২২

'আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন, ... তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য'...।

(আল্লাহ সব ভাষা বোঝেন, সব ভাষার স্রষ্টা! ভাষার ভিন্নতা-বৈচিত্র্যতা আল্লাহরই সৃষ্টি, পরম জ্ঞানী তিনি, কোনো-একটা ভাষায় আটকে নেই।)

২. সুরা নিসা ৪:১৬৪

'...আর মূসার সাথে আল্লাহ  সাক্ষাতে কথা বলেছিলেন'।

আল্লাহ মূসা (আ.) এর সাথে কথা বলেছেন, সেটা ঠিক কোন ভাষা তা কোরানে স্পষ্ট না—এই বিষয়ে কোন আয়াত নেই! সেটা আল্লাহর কালাম, মানুষের মতো ভাষা না! আল্লাহ-ই ভাল জানেন!

* এ তো গেল কোরানের কথা হাদিসে কি বলা আছে? হাদিসে আমরা আরবি ভাষা নিয়ে কি দেখি? পরকালে 'জান্নাতের ভাষা আরবি' এই নিয়ে হাদিস আছে। কিন্তু এই হাদিসটা, এটা জাল হাদিস। কেউ-কেউ দুর্বল বলেছেন! অধিকাংশ মুহাদ্দিসদের মতে: জান্নাতের ভাষা বা কবরের প্রশ্নের ভাষা নিয়ে কোনো মারফু সহিহ হাদিস প্রমাণিত নয়।

Islamweb, IslamQA, Ibn Taymiyyah (Majmu' al-Fatawa 4/300), Ibn Kathir সহ সকলেই বলেছেন—এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই। তাই এ নিয়ে তর্ক করা গায়েবের বিষয়ে বিনা দলিলে কথা বলার শামিল। 

অনেক মুহাদ্দিস এই 'জান্নাতের ভাষা আরবি' হাদিসটিকে পরবর্তী তাহকিকে ইবনুল জাওজী, যাহাবী, আলবানী একে মাওযু/বানোয়াট বলেছেন—সিলসিলা দায়িফাহ ১৬০, ১৬১।

৬টি প্রধান কিতাব (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)-এর কোথাও 'আল্লাহ'র ভাষা আরবি', এর সপক্ষে মারফু সহীহ হাদিস পাওয়া যায় না! সহিহ হাদিসে কি আছে তাহলে?

কোরান আরবি, রাসূল আরব, এটা সহিহ। কিন্তু আল্লাহর কালাম বা ভাষা তো কোন নির্দিষ্ট কোন ভাষার না! এ নিয়ে কোনো কোরানের আয়াত, সহিহ হাদিসে নেই! এবং পরকালে, জান্নাতে মানুষ কোন ভাষায় কথা বলবে এ নিয়েও কোনো সহিহ হাদিস পাওয়া যায় না! কোরানে তো নেই-ই!

কবরের সাওয়াল-জবাব কোন ভাষায় হবে এ বিষয়ে একটাও সহিহ হাদিস নেই। ৩টা প্রশ্ন কী হবে, সেটা সহিহ হাদিসে আছে, কিন্তু ভাষা কী হবে সেটা নেই!

Sahih al-Bukhari 1338,Sunan Abi Dawud 4753 (Sahih)

১. রাসূল ﷺ বলেছেন: কবরে দুই ফেরেশতা এসে জিজ্ঞেস করবে, 

'তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? তোমার নবী কে'..., ...?

আরবি: مَنْ رَبُّكَ؟ مَا دِينُكَ؟ مَنْ نَبِيُّكَ؟

এই ৩টা প্রশ্নের আরবি পাঠ হাদিসে এসেছে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে প্রশ্নটা আরবিতেই করা হবে। হাদিস বর্ণনা আরবিতে, তাই প্রশ্নও আরবিতে লেখা হয়েছে।

মুহাদ্দিসরা কী বলেন? ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন:

(মাজমুউল ফাতাওয়া ৪/৩০০)

[এমনিতেও কবরের প্রশ্ন বোঝা ও উত্তর দেওয়া যদি পরীক্ষা হয়, তাহলে যে বাঙালি আরবি জানে না, বা যে চাইনিজ আরবি জানে না, তাকে আরবিতে প্রশ্ন করে এমন পরীক্ষায় আল্লাহ ফেলবেন না—তিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়াময়!]

বাস্তবেও কবরের সাওয়াল-জবাবের ভাষা কি হবে এটা কোরান এবং সহীহ হাদিসে উল্লেখ নেই। আল্লাহ মহান, ন্যায়বিচারক।


... ... ... 

লেখাটা স্পর্শকাতর এবং জটিল হওয়া বিধায় ChatGpt AI-কে পুরো লেখাটা দিয়েছিলাম কোন অসঙ্গতি আছে কি না দেখার জন্য:

 
... ... ... 

Grok AI সম্পূর্ণ লেখাটা দেওয়া হয়েছিল, রিভিও-এর জন্য:

... ... ... 
 DeepSeek AI:


... ... ... 
MetaAi সবার শেষে দেওয়ার কারণ আছে! এর আবার আমার প্রতি খানিকটা ছাড় দেওয়ার মনোবৃত্তি আছে :)

Wednesday, November 4, 2026

ইসলামি শিক্ষা—মসজিদ থেকে মাদ্রাসার উত্থান!

পবিত্র কোরানে মসজিদ নিয়ে ২৯টা উদ্ধৃতি পাওয়া যায় কিন্তু মাদ্রাসা নিয়ে একটি শব্দও নেই [*]!

১. সুরা বাকারা ২:১১৪

"...যে ব্যক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলো ধ্বংসের চেষ্টা করে তার চেয়ে বড় জালেম আর কে?..."

২. সুরা বাকারা ২:১৪৪:

"...অতএব তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাও..."

৩. সুরা বাকারা ২:১৪৯:

"...তুমি যেখান থেকেই বের হও না কেন মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাও..."

৪. সুরা বাকারা ২:১৫০:

"...তোমরা যেখানেই থাক না কেন মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাও..."

৫. সুরা বাকারা ২:১৮৭:

"...আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না..."

৬. সুরা বাকারা ২:১৯১:

"...আর মসজিদুল হারামের কাছে তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো না যতক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে..."

৭. সুরা বাকারা ২:১৯৬:

"...এটা তার জন্য যে তার পরিবার মসজিদুল হারামের বাসিন্দা নয়..."

৮. সুরা বাকারা ২:২১৭: 

"...আল্লাহর পথ থেকে বাধা দেওয়া ও মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দেওয়া..."

৯. সুরা মায়েদা ৫:২:

"...মসজিদুল হারামে যেতে বাধা দেওয়ায় কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে..."

১০. সুরা আরাফ ৭:২৯:

"...বলো, আমার রব ন্যায়বিচারের আদেশ দিয়েছেন এবং প্রত্যেক মসজিদে তোমরা নিজেদের লক্ষ্য স্থির কর..."

১১. সুরা আরাফ ৭:৩১:

"...হে আদম সন্তান, প্রত্যেক মসজিদে তোমাদের সাজসজ্জা গ্রহণ কর..."

১২. সুরা আনফাল ৮:৩৪: 

"...অথচ তারা মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দেয়, যদিও তারা এর রক্ষক নয়..."

১৩. সুরা তওবা ৯:৭:

"...তবে যাদের সাথে তোমরা মসজিদুল হারামের কাছে চুক্তি করেছ..."

১৪. সুরা তওবা ৯:১৭:

"...মুশরিকদের জন্য শোভা পায় না যে তারা আল্লাহর মসজিদসমূহ রক্ষণাবেক্ষণ করবে..."

১৫. সুরা তওবা ৯:১৮:

"...নিশ্চয় আল্লাহর মসজিদসমূহ রক্ষণাবেক্ষণ করবে তারাই যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনে..."

১৬. সুরা তওবা ৯:১৯:

"...তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো ও মসজিদুল হারাম রক্ষণাবেক্ষণ করাকে...সমান মনে কর?"

১৭. সুরা তওবা ৯:২৮:

"...হে মুমিনগণ, মুশরিকরা অপবিত্র, তাই এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল হারামের কাছে না আসে..."

১৮. সুরা তওবা ৯:১০৭:

"...আর যারা মসজিদ বানিয়েছে ক্ষতিসাধন, কুফরি ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য..."

১৯. সুরা তওবা ৯:১০৮:

"...যে মসজিদ প্রথম দিন থেকে তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত সেটাই তোমার সালাতের জন্য বেশি যোগ্য..."

২০. সুরা তওবা ৯:১১০:

"...তাদের নির্মিত মসজিদ সর্বদা তাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে..."

২১. সুরা বনী ইসরাইল ১৭:১: 

"...পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদুল হারাম থেকে..."

২২. সুরা বনী ইসরাইল ১৭:১:

"...মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত যার চারপাশ আমি বরকতময় করেছি..."

২৩. সুরা বনী ইসরাইল ১৭:৭:

"...যাতে তারা মসজিদে প্রবেশ করে যেমন প্রথমবার প্রবেশ করেছিল..."

২৪. সুরা কাহফ ১৮:২১:

"...তারা বলল, তাদের উপর একটি মসজিদ নির্মাণ কর..."

২৫. সুরা হজ ২২:২৫:

"...নিশ্চয় যারা কুফরি করে এবং মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দেয়..."

২৬. সুরা হজ ২২:৪০:

"...আর যদি আল্লাহ একদলকে অন্যদল দ্বারা প্রতিহত না করতেন তবে ...মসজিদসমূহ ধ্বংস হয়ে যেত যেখানে আল্লাহর নাম বেশি স্মরণ করা হয়..."

২৭. সুরা ফাতহ ৪৮:২৫:

"...তারাই কুফরি করেছে এবং তোমাদেরকে মসজিদুল হারাম থেকে বাধা দিয়েছে..."

২৮. সুরা ফাতহ ৪৮:২৭:

"...আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন...তোমরা অবশ্যই মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে..."

২৯. সুরা জিন ৭২:১৮:

"...আর মসজিদসমূহ আল্লাহরই, সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না..."

 * তবে মসজিদে শিক্ষার কথা বলা আছে। মসজিদে যে শিক্ষা দেওয়া হতো তার কিছু নমুনা পাওয়া যাবে এই আয়াতে। যে আয়াতগুলোতে মসজিদ শব্দ আছে, সেগুলোর মধ্যে শিক্ষার সাথে সবচেয়ে কাছাকাছি ৩ টা আয়াতকেই মুফাসসিররা শিক্ষার দলিল হিসেবে ধরেন, কারণ 'জিকির/তাকওয়া' মানেই শিক্ষা।

১. বাকারা ২:১১৪

"...যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয়..."

তাফসীর ইবনে কাসির: 'আল্লাহর নাম স্মরণ', এর মধ্যে কোরান তেলাওয়াত, কোরান শিক্ষা, ওয়াজ —সবই পড়ে'।

মসজিদে শিক্ষা বন্ধ করাই এই আয়াতে জুলুম বলা হয়েছে।

২. তওবা ৯:১৮

"...আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে তারাই যারা আল্লাহ ও আখেরাতে ঈমান আনে..."

এখানে 'আবাদ করা'-র ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবী লিখেছেন: আবাদ মানে দুইটা। ১. বিল্ডিং বানানো। ২.সেখানে বসে ঈমান ও কোরানের শিক্ষা দেওয়া। এটাই মসজিদে শিক্ষার মূল আয়াত।

৩. জিন ৭২:১৮

"আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহরই, সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না"

এটা তাওহিদের শিক্ষার আয়াত। মসজিদে শুধু আল্লাহর শিক্ষাই চলবে — অন্য কোনো মতবাদের না।

এই তিনটার বাইরে কোরানে মসজিদ শব্দ আছে এমন আর কোনো আয়াতে সরাসরি 'ইলম/ তালিম/ দারস' শব্দ নেই।

কোরানে মসজিদে শিক্ষা নিষেধ নয়, বরং জিকির ও তাকওয়ার নামে শিক্ষাই অনুমোদিত। আর রাসূলের সুন্নতে মসজিদে নববীর সুফফাই ছিল প্রথম মাদ্রাসা।

+ হাদিসে মসজিদে শিক্ষার বিষয়:

১. সহিহ আল-বুখারী ৬৬

আবু ওয়াকিদ আল-লাইসি (রা.) থেকে বর্ণিত: একবার আল্লাহর রাসূল ﷺ মসজিদে বসে লোকদের সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় তিনজন লোক এলো। দুজন এগিয়ে এলো, একজন চলে গেল। একজন হালাকার (জ্ঞানের মজলিস) মধ্যে ফাঁকা জায়গা পেয়ে বসে পড়ল, দ্বিতীয়জন পেছনে বসল, তৃতীয়জন ফিরে গেল। রাসূল ﷺ বললেন, "আমি কি তোমাদের এই তিনজনের কথা বলব? একজন আল্লাহর দিকে ঝুঁকেছে, আল্লাহ তাকেও আশ্রয় দিয়েছেন। দ্বিতীয়জন লজ্জা পেয়েছে, আল্লাহও তাকে লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন। তৃতীয়জন মুখ ফিরিয়েছে, আল্লাহও তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।"

—Sunnah.com: Sahih al-Bukhari 66 

ইমাম বুখারী এই হাদিসের উপর অধ্যায়ের নাম দিয়েছেন—'মসজিদে ইলম ও ফতোয়া আলোচনার অধ্যায়'।

২. সহিহ আল-বুখারী ১৩৩

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে: এক ব্যক্তি মসজিদে দাঁড়িয়ে বলল, "হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কোথা থেকে ইহরাম বাঁধতে আদেশ করেন?" রাসূল ﷺ বললেন, "মদিনাবাসী যুল-হুলাইফা থেকে, শামবাসী জুহফা থেকে..."

—Sunnah.com: Sahih al-Bukhari 133 — بَابُ ذِكْرِ الْعِلْمِ وَالْفُتْيَا فِي الْمَسْجِدِ 

এটাই প্রমাণ যে, সাহাবীরা মসজিদের ভেতরেই মাসআলা শিখতেন, কোনো আলাদা মাদ্রাসায় না।

৩. সহিহ মুসলিম ৭৮৮b

আয়িশা (রা.) বলেন: নবী ﷺ মসজিদে এক ব্যক্তির কোরান তেলাওয়াত শুনছিলেন। তিনি বললেন, "আল্লাহ তার উপর রহম করুন, সে আমাকে এমন একটি আয়াত মনে করিয়ে দিয়েছে যা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।"

 —Sunnah.com: Sahih Muslim 788b

মসজিদে কোরান শেখা-শেখানো চলত।

৪. সহিহ মুসলিম ২৬৯৯ (মসজিদে জিকিরের হালাকা)

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে: রাসূল ﷺ বলেছেন, "যখন কোনো দল আল্লাহর কোনো ঘরে (মসজিদে) একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব তেলাওয়াত করে এবং একে অপরকে শিক্ষা দেয়, তখন তাদের উপর সাকিনা নাজিল হয়, রহমত তাদের ঢেকে ফেলে..."

—Sunnah.com: Sahih Muslim 2699a — The Book of Dhikr

++ মাদ্রাসার উত্থান:

১. নববী যুগ (৬২২-৬৩২):

কোন মাদ্রাসা ছিল না! মসজিদে নববীর বারান্দা, আস-সুফফা। ৭০ জন সাহাবী ওখানে থেকেই ফুলটাইম ছাত্র। শিক্ষক স্বয়ং রাসূল ﷺ।

২. সাহাবা-তাবেয়ী যুগ (৬৩২-৭৫০):

কুত্তাব এবং মসজিদের হালাকা! বাচ্চাদের জন্য কুত্তাব/মক্তব, লেখা শেখানো হতো।

বড়দের সব ইলম তাফসির, ফিকহ, হাদিস, সব মসজিদের হালাকায়। উমাইয়া আমলেও আলাদা স্থাপনা ছিল না।

৩. প্রাথমিক প্রচেষ্টা (৯০০-১০৬০)

খোরাসান (নিশাপুর) এলাকায় ধনী ব্যক্তিরা মসজিদের পাশে ছাত্রদের থাকার ঘর বানাতেন, একে বলত মাদ্রাসা (দারাসা থেকে পড়ার জায়গা)। কিন্তু এটা তখনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি!

৪. অফিসিয়াল শুরু, ১০৬৫ খ্রি.

নিজামিয়া মাদ্রাসা, বাগদাদ। সেলজুক উজির 'নিজামুল মুলক' বানান। 

এটাই প্রথম সরকারি সিলেবাস, বেতনভুক্ত শিক্ষক, হোস্টেল, ডিগ্রি সহ মাদ্রাসা। ইমাম গাজ্জালী এখানে পড়াতেন।

৫. মাদ্রাসার প্রসার (১০৬৫-১২০০)

নিজামুল মুলক একাই ৩০+ নিজামিয়া বানান—নিশাপুর, মসুল, দামেস্ক, বাগদাদ।

এর দেখাদেখি ফাতেমিরা কায়রোতে আল-আজহার (৯৭০-এ মসজিদ হিসেবে শুরু, পরে ৯৮৮ সালে মাদ্রাসা)-কে বিশ্ববিদ্যালয় বানায়।

৬. ভারত উপমহাদেশে (১১৯১- )

মুহাম্মদ ঘোরি দিল্লি জয়ের পর মসজিদ-ভিত্তিক মাদ্রাসা শুরু। ১৪৪০ এ বাংলায় মাহমুদ শাহের আমলে প্রথম বড় মাদ্রাসা।

সারকথা এক লাইনে:

রাসূলের ৪৩৩ বছর পর ১০৬৫ সালে বাগদাদে প্রথম মাদ্রাসা বিল্ডিং করা হয়!

এর আগে ৪ শতাব্দী ইসলামের সব জ্ঞান মসজিদেই চর্চা হয়েছে।

এখন অবশ্য মসজিদে নামাজের পর পরই ইয়া বড় একটা তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। টাইলস-এসির নীচে চাপা পড়ে যায় ইসলামি শিক্ষা, মুসাফিরদের ক্ষণিকের আশ্রয়, মুত্র-বিসর্জনের শারীরিক তীব্র যন্ত্রণার আবসান...!

ফল যা হওয়ার তাই হয়! ব্যাঙের ছাতার মত পাল্লা দিয়ে গজিয়ে উঠে এক-দুই রুম বিশিষ্ট মাদ্রাসা। ছোট-ছোট বাচ্চাদের উপর নির্বিচারে চলে অমানুষিক যৌন নির্যাতন যার চালু নাম বলাৎকার [১]। পয়সার বিনিময়ে (যেটাকে পবিত্র কোরানে আগুন-খাওয়া বলা হয়েছে [—]) মসজিদের বয়ান ছড়িয়ে পড়ে মাঠে-ঘাটে-তেপান্তরে, যার চালু নাম ওয়াজ [২]!

সূত্র:

১.বলাৎকার: https://www.ali-mahmed.com/2026/06/blog-post.html?m=1

২. ওয়াজ: https://www.ali-mahmed.com/2019/04/blog-post.html?m=1

— এই মোল্লারা যে ধর্ম বেচে টাকার বিনিময়ে ওয়াজ করে লক্ষ-লক্ষ টাকা আয় করেন আমরা দেখি এই বিষয়ে পবিত্র কোরানে কি বলা আছে? 

পবিত্র কোরানে পরিষ্কার বলা আছে, ওয়াজের নামে টাকা নেওয়া মানে পেটে আগুন দেওয়া—কিয়ামতের দিন এদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি! এটার নাম আপনি হাদিয়া দেন বা সাদিয়া তাতে কিছুই আসে যায় না!

১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)

২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)

৩. "...বলো, এর জন্য আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এ তো শুধু বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ। (সূরা আনআম ৬:৯০) 

—কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। 

: ভুল স্বীকার

পূর্বে আমি লিখেছিলাম, মসজিদ শব্দটা কোরানে এসেছে ২৮ বার ২৯টা আয়াতে!


একজন ভুলটা ধরিয়ে দিয়েছেন।

কেউ-কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে ক্ষেপে যান কিন্তু আমি কৃতজ্ঞ হই কারণ নইলে আমি শিখব কেমন করে!

আর যেটা হয়েছে, ইহাতে প্রমাণ হইল যে, আমি একটা অমানুষ না, মানুষ—ভুল যে করতেই পারি সেটা দুধের দুধ, পানির পানি হয়ে গেল!

আরেকটা বিষয় বোঝা গেল, এখানে কেবল আমি একাই পাঠক না, অন্তত আরও একজন পাওয়া গেল :)



Tuesday, November 3, 2026

আমির হামজার ওয়াজ—কোরানে ফেসবুক, দাঁড়িপাল্লা, বিকাশ!

আমির হামজা যে-সমস্ত কথা বলেন সেসব কী আসলেই সত্য? আমার বিশ্বাস হয় না! কেউ কি তার কাছে জানতে চায়নি, কেন-কিভাবে তিনি এমনটা বলেছেন?

যেমনটা আমির হামজা বলছেন,

"বাংলাদেশের মার্কা 'দাঁড়িপাল্লা' এটা কোরান থেকে নেওয়া...সুরা হাদিদ, ২৫ নাম্বার আয়াত...!"

চলুন, আমরা দেখি পবিত্র কোরানে কি লেখা? 

আরবি:

لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ

উচ্চারণ: লাকাদ আরসালনা রুসুলানা বিল-বাইয়্যিনাতি ওয়া আনযালনা মা'আহুমুল কিতাবা ওয়াল-মীযানা লিয়াকুমান-নাসু বিল-কিসত_

অর্থ:

"নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সাথে কিতাব ও দাঁড়িপাল্লা (মীযান) নাযিল করেছি, যাতে মানুষ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।"(সূরা হাদীদ ৫৭-২৫)।

* এখানে المِيزَانَ (আল-মীযান) মানে মানদন্ড বা দাঁড়িপাল্লা।

আমির হামজা নামের এই লোক হচ্ছেন কোরান বিশারদ! সব কোরান থেকে বের করেন!

যেমন এখানে বলছেন:

...কোরানে কারিমে আল্লাহ ফেসবুক কিভাবে চালাবেন, দিয়েছেন...সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নাম্বার আয়াত। ...ফেসবুকের কথা কোরানে কোথায় পাবেন...

কোথায় লাইক করবেন, কোথায় শেয়ার করবেন ১৫০০ বছর আগে আল্লাহ সেটা কোরানে দিয়েছেন...!

আমরা পবিত্র কোরানের সুরা আম্বিয়ার ৮৩ নাম্বার আয়াতটা একটু দেখি:

কোরানশরিফ, অনুবাদক: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
আরবি:
وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَىٰ رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ: ওয়া আইয়্যূবা ইয না-দা রাব্বাহু আন্নী মাসসানিয়াদ-দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রা-হিমীন।

বাংলা অর্থ:

"আর স্মরণ করো আইয়্যূবের কথা, যখন সে তার প্রতিপালককে ডেকে বলেছিল, 'আমি দুঃখ-কষ্টে পড়েছি, আর তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু'।"

এই লোক পবিত্র কোরানের রেফারেন্স দিয়ে 'বিএনপি-আওয়ামিলীগ', 'ফেসবুক', 'বিকাশ' কিছুই বাদ রাখেননি!

এর ভাষ্য মতে, বিএনপি-আওয়ামিলীগ পবিত্র কোরানে যেখানে আছে। সুরা হুজরত, ৯ নাম্বার আয়াত:


এর ভাষ্য মতে বিকাশের কথা যেখানে আছে। সুরা আনআম, ৩১ নাম্বার আয়াত:
কোরানশরিফ, অনুবাদক: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
হে, কোরান বিশারদ, আমাদের মাথার মুকুট আমির হামজা মহোদয়, এখন কেউ যদি পবিত্র কোরান থেকে সূরা ত্বীনের এই আয়াত  (৯৫:৫) নিয়ে আসে!

কোরানশরিফ, অনুবাদক: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
আরবি:

ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ سَافِلِينَ

উচ্চারণ: ছুম্মা রাদাদনাহু আসফালা সাফিলীন।

অর্থ:

"তারপর আমি তাকে নামিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে।"

* এখানে أَسْفَلَ سَافِلِينَ (আসফালা সাফিলীন) মানে নীচ।

আপনি/আপনারা তো পয়সার বিনিময়ে বিশাল টাকায় চুক্তি করে ওয়াজের নামে আগুন দিয়ে উদরপূর্তি করেন [+] যার সহজ বাংলা, 'হারাম'!

এখন কেউ যদি বিনে-পয়সার হালাল ওয়াজ করে। আল্লাহ না-করুন, কারও নামের সাথে 'নীচ' জুড়ে দিল! তাহলে আপনি মানবেন?

...কোরানে কারিমে আল্লাহ 'অমুক যে নীচ' এটা দিয়েছেন...সুরা ত্বীনের ৫ নাম্বার আয়াত। ...কোথায় অমুককে পাবেন তা ১৫০০ বছর আগে আল্লাহ সেটা কোরানে দিয়েছেন...!

+ পবিত্র কোরানে পরিষ্কার বলা আছে, ওয়াজের নামে টাকা নেওয়া মানে পেটে আগুন দেওয়া—কিয়ামতের দিন এদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি! এটার নাম আপনি হাদিয়া দেন বা সাদিয়া তাতে কিছুই আসে যায় না!

১. "আল্লাহ যে-কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যারা তা গোপন করে ও তার বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, তারা কেবল আগুন দিয়ে নিজেদের উদর পূর্তি করে। আর কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে দুঃখজনক শাস্তি। (সূরা বাকারা ২:১৭৪)

২. "... আর আমার আয়াতের বদলে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না।..." (সূরা বাকারা ২:৪১)

—কোরানশরিফ, বঙ্গানুবাদ: মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

(কাক নাকি কাকের মাংশ খায় না—তেমনি মোল্লারা মোল্লাদের দোষ দেখতে পান না! শামীমকে [১], দিপুকে [২] পুড়িয়ে-পিটিয়ে মারে আর আমির হামজার গোপন কেশও কেউ স্পর্শ করতে পারে না।)

সূত্র:

১. শামীম...: https://www.ali-mahmed.com/2026/10/blog-post_23.html?m=1

২. দিপু...: https://www.ali-mahmed.com/2025/12/blog-post_25.html?m=1


Monday, November 2, 2026

বিটিভি—ভীতিবি!

বাচ্চু ভাই ওরফে মতিউর রহমান যখন ভোরের কাগজ বের করতেন তখন আমি বছর-দেড়েক ওখানে লিখেছিলাম। 'একালের রূপকথা' নামে ফি-হপ্তাহে লেখা হতো। পাতাটা দেখতেন সঞ্জীব চৌধুরী।

তখন 'মেলা' নামের একটা পাতা যুক্ত হলো, এ গ্রহের সবচেয়ে বড় লেখক আনিসুল হকের হাত ধরে। এমন-একজন লেখক যিনি নিজের বই নিজেই লিখতেন, নিজের হাতে! নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেই দিতেন এবং নিজের শ্বাস নিজেই আটকে, নিজেই বলতেন, নিঃশেষিত! ইয়ে নিঃশেষিত  না, বই নিঃশেষিত [১]!

সঞ্জীব দা'র অনুরোধে 'মেলা' পাতায় একটা লেখা লিখেছিলাম, 'ভীতিবি' নামে—বিটিভিকে ব্যঙ্গ করে। 'ঝামেলা-ঝালেমা' আমার পিছু ছাড়ে না—হুট করে ড্রেন রাস্তার মাঝখানে চলে আসে! সেবারও ছাড় দিল না [২]!

আনিসুল হক বাপ-দাদার সম্পত্তি মনে করে ভীতিবি নিজেদের করে নিলেন। যাক গে, সে কথা...!

আহা, বিটিভি! কত গালমন্দ করেছি তোমায়, মনে কষ্ট রেখো না, বাপ...!


















































সূত্র:
১. আনিসুল হক...: https://www.ali-mahmed.com/2009/03/blog-post_21.html?m=1
২. ভীতিবি...: https://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post.html?m=1


WhatsApp