Search

Friday, July 3, 2026

শাওন, সরি টু সে, আপনি একজন ইতর, 'মহিলা ইতর'!

জুলাই নিয়ে যার-যার নিজস্ব মত থাকতেই পারে! কেউ-কেউ জুলাই নিয়ে মত পাল্টাতেও পারেন!

এখানে কিন্তু মিথ্যা বলা হচ্ছে না। শেখ হাসিনার অন্তর্বাস নিয়ে যখন উল্লাস করা হচ্ছিল তখন কিন্তু কাউকে দেখা যায়নি এটা থামাতে!ধরে নিলাম বড় অস্থির, এলোমেলো সেই সময়!

কিন্তু হাদি যে অতি কুৎসিত গালিটা চালু করে দিয়ে গেলেন এ নিয়েও আমাদের তেমন বিকার নাই। মেয়েরা-মায়েরা অবলীলায় একাত্ম হয়েছে এই গালির সঙ্গে! মাহমুদুর রহমানের মত সো কলড সুশীলরা বিমল আনন্দে বসে-বসে এই গালি শুনেছেন!

এমনিতে যে-কোন বিষয় আপনি দ্বিমত করতে পারেন, আলবত পারেন৷ আপনি তো আর আপনার পছন্দ-অপছন্দ অন্য কারও উপর চাপিয়ে দিতে পারেন না। 

এ সত্য, ওই সময়ে প্র. ইউনূসের হয়তো বিকল্প ছিল না! আহা, এমন না যে আমরা জানতাম না, প্র. ইউনূসের [] আছে লোভে চকচক করা এক অভূতপূর্ব চোখ! কিন্তু আমরা ভেবেছিলাম সাপও তো খোলস বদলায়, জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে থাকা ৮৪ বছরের এই মানুষটা কী আর বদলাবেন না! উঁহু, না, বদলাননি!

এখন প্রবল আশা, মানুষটা অমর নন! গলাকাটা ফতুয়ার সঙ্গে লেপ্টে থাকা চামড়া আর টান টান নাই! হাড় এবং চামড়া যখন সঙ্গ ছেড়ে দেবে তখন হয়তো বদলাবার সুযোগ পাবেন কিন্তু দেখে যেতে পারবেন না! আফসোস!

স্টেপ ডাউন হাসিনা, রেজিম চেঞ্জ— কারা-কারা হালুয়ার ভাগ পাবেনএই পরিবর্তনে কে-কে কোন শূন্যস্থান পূরণ করবেন—কারা-কারা থানার অস্ত্র লুট করাবেন—কে-কে স্নাইপার দিয়ে গুলি করবেন—ইউনূসের ছেলেরা কেমন করে ডাঙর হয়ে উঠবে[]—আসিফ নজরুলের মত একজন সুলেখক কেমন করে চালবাজ হয়ে যাবেন—পূর্বে শিবির বলে ফট করে মেরে ফেলা যেত, এখন আওয়ামীলীগ বলে—আমাদের আগেও বিকার ছিল না, এখনও নাই—সবই তো আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে!

শেখ হাসিনাকে মুছতে গিয়ে ইতিহাস মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা চলমান! আপনি-আমি-আমরা শেখ মুজিবর রহমানের হাজার সমালোচনা করতে পারি কিন্তু ইতিহাস থেকে তাঁকে মুছে ফেলতে পারব না! শেখ মুজিবর রহমান কী ছিলেন এটা বোঝার জন্য একাত্তর পূর্ববর্তী পত্র-পত্রিকায় চোখ বুলাতে হবে।

খুব বেশি পরিশ্রম করতে হবে না তৎকালীন দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পৃষ্ঠাগুলো দেখলেই হবে। সেসময় শেখ মুজিবর রহমান কী ছিলেন! 'জয় বাংলা' কাদের শ্লোগান ছিলো? কেমন-সব অকল্পনীয় আত্মত্যাগ! ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮

দিন যায় কথা থাকে! কালে-কালে বাকশাল হলো, টাকশাল হলো মুজিব সজীব হয়ে গেলেন, এই নিয়ে দিন-রাত এক করে সমালোচনা করেন কোন সমস্যা নাই। কিন্তু ইতিহাস কাঠ পেন্সিলের লেখা না যে ইরেজার দিয়ে মুছে ফেলা যাবে!
আর এই সমস্ত কথা, একাত্তর বড় না চব্বিশ বড়—বাপ বড় না পোলা বড়? এগুলো বলে জোকার হবেন না! দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বলছেন, বয়সে তিনি নাকি বাবাকে ছাড়িয়ে গেছেন! আখেরি জমানা বলে কথা, হতেও পারে!

আসলে আমরা আমরাই তো, 'বঙাল' বলে কথা—আমরা এমনই, আমরা বদলাব না—রাম যাবে শ্যাম আসবে, স্যাম যাবে যদু আসবে—কিন্তু, আমরা শ্লা বদলাব না! 
কিন্তু তাই বলে এ চিত্র মিথ্যা হয়ে যাবে না!

জনতা-ছাত্র আন্দোলনে []! সাধারণ মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল ব্যক্তি স্বার্থে না—একটা স্বপ্ন, অদেখা স্বপ্ন—মৃত্যুর পূর্বে এরা জানত না এদের গলিত মাংস টুকরো-টুকরো করে বিক্রি করবে বিভিন্ন নামে!

মেহের আফরোজ শাওন, ভাগ্যিস, এই ছেলেটা আপনার না! আপনার মত প্রতিভাবান একজন মানুষ এটা প্রমাণ করে দিলেন ইতর হওয়ার জন্য কেবল প্রতিভাবান না, মা হওয়াটাও জরুরি না!
এই স্ক্রিনশটটি শাওনের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া। কৃতজ্ঞতা।
মেহের আফরোজ শাওন কেবল গুণী মানুষই না, লেখক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী এবং দু'টি বড়-বড় বাচ্চার মা। এমন একটা মানের মানুষকে কেমন করে বলি, আপনি একটা ইতর!

আপনার কষ্ট, ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারেন কিন্তু আপনি তো সেই ইঁচড়েপাকা মেয়ে না, যে ফজলুর রহমানের বাড়ির সামনে গা দুলিয়ে বলছিল, 'ফজলুর রহমান আমার....'! 
আচ্ছা, আপনার সন্তানের চোখে চোখ রাখতে হবে না আপনাকে?

যাই হোক, শাওনের এই ইতরামির ফলে শাওন একটা বিজয় উল্লাস করতে পারেন কারণ তিনি আমাদেরকেও খানিকটা তার পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পেরেছেন, এ-ও তার অন্য রকম বিজয়...!

সূত্র:

১. ইউনূসনামা: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_10.html?m=1

২. ইউনূসের ছেলেরা...https://www.ali-mahmed.com/2025/07/blog-post_28.html?m=1

৩. জনতা-ছাত্র আন্দোলন: https://www.ali-mahmed.com/2024/07/blog-post_17.html?m=1

৪. সাদী মহাম্মদ: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/1971.html

৫. মশিহুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html
৬. সুরুয মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_28.html
৭. উক্য চিং: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8752.html
৮. ভাগিরথী: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_6057.html
৯. প্রিনছা খেঁ: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_27.html
১০. রীনা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_7644.html
১১. দুলা মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_08.html
১২. মুক্তিযুদ্ধে, একজন ঠেলাওয়ালা: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_18.html 
১৩. মুক্তিযুদ্ধে  সুইপার: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8807.html
১৪. নাইব উদ্দিন আহমেদ: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_2292.html
১৫.  একজন ট্যাংকমানব: https://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html  
১৬. ফাদার মারিনো রিগন: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_7597.html
১৭. শুয়োর চড়ানো একজন বীরপ্রতীক...:  https://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_1.html?m=1

১৮. লালু: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post.html




Wednesday, July 1, 2026

আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিসেস বনাম নিকৃষ্টতর সার্ভিস!

'Anowara Medical service', এটা আজকের প্রতিষ্ঠান না! এই প্রতিষ্ঠানে বহু পূর্বে গিয়েছিলাম আমার মা'র একটা টেস্টের কারণে! তখনকার তেমন স্মৃতি মনে নাই! আবার যাওয়া হলো গতবছরের শেষের দিকে! আমার পরিচিত একজনের NFAC করাতে।
এ ভারী বিচিত্র যে ডাক্তার এখানে করাবার জন্য রেফার করেছেন, তিনি পইপই করে বলে দিয়েছেন এখানেই করাতে হবে, হবেই। অথচ এই টেস্টটা এভারকেয়ার, স্কয়ার সহ বেশ কিছু জায়গায় হয়!
'আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিস' নামের এই প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস যে এত বাজে আর এখানকার লোকজন এমন উদ্ধতস্বভাবের হতে পারে তা অকল্পনীয়! যে রোগীরা ওখানে যান অধিকাংশই 'বায়াপসি'-র কারণে। এমনিতেই অসম্ভব ভয়ে কাবু হয়ে থাকেন কারণ এখানকার টেস্টের উপর নির্ভর করছে, তাঁর ক্যান্সার আছে, কি নাই? যারা হাজার-লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন তাদের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের আচরণ দেখে মনে হবে এরা ওখানে গেছেন ভিক্ষা চাইতে!

এরা কী অভদ্র-অমার্জিত ভঙ্গিতেই না চিৎকার করে বয়স্ক-বয়স্ক রোগিদেরকে ডাকে, এই আবদুল্লাহ আছে, আবদুল্লাহ—এই মমতাজ আছে, মমতাজ! গিজগিজ-করা, ভরা মজলিসে এখানকার-এক স্টাফ এক ভদ্রমহিলাকে বলছে, আপনার স্যাম্পল দুই বুক থেকেই নেওয়া হবে! আমি স্পষ্ট দেখছিলাম ভদ্রমহিলা লজ্জায় কুঁকড়ে যাচ্ছেন। এমনিতেই তিনি ভয়ে আধমরা হয়ে আছেন, ক্যান্সার ধরা পড়ে কি না এই আতংকে তার উপর এই লজ্জা।

আমি এখানকার এক সুপারভাইজরকে বললাম, এভাবে রোগীদেরকে...।  তিনি কথা শেষ করতে দিলেন না বিরক্ত হয়ে বললেন, 

এইটা কোন বিষয় না, এখানে সবাই রোগী, ব্লা-ব্লা-ব্লা!

আমি দেখলাম, এদেরকে বোঝাবার সাধ্য আমার নাই!

ফিরে এসে আমি গুগলে আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিস খুঁজে বের করলাম। সর্বনাশ, এদেরকে নিয়ে অনেকে অনেক  দুর্দশার কথা লিখেছেন, টাকা-পয়সা নিয়ে ডাকাতির কথা লিখেছেন। অজস্র মন্তব্য আকারে বেদনার কথা! আমিও একটা রিভিও লিখলাম। ভাগ্যিস, লেখাটার একটা স্ক্রিনশট রেখেছিলাম একজনের সঙ্গে শেয়ার করার কারণে। সেখান থেকে আজ উদ্ধার করলাম।

ট্রাস্ট মি, রিভিওটা গুগলে পোস্ট করে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। কিছুদিন পর দেখি গুগল আমার মেইলে এটা পাঠাল তোমার রিভিও এত লোক দেখেছে!

এটা নতুন কিছু না। গুগল হিসাব-টিসাব করে জানিয়ে দেয় যেন লোকজনেরা উৎসাহিত হয়। 

যাই হোক, 'আনোয়ারা মেডিকেল সার্ভিস' নতুন স্থাপনায় স্থানান্তরিত হয়েছে এটা জানতাম কিন্তু এরা ঠিকানা সহ সব বদলে ফেলার কারণে বা কিছু কেরামতির কারণে আগের শত-শত রিভিও উধাও! এখন কেবল ৮টা রিভিও দেখাচ্ছে!

তাও নেগেটিভ রিভিও! আসলে এরা বদলাবে না! কয়লা ধুলে যেমন ময়লা যায় না—আফসোস, তেমনি আমি ভুলে যেতে গিয়েও ভুলতে পারলাম না! আহা, এরাও যদি বদলে যেত আর আমিও ভুলে যেতে পারতাম তাহলে ভাল হত!
কপাল, ড্রেন রাস্তার মাঝখানে চলে আসে...! 



Saturday, June 27, 2026

একজন আইনপ্রণেতা, হানজালা!

ইনি নিজেই বলছেন, অনেকে নাকি বলে, 'জঙ্গি হানজালা'!

খুবই দুঃখজনক। ইনাকে জঙ্গি কেন বলে এটা যারা বলেন তারাই ভাল বলতে পারবেন!

আমি কিছু ভিডিও-ক্লিপ দেখছিলাম। এই ভিডিওক্লিপে এমপি হানজালা নামের এই মানুষটা যা করছেন এটা কোন প্রকারেই একজন আইনপ্রণেতা দূরের কথা সুস্থ মানুষের আচরণ না।

কেউ-কেউ বলবেন, এটা সাংসদ হওয়ার আগের ঘটনা। তাতে কিছুই যায় আসে না! এটা কেবল গুন্ডামি না শাস্তিযোগ্য অপরাধ! এমন একজন ব্যক্তি যিনি নিজেই নিজের হাতে আইন তুলে নেন—তিনি আইনপ্রনেতা হওয়ার জন্য অনুপযুক্ত। এবং একজন আইনপ্রণেতা হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না!

সাংসদ হানজানা, আপনি যেটা করেছেন এটা বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ! পেনাল কোড ১৮৬০-এর ৩২৩ ধারা!

এর শাস্তি হচ্ছে, জেল-জরিমানা। জেল খুব বেশী না, ১ বছরের! দেখতে-দেখতে কেটে যায়!

বাই দ্য ওয়ে, যেভাবে পেছনে পেটাচ্ছেন, 'খোদা-না-খাস্তা', বিচি ফেটে গেলে কিন্তু ৩২৪ ধারাও প্রয়োগ হবে।

এখানেও জেল-জরিমানা। তবে জেল ৩ বছরের! সরি টু সে, একটু লম্বা সময়!

আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল যে, এটা সত্যি-সত্যি সাংসদ হানজালা! ভিডিওটা খানিকটা অস্পষ্ট—ক্ষীণ আশা ছিল হয়তো এই মানুষটা না কিন্তু এ দুরাশা!

সাংসদ হানজালার আরও কিছু ভিডিও-ক্লিপ আমরা দেখেছি:

মাফিয়া ডনরাও এভাবে টেবিল ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করেন কি না আমার জানা নাই!

এখানে দেখা যাচ্ছে, শাস্তির বিকল্প হিসাবে তিনি টানা তিন মাস পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। ১ ওয়াক্ত মিস হলে তাকে জানাবার জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন। 





Friday, June 26, 2026

বারিস্তা—বারিস্তা(র)!

আমাদের বারিস্তার ফুয়াদ সাহেব বলছেন, 'এত ল্যাকাপড়ার প্রয়োজন নাই! এত স্কুল-কলেজের প্রয়োজন নাই! 
আমি স্যারের সঙ্গে একমত! সমস্ত স্কুল-কলেজ ভেঙ্গে ক্রিকেট খেলার মাঠ করতে হবে।

ইয়ারব, এখানেও ঝামেলা লেগে গেছে! স্যার, আবার খেলা বা ক্রিকেট খেলা দুই চোক্কে দেখতে পারেন না! স্যারের বক্তব্য হল:
গোল একটা বল দিয়ে ১১ জন একটা কাঠি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে, বিষয়টা বহুত না-ইনসাফি!
আমি বলি কি প্রত্যেককে একটা করে বল ধরিয়ে দিলেই তো হয়—না, আমি বারিস্টা(র) সাহেবের কাছ থেকে একটাও নিতে বলছি না। ১১ জনকে ১১টা বল ধরিয়ে দিলে এরা আর ঝামেলা পাকাবে না! দৌড়াদৌড়িও করবে না, স্থির থাকবে।

এদিকে আবার আরেক ঝামেলা! বারিস্তা(র) সাহেব ১৬ ডিসেম্বরকে বিজয় দিবস মানেন না।
তিনি 'সার্চ দ্য খোঁজে' আছেন। আমি স্যারকে ক্লু দিচ্ছি, স্যার গো, বিজয় দিবস ৩০ ফেব্রুয়ারি করলে কেমন হয়? লক করে দেন, স্যার।

বারিস্তা(র) সাহেব বলছেন, যদি কোন টিভি উপস্থাপক তাকে বিব্রত প্রশ্ন করে তাহলে তিনি তাকে '...শ্যা' বানিয়ে দেবেন।
কীভাবে বানাবেন? তরীকা কী! টুলস কি—উইপন কি? কতক্ষণই-বা লাগবে, এইসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবশ্য আমাদেরকে জানাননি! 

এবার অন্য প্রসঙ্গ। তখন বাংলা ভাই, শায়েখ আবদুর রহমানের যুগ। কী ক্ষমতা, কী দবদবা তাদের! বাংলা ভাই একজনকে বলেছিল:
"তোর পায়ের নীচে মাটি থাকবে না"।

সত্যি-সত্যি মানুষটার পায়ের নীচে মাটি ছিল না! ওই মানুষটাকে গাছের সঙ্গে উল্টো ঝুলিয়ে রেখেছিল, মৃত! আর একসঙ্গে সব জেলায় বোমা ব্লাস্ট, ভাবা যায়! এরমধ্যে কোন-এক কারণে কেবল একটা বোমা ফাটেনি!এদেরকে তখন থামাবার কোন চেষ্টা ছিল না। যা চেষ্টা করেছিলেন কর্নেল গুলজার নামের মানুষটা।

আমি তখন ব্লগস্ফিয়ারে লেখালেখি করি—'সামহোয়্যারইনে'। আমি তো পুলিশ-আর্মি না, একজন ভিতু মানুষ! তখন ভয়ে-ভয়ে লিখেছিলাম,  বাংলা ভাইয়ের ভয়াবহ অস্ত্র  নিয়ে। এমনিতে এই অস্ত্রটা অবশ্য বারিস্তা-এর কাছে আছে কি না এটা জানি না!

যাই হোক, পরে এই লেখাটাই আমার-এক বইয়ে ছাপা হয়েছিল।  আমার সেই ভয় আজও কাটেনি! তাই বই থেকে ভয়ে-ভয়ে ইমেজ আকারে দিয়ে দিলাম। টাইপ করতে সাহস হচ্ছে না!


* বুদ্ধিমান পাঠকের জন্য 'চার্জার'-এর ব্যাখ্যায় আর গেলাম না। কারণ বাংলা ভাই চার্জারে রাখা বোমা খালাসের জন্য টাট্টিখানা ওরফে হালের রেস্টরুমের খোঁজ করছিলেন। 'আকালমানকে লিয়ে ইশারা' আর বারিস্তা-এর জন্য বারিস্তারই কাফি...! 

Tuesday, June 23, 2026

একজন আসাদুজ্জামান নূর—একজন বাকের ভাই!

সালটা ৯৩! এই প্রজন্ম বাকের ভাইকে চেনার কথা না! কী অকল্পনীয় শক্তি তার—সেদিন গোটা দেশের মানুষ ভেঙে পড়েছিল টিভিসেটের সামনে!

আজ বাকের ভাইয়ের ফাঁসি!

ভাবা যায়, দেশের প্রধান-সব দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠার খবর ছিল এটা! এই ফাঁসি রদ করার জন্য অনেক চেষ্টা হয়েছিল। মিছিল হয়েছিল!

এই দেশের ইতিহাসে এমন নজির কেউ দেখেনি! কেউ শোনেনি! বাকের ভাইকে ফাঁসি না-দিতে খালেদা জিয়া পর্যন্ত অনুরোধ করেছিলেন। লাভ হয়নি, ফাঁসি মাস্ট!

লোকজনের মাথা সম্ভবত খানিকটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল! বাকের ভাইয়ের ফাঁসির পর কুলখানিও হয়ে গেল!

যাই হোক, আমার এই গল্প ফাঁদার মূল উদ্দেশ্য এটা না যে বাকের ভাই ওরফে আসাদুজ্জামান নূর খুন করে পার পেয়ে যাবেন। আর আমি অন্ধ দলবাজ না যে বলব, ওমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র!

আসাদুজ্জামান নূর এখন বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আটক আছেন। একজন অপরাধ করলে শাস্তি পাবেন এতে আমার কোন কথা নেই। কিন্তু একজন মানুষকে মারতে বা আহত করতে যদি ৪০০ মানুষের প্র‍য়োজন হয় আর এদের মধ্যে যদি থাকেন সাবেক প্রধান বিচারপতি [] তাহলে আমার কথা আছে! একজন বিচারপতি চানখারপুল টাইপের কোন জায়গায় লুঙ্গি মালকোঁচা মেরে ভোঁতা দা নিয়ে একজনকে তাড়া করছেন এই দৃশ্য কল্পনা করতেও কল্পনা লাগে! আবার এজাহারে যদি লেখা থাকে তিনি আদুল গায়ে ছিলেন তাহলে ঝামেলা আরও বেড়ে যায়!

আমাদের জজ সাহেবরা কী এজাহার পড়েন না! একবারের জন্যও কী এই প্রশ্ন জাগে না যে একটা খুনের মামলার ৪০০জন আসামী! আর একজন প্রধান বিচারপতিকে নিম্ন আদালত বিচারের জন্য দাঁড় করান কেমন করে!

নূর আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এ সত্য। আওয়ামীলীগ দেশটাকে নরক বানিয়েছিল এ-ও সত্য। গুমকে তো এরা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল! কিন্তু এটাও মাথায় থাকতে হবে, এরা একনাগাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। জেনে, না-জেনে অনেকে জড়িয়ে গেছেন—এখন ১৫ বছর ধরে যে সমস্ত গাছ জন্ম নিয়েছে সব তো উপড়ে ফেলা যাবে না! 

আগে যে-রকম শিবির বলে ফট করে একটা মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলা যেত বা বছরের-পর বছর ধরে আটক রাখা যেত আর আমরা পেট-ভাসিয়ে নির্বিকারভাবে এই খবরগুলো দেখতাম; এখন ঠিক তেমনই হচ্ছে একজন মানুষের সঙ্গে আওয়ামীলীগ নামে! আমাদের আর রূপান্তর হলো না—আমরা আর মানুষ হলাম না! আফসোস, বড়ই আফসোস!

তো, আমি জানার চেষ্টা করছিলাম নূর কি-কি অপরাধে আটক আছেন?

এখানে মামলার এজাহারে আমরা জানতে পারছি, বাদী লিটন রহমানের বাবা সিদ্দিক আলীকে নূর গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করেন। ইশ-শ, আমি কল্পনাই করতে পারছি না নূর সাঁইসাঁই করে স্টিয়ারিং ঘোরাচ্ছেন—একটা মানবসন্তানের দেহের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দিচ্ছেন। টায়ারের সঙ্গে লেপ্টে যাচ্ছে মানুষটার মগজ!

অথচ নূরের পরিবার জানাচ্ছেন, নূরের ড্রাইভিং লাইসেন্সই নেই (এটা বিআরটিএ-তে খোঁজ নিলেই জানা যায়)। এবং নূর গাড়ি চালাতে জানেন না।  

আর প্রথম আলোতে যেটা জানলাম তার 'খুনাখুনি' নিয়ে:
এখানে দেখছি, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, চাঁদা দাবী। নূরসহ একটা মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি আরও অন্তত ১ হাজার! সিরিয়াসলি, ১ হাজার! ১ হাজার মানুষ হালকাপাতলা অস্ত্র নিয়ে একটা ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণ করে বসতে পারে। বাই এনি চান্স, আমাদের আর্মি ভায়েরা হেরে গেলে তাদেরকে খুব একটা দোষ দেওয়া চলবে না!

মবস্টার জনাব, ইউনূসের সময় অপদার্থ আইনমন্ত্রী আসিফ নজরুল এবং অপদার্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেজে জাহাঙ্গীর পেঁয়াজের সাথে-সাথে আইনেরও ১২টা বাজিয়ে দিয়ে গেছেন!

নাভানা গ্রপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামকে গেফতারি পরোয়ানা থাকার পরও পুলিশ  ঘণ্টার-পর-ঘণ্টা অপেক্ষা করেও রাতে তাকে আটক করতে পারেনি! অবশেষে সকালে আটক করে কোর্টে নিয়ে গেলে সঙ্গে-সঙ্গে জামিন মঞ্জুর হয়ে যায়।
আমরা ম্যাংগো-পিপল আমের ছোবড়ার এটুকুই পেলাম, চোয়াড়ে টাইপের সাজেদুল ইসলাম নামের এই আসামী মুখ লুকাবার চেষ্টা করছে। বে-সিন, ব্যস!

যাই হোক, নূরের কোন অন্যায় প্রমাণ হলে ফাঁসি দেন সমস্যা নাই প্র‍য়োজনে 'পিটিয়ে ফাঁসি দেন' কিন্তু এই সমস্ত মামলায় প্রায় ২ বছর জামিন না-দেওয়ার কারণ কী! এখানে কী আইন অন্য গতিতে চলে!
নূর-প্রসঙ্গ সামনে চলে এসেছে, তাঁর মেয়ে সুপ্রভা তার বাবাকে নিয়ে ছবি শেয়ার করেছেন এবং কিছু আবেগঘন লেখা লিখেছেন!

ছবি স্বত্ব: সুপ্রভা
একটা মেয়ে তার বাবাকে নিয়ে কাতর হতেই পারে—তার বাবা মার্ডারার নাকি গেট কিপার এটা তো তার কাছে মূখ্য না! সুপ্রভার লেখার অংশবিশেষ:

কিন্তু আমাদের মবস্টার জনাব ইউনূসের [] মাস্টারমাইন্ড মাহফুজ বলছে:
সে নাকি নূরের ২০১৩-১৪ সালের ঘটনার বিষয়ে ওয়াকিবহাল! ডান কান, নাকি বাম কান এটা অবশ্য বলে নাই কিন্তু সে অন্যের কানে না, নিজের কানে শুনেছে যে নূর গুম-হত্যার শলা করছেন!
সে ২০১৩-১৪ সালেই শুনেছে এটা বললেও আমি অবিশ্বাস করব না যদিও তখন তার বয়স হওয়ার কথা মাত্র ১৬! তাতে কী আসে যায়, মাস্টারমাইন্ড বলে কথা! মাস্টারমাইন্ডরা মা'র পেট থেকে শলা করতে পারে!
তো, এই ছোকরা মাস্টারমাইন্ড আরও বলছে, আওয়ামী লোকজনরা রিভেঞ্জ নিয়ে ৪জনকে হত্যা করেছে। যার দায় নূরের উপর বর্তায়। আলবাত, তা আর বলতে—অবশ্যই বর্তায়!
ইয়ে, ৫ আগস্ট পরবর্তী যত খুন, অগ্নিসংযোগ, শিক্ষকদের লাঞ্চিত করা হয়েছে এগুলোও তো এই মাস্টারমাইন্ডের উপরই বর্তায়। 

সূত্র:

. সাবেক প্রধান বিচারপতি এবং মুরগি চুরি: https://www.ali-mahmed.com/2025/07/blog-post_26.html?m=1

. ইউনুসনামা: https://www.ali-mahmed.com/2026/05/blog-post_10.html?m=1



Monday, June 22, 2026

৫০১—মামুনুল হক—বিজয় নিশান!

মামুনুল হককে নিয়ে আমি যখন এই নিউজটা দেখি তখন আমি ভেবেছিলাম, আনোয়ার টিভি-জানোয়ার টিভি টাইপের এডিট করা কিছু। 'উরিবাবা', এ তো বিজয় নিশান! ভাগ্যিস, টাইমে মিলবে না নইলে এটাও বলে বসতেন, ওখানে যাওয়ার কারণে যে সন্তান জন্ম নিয়েছে সে লড়াই করে হাসিনাকে ফেলে দিয়েছে!

৫০১ নম্বর রুমটাকে তুলে নিয়ে জাদুঘরে রাখার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই!

যাই হোক, পরে মামুনুল হকের সোশ্যাল মিডিয়ায় গিয়ে দেখি, ঘটনা সত্য!


...সুদীর্ঘ লেখা। সংক্ষেপে বলি:
১. তিনি হাসিনার চালের কথা বলেছেন। অবশ্যই চাল। ভাল চাল! এবং তিনিই এই সুযোগটা করে দিয়েছেন! 
বাইরে লাশের সারি রেখে, নৈতিক-অনৈতিক পরের কথা তিনি মাস্তি করতে রিসোর্টে চলে গেছেন।
ব্যাড, ভেরি ব্যাড! নেতা হিসাবে ১০০-এর মধ্যে লাড্ডু (০) দিতে হবে আপনাকে!
২. মামুনুল হক লিখেছেন:
"রয়েল রিসোর্টে আরেকজনের নাম এন্ট্রি প্রসঙ্গ:
আমার আইডি কার্ডের বিস্তারিত পরিচয়ে স্ত্রীর নাম আছে 'আমিনা তাইয়েবা'। আর জান্নাত আরার আইডি কার্ডে তার নাম হলো 'শাহিদা ইসলাম' এবং স্বামী হিসেবে শহিদলু ইসলামের নাম লেখা। যা তখনো পরিবর্তন করে নি। তাই আমরা দুজন কথা বলেই স্ত্রীর ঘরে আমার প্রথমার নাম বলেছিলাম।"
আপনার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলতে হয়, মাওলানা সাহেব, এটা একজন মাওলানা সুলভ বয়ান না, অপরাধী মার্কা কথা। 
হোটেলে মিথ্যা নাম-পরিচয় এন্ট্রি তাও এনআইডি দিয়ে! বাংলাদেশে হোটেল/রিসোর্টে থাকার সময় সঠিক NID তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। ডিয়ার মাওলানা, আরও অনেক আইনের ফাঁদে পড়বেন আপনি। আমি কেবল নিরীহ আইনটাই বলি:
ক. দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪১৬ ও ৪১৯ ধারা: আপনি যদি নিজের পরিচয় গোপন করে অন্যের এনআইডি কার্ড নিজের দাবি করে হোটেলে রুম বুক করেন, তবে সেটি 'ছদ্মবেশে প্রতারণা'।
শাস্তি: ৪১৯ ধারা অনুযায়ী এই অপরাধের জন্য ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
খ. সাধারণ প্রতারণা (Cheating) দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২০ ধারা: হোটেল কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভুল বুঝিয়ে প্রতারণামূলকভাবে রুমের সুবিধা গ্রহণ করার অপরাধ এই ধারায় পড়ে।
শাস্তি: এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে। 

মাওলানা সাহেব লিখেছেন:
"ফোন কলে প্রথমার কাছে শহিদলু ইসলামের ওয়াইফ বলে পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গ:
আমার প্রথম স্ত্রীকে বিষয়টি যে ভাবে শান্ত মাথায় বললে তার জন্য মেনে নেওয়া সহজ হতো সেটা করতে পারি নি, তাই আমি তার কাছে জান্নাত আরার সাবেক পরিচয় বলেছি। যেহেতু জান্নাত আরাকে আগে থেকে সে শহিদলু ইসলামের ওয়াইফ হিসেবেই চিনত।"
অর্থাৎ, তার প্রথম স্ত্রী ঘুণাক্ষরেও জানেন না যে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন! আবার মামুনুল হকও তখন পর্যন্ত বলছেন না যে তার সাথে থাকা মহিলা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। কেবল তাই না তিনি অন্যদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য প্রথম স্ত্রীকে কুপরামর্শ দিচ্ছেন:

ওদিকে আবার মামুনুলের বোন তার ভাইয়ের বউকে শিখিয়ে দিচ্ছেন কিভাবে-কিভাবে মিথ্যা বলতে হবে। 
আমি আমার সমস্ত জীবনে এত বিভ্রান্ত হইনি। 'মানুষ ভুলের পোটলা', ভুল করা সমীচীন না কিন্তু মানুষের ভুল করা বিচিত্র কিছু না। তবে মামুনুল হকের মত বুক ঠুকে ভুলকে ফুল বানিয়ে ফেলা, এ স্রেফ অভাবনীয়! ভাবা যায়, এর কিছুর পর একটা মানুষ বলছে, ৫০১-কে আমরা উদযাপন করব!

৩. মাওলানা সাহেব এটাও লিখেছেন:
জান্নাত আরা ইতিপূর্বে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিল এবং আঃরহমান জামি ও ওবায়দুর রহমান তামিম নামে তাদের দুজন সন্তান রয়েছে। বনিবনা না হওয়ায় তারা উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়। একটা সময় জান্নাত আরা স্বপ্রণোদিত হয়ে ফোনে আমার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং আমার সহযোগিতা কামনা করে।
আহারে, চোখে পানি চলে এলো! তিনি ডিভোর্সি-একজন অসহায় মহিলাকে আশ্রয় দিয়েছেন। এই যে তিনি বললেন, '...বনিবনা না-হওয়ায় উভয়ে স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটায়'। 
বিবাহবিচ্ছেদের নিয়ম আছে:
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ 1961, ধারা: 7(2)
এই বিবাহবিচ্ছেদ কোথায় ঘটল, কীভাবে ঘটল এর পক্ষে নিশ্চয়ই কাগজপত্র-তথ্যপ্রমাণ আছে। আমরা সবিনয়ে দেখতে চাই। 
১. চেয়ারম্যানকে নোটিশ না দিলে!
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ 1961, ধারা: 7(2)
শাস্তি: সর্বোচ্চ ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা ১০,০০০০ টাকা জরিমানা, অথবা দুইটাই।
এবং তালাক আইনত কার্যকর হবে না।
1974 ধারা ৫, উপধারা ৪
২. কাজীকে ৩০ দিনে না-জানালে!
মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন 1974, ধারা: 5(4)
শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ বছর জেল, অথবা ৩০০০টাকা জরিমানা, অথবা দুইটাই।এবং তালাক রেজিস্ট্রি হবে না।
এই কাগজগুলো যদি আপনি বা আপনারা না-দেখাতে পারেন তাহলে আপনার দাবী মতে, আপনার প্রথম স্ত্রীর  বিবাহবিচ্ছেদই হয়নি! তাহলে আপনি আরেকজনের বউকে বিয়ে করেন কেমন করে! স্পষ্টত আপনাদের এই সম্পর্ক অবৈধ!

৪. মাওলানা সাহেব আরও লিখেছেন:
"...ধিক এই রাষ্ট্রযন্ত্রকে!   
ধিক এই সুশীলতাকে!! 
ধিক এই দ্বিচারিতাকে!!! 
এখনো যারা এই নির্মম রাষ্ট্রীয় নির্লজ্জতার সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলে হাসিনার নির্লজ্জতাকে বৈধতা দেয়, তাদের নীতি নৈতিকতা কোন লেভেলের? নাকি নীতি নৈতিকতা শুধু লুঙ্গির তলেই থাকে? 
রাষ্ট্র চেয়েছিল করতে আমাকে ধ্বংস 
আল্লাহ করেছেন আমাকে রক্ষা..."
এখানে কয়েকটা কথা এসেছে, ধিক-ধিক-ধিক, লুঙ্গি, হাসিনা, আল্লাহ...! একজন মানুষ অপরাধির মত তার পরিচয় লুকাবেন আবার রাষ্ট্রকে ধিক্কার জানাবেন, ভাল-ভাল! ওই প্রবাদটা মনে পড়ে গেল, 'উল্টা চোর কোতয়ালকো ডাটে'—চোর পুলিশকে ধমকায়! লুঙ্গির প্রসঙ্গে আর গেলাম না, যারা লুঙ্গি পরে এদেরই লুঙ্গি খুলে যায় কারণ লুঙ্গিতে বেল্ট থাকে না। আর আল্লাহ রক্ষা করেছেন! বটে, আপনি জিন্দা অলি যে...!

কোন প্রকারেই এটা প্রমাণিত হচ্ছে না যে ওই সময়ে এই ভদ্রমহিলা আপনার 'ইস্তারি সাহেবা'! আপনি বলছেন, আপনার বিবাহিত স্ত্রী অথচ আপনার সেই স্ত্রী অস্বীকার করছেন।আপনার পূর্বের অর্ধাঙ্গিনীও জানেন না—তাহলে কে জানে, রাষ্ট্রও জানে না? সাথের মহিলা যে আপনার স্ত্রী এটা আপনি প্রমাণ করতে পারেননি! এটা কেবল আপনিই জানেন! 

অবশ্য আপনি রাষ্ট্রকে স্বীকার করেন না! 
এখানে আপনি লিখেছেন:
"রাষ্ট্রীয় আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির বাধ্যবাধকতার জটিলতায় কাবিন করাটাও সমস্যাপূর্ণ ছিল। আর ইসলামেও কাবিন করা বাধ্যতামূলক নয়। আমার প্রথম বিবাহেও স্ত্রী রাষ্ট্রীয় আইনে অপ্রাপ্তবয়স্কা হওয়ায় কাবিন করিনি।"
আচ্ছা-আচ্ছা, এখন তাহলে আপনার প্রথম স্ত্রীর সম্মতির প্র‍য়োজন হয়! এখন আবার দেখি রাষ্ট্রীয় আইনের প্রয়োজন দেখা দিল! ইসলামে কাবিন করা বাধ্যতামূলক নয়, ভাল। তবে ইসলাম মানলে আক্ষরিক অর্থে মানবেন—রিসোর্টে কেন গেলেন ওখানে তো অনেক বেলেল্লাপনা হয়; উঠবেন সরাইখানায় বা তাবু খাটিয়ে থাকবেন। সামনে বেধে রাখবেন উট। চলাচলের জন্য!
বাহ, আপনার স্ত্রী জানে না এমনকি রাষ্ট্রও জানে না! তো, এই বিষয়ে আইন হচ্ছে:
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ - ধারা ৫।
১. কাজী বিয়ে পড়ালে সাথে কাবিন লিখবে।
২. কাজী ছাড়া বিয়ে হলে বর ৩০ দিনের মধ্যে কাজীকে জানাবে।
৩. না জানালে/না লিখলে শাস্তি: ২ বছর জেল অথবা ৩,০০০ টাকা জরিমানা।
মূল কথা: কাবিন ছাড়া বিয়ে বৈধ। কিন্তু রেজিস্ট্রি না-করলে কাজী-বর এর জেল/জরিমানা হবে।

এখন কথা হচ্ছে, মাওলানা সাব, আপনি আমাদেরকে যেভাবে বোঝাচ্ছেন—ঠিক অন্য ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সেক্স ওয়ার্কারদের সাথে যারা-যারাই ধরা পড়বেন প্রত্যেকেই বলবেন, আমি বিবাহিত। সাথের মহিলা আমার বউ। ব্যস, মামলা ডিসমিস! এবং যারা যেনা করবেন তারাও ৪জন না অসংখ্য সাক্ষী থাকার পরও বিবাহিত বলে গোঁফে তা দিয়ে ঘুরে বেড়াবেন। কেবল মুখে বলে দেবেন, আমি বিবাহিত। ব্যস! বরং যারা আটক করবেন তারা বিপদে পড়বেন!

মামুনুল হক তার এফবি আইডিতে সুদীর্ঘ লেখা লিখেছেন। পুরো লেখাটার 501 Mamunul hoque, Pdf এখানে:

Saturday, June 20, 2026

ইরান চুক্তি: নতজানু... এবং ইতর ট্রাম্প!

প্যারিসের ঝাঁ-চকচকে প্রাসাদে Suited-Booted ট্রাম্প চুক্তিতে সই করেছে। চুক্তিটা হচ্ছে:

Key Points-US-Iran Islamabad MoU, 2026

1. Ceasefire: Immediate and permanent end to military operations on all fronts, including Lebanon.

2. Sovereignty: Both sides respect each other's sovereignty, territorial integrity, and refrain from interfering in internal affairs.

3. Timeline: 60 days max to negotiate final deal, extendable by mutual consent. Countdown started after signing.

4. Blockade: US to remove naval blockade and impediments on Iranian ports within 30 days. US forces to move out of "proximity of Iran" within 30 days of final deal.

5. Strait of Hormuz: Iran to allow safe passage of commercial vessels with no charge. Traffic to start immediately after de-mining.

6. Reconstruction: US and regional partners to develop $300bn plan for Iran reconstruction. US not required to pay directly.

7. Sanctions: US to terminate all economic sanctions, including UN resolutions and unilateral ones. Schedule to be set in final deal.

8. Nuclear: Iran agrees not to procure or develop nuclear weapon. Enriched uranium to be "downblended" under IAEA supervision.

9. Status Quo: No new US sanctions during 60-day period. US to issue waivers for oil export, banking, transportation.

10. Frozen Funds: US to make frozen/restricted Iranian funds available once MoU signed. Release procedures to be agreed.

11. Monitoring: US and Iran to establish mechanism to monitor MoU implementation and future deal compliance.

রাজ্যের প্রিস্ট-ফ্রিস্ট, ওঝা-মোজা মিলেও এই চুক্তিকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেনি!

আহারে, গোল্ডেন ডগ, এই চুক্তির পর ট্রাম্পকে স্রেফ এমন মনে হচ্ছে!

ট্রাম্পকে আমার স্রেফ একটা নতজানু কুকুরই মনে হচ্ছে না। কেবল এই ছবিটাই চোখে ভাসছে! হোক না বানানো ছবি—এরচেয়ে ভাল উদাহরণ আর হতে পারে না! এই চুক্তিতে এই গ্রহে একমাত্র ট্রাম্পই বলবে, জি-তে-ছি। এই ছবিটার মত!

ট্রাম্পের এই ভিডিও ক্লিপটা সোস্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ায় কিন্তু এটার সত্যতা এখনও প্রমাণিত না! কিন্তু সত্য হলে আমি মোটেও অবাক হব না কারণ কোটি মানুষের সামনে এ যদি এমন ইতরামি করতে পারে তাহলে অন্ধকারে এ একটা পেডোফাইল বা বাচ্চাদের মাংস খাচ্ছে, এমনটা খুবই স্বাভাবিক! 

একটা মানুষ কী পরিমাণ নোংরা-ইতর হলে, আমেরিকার মত একটা দেশের প্রেসিডেন্ট হয়ে জনসমক্ষে একটা মেয়ের সাথে এমনটা করতে পারে:


সূত্র: 
১. বাঞ্চো... ট্রাম্প: https://www.ali-mahmed.com/2026/03/blog-post_26.html?m=1



Friday, June 19, 2026

এক বস্তা 'ডুমকফ' এবং একজন হুমায়ুন আজাদ!

আমার মতে, জ্ঞান হচ্ছে একটা সরলরেখা। আপনি শিখতে থাকবেন আর এগুতে থাকবেন—একটা সরলরেখা। থামাথামি নাই—নাথিং গনা স্টপ ইয়্যু!

আর, নির্বুদ্ধিতা হচ্ছে, আমি অনেক বড়—আমি জানি—অনেক জানি। তখন সরলরেখাটা ক্রমশ বৃত্তে রূপ নেয়। বে-সিন, ব্যস! ওই মানুষটা তখন অনবরত বৃত্তে ঘুরপাক খায়। এক বস্তা ডুমকফ—নির্বোধ!

আজকের কাগজ হুমায়ুন আজাদের একটা সাক্ষাৎকার ছাপিয়েছিল। ১৯৯২ সালে।


কাগজ: আপনি একজন পাঠক হিসেবে আপনার সাহিত্য কর্ম সম্পর্কে মূল্যায়ন করুণ।

হু. আজাদ (হুমায়ুন আজাদ):

আমি যদি হুমায়ুন আজাদের লেখার পাঠক হতাম তাহলে তার বই আগ্রহ সহকারে পড়তাম। আর মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বলতাম, কবিতার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তবে আরো কবিতা লেখা উচিত ছিলো। সমালোচনার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, হয়তো বাংলাদেশের সমালোচকদের মধ্যে দু'জনের একজন।

ভাষা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনিই সবচেয়ে ভালো। কিশোর সাহিত্যের ক্ষেত্রে বলতাম, তার লেখাই মননশীল হয়েছে। কলামের ক্ষেত্রেও 'ভাবতাম তার কলামই শ্রেষ্ঠ, যেমন ভাবেন অন্য পাঠকরা; নারীবাদী তার ক্ষেত্রে বলতাম, বাংলাদেশে নারীবাদের কোনো জননী নেই, জনক রয়েছে, সে হচ্ছে হুমায়ুন আজাদ।

কাগজ: লেখক হিসেবে মূল্যায়ন করুন?

হু. আজাদ: লেখক হিসেবে এখন কিছু বলতে চাইনা। বলবো আরো পনেরো বছর পর।

(আজকের কাগজ ১২.১১.৯২)


সাপ্তাহিক বিচিন্তার সাথে সাক্ষাৎকারে দেন। ১৯৯২ সালে।

হু আ (হুমায়ুন আজাদ):

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশংকর বা বিভূতিভূষন- এদেরকে বিশ্বমাপের বা দ্বিতীয়-তৃতীয় মাপের বলেও মনে করি না।

মননশীলতার কথা যদি ধরা হয়, পাশ্চাত্যে বা পশ্চিমে আমার চেয়ে বেশি মননশীল কেউ আছে বলে আমার মনে হয় না। ভাষা বিজ্ঞানের যে চর্চা আমি করেছি সেটা বিশ্বমাপের নয়, কিন্তু বাংলাদেশে যারা ভাষাবিজ্ঞানের চর্চা করছে, তাদের প্রায় সবার চেয়ে গুরুত্বপূর্ন আমার কাজ। সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্রে আমি দুইজনকে গন্য করি। একজন অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তি সৈয়দ আলী আহসান, আব্দুল মান্নান সৈয়দ। তাঁরা বেশ ভালো কাজ করেছেন। এঁদের চেয়ে ভালো কাজ বাংলাদেশেতো বটেই পশ্চিম বাংলায়ও হয়নি।

(বিচিন্তা ১৪/২/৯২)


প্রেস এ্যাডভাইস, সেই নোংরা টেলিফোন!

লেফটেন্যান্ট জেনারেল হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ যিনি 'লেজে হোমো এরশাদ' নামে পরিচিত ছিলেন, আমাদের কাছে! ০৩.০১.৯২ সালে মিনার মাহমুদের বিচিন্তায় ছাপা হয়েছিল:

"এরশাদ ক্ষমতায় ছিলেন ৩১৫৯ দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসের এটাই এখন পর্যন্ত সর্ব দীর্ঘ শাসনকাল। স্বাভাবিকভাবেই এ আমলে প্রেস এ্যাডভাইসের সংখ্যাও অনেক। এক হিসেব অনুযায়ী '৮২ থেকে '৯০-এর আট বছরে সর্বমোট ৬৯৩ দিন সংবাদপত্রকে 'এ্যাডভাইস' দেয়া হয়েছে।

এরশাদ জমানায় প্রদত্ত অভিনব কিছু প্রেস এ্যাডভাইস তুলে ধরা যেতে পারে।

৭ মে, ১৯৮২

তথ্য অধিদপ্তর: কমলাপুর বৌদ্ধমন্দিরে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের বক্তৃতার ছবি শেষ পাতায় এবং খবর ছাপতে হবে প্রথম পাতাম।

২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২

তথ্য অধিদপ্তর: মোহামেডান-আবাহনী খেলা চলার সময় যে গুলি হয়েছে সে সম্পর্কে বাসস যে খবর পরিবেশন করবে শুধু সেটা ছাপা হবে।

২১ ডিসেম্বর, ১৯৮২

তথ্য অধিদপ্তর: জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের খবর ছবিসহ তৃতীয় পাতায় ছাপতে হবে।

১৯ মে, ১৯৮৩

তথ্য অধিদপ্তর: খুলনা পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের ছাত্ররা শিক্ষা মন্ত্রীকে 'কালো পতাকা' দেখিয়েছে। এ খবর ছাপা হবে না।

১৮ আগস্ট, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: প্রেসিডেন্ট এরশাদ মনপুরা গিয়ে পোলিও আক্রান্ত যে শিশুটিকে কোলে নিয়েছেন তা ভালভাবে ছাপতে হবে, প্রয়োজনে ছবিসহ।

১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: মীরপুর ডিফেন্স স্টাফ কলেজে  অধ্যায়নরত একজন কেনীয় ক্যাডেট গতকাল মাতাল অবস্থায় বনানীতে পানিতে ডুবে মারা গেছেন। এ খবর প্রকাশিত হবে না।

১৬ সেপ্টম্বর, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: উপ সামরিক আইন প্রশাসক এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদের ছবি ব্যবহার করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেছেন, আর ছবি ছাপা হয় না।

২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫

প্রেসিডেন্ট সচিবালয়: আগামীকাল শেখ হাসিনা যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন তাতে যুতসই প্রশ্ন করার জন্যে রিপোর্টারকে বলে দিতে হবে।

২১ অক্টোবর, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: জে এরশাদ জগন্নাত হলে যাওয়ার সময় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের কাছে তার গাড়ীর উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনার কোন বিবরণ ছাপা হবে না। 

৩ নভেম্বর, ১৯৮৫

প্রেসিডেন্ট সচিবালয়: মালয়েশিয়া যাত্রার প্রাক্কালে জে এরশাদ যে কবিতা লিখেছেন তা ছাপতে হবে। 

২৯ জানুয়ারী, ১৯৯০

প্রধানমন্ত্রী: কোন পরিস্থিতিতেই আমার খবর বা ছবিকে জে এরশাদের ছবি বা খবরের চেয়ে প্রাধান্য দেয়া যাবে না।

এবার কিছু গুরুতর রাজনৈতিক প্রেস এ্যাডভাইস।

৩ নভেম্বর, ১৯৮২

তথ্য অধিদপ্তর: শেখ মুজিবের বাড়ীর সামনে এবং বনানী কবরস্থানের সামনে পুলিশের সংগে সংঘর্ষের কোন খবর ছাপা হবে না।

১৪ ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৩

তথ্য অধিদপ্তর: আজকে ঢাকা শহরে যে সব ঘটনা (গুলী, হত্যা) ঘটেছে, সেসব বিষয়ে কোন খবর ছাপা হবে না। 

৯ এপ্রিল, ১৯৮৩

তথ্য অধিদপ্তর: জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (মিলন)-এর সাংবাদিক সম্মেলনের খবর ভালভাবে ছাপতে হবে।

২৪ জুলাই, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: পুলিশের গুলীতে মিরপুরের দুজন নিহত হওয়ার খবর ছাপা যাবে না।

২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বাহিনীর হামলায় সেনাবাহিনীর দু'জন অফিসার নিহত হওয়ার খবর ছাপা হবে না।

২২ অক্টোবর, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: জে এরশাদ আগামীকাল প্রেস কনফারেন্সে বক্তৃতা করবেন। এমন একজনকে পাঠাতে হবে যে বিব্রতকর কোন প্রশ্ন করবে না।

৫ ডিসেম্বর, ১৯৮৫

তথ্য অধিদপ্তর: রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন করতোয়ায় বাংলাদেশী ও ভারতীয় নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর ছাপা হবে না।

২৪ জুলাই, ১৯৯০

তথ্য অধিদপ্তর: যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সচিবালয়ের লিফটে এক ঘন্টা আটকা পড়েছিলেন। বেরিয়ে আসার পর লিফটম্যানকে হেনস্তা করায় সবিচালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীরা তাকে ঘেরাও করে। খবরটি ছাপা যাবে না।

২৫ জুলাই, ১৯৯০

শান্তিবাহিনী রাঙ্গামাটিতে রেডিও রিলে স্টেশনে হামলা চালিয়ে তা কিছুক্ষণ দখল করে রাখে খবরটি ছাপা হবে না।

১৬ অক্টোবর, ১৯৯১

....মহিলার সংগে প্রেসিডেন্ট জে এরশাদের ছবি ছাপা যাবে না।

২৬ নভেম্বর, ১৯৯০

তথ্য অধিদপ্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদের বিরুদ্ধে হামলার সময় যে মাইক্রোবাসটি ব্যবহৃত হয় তা ছিল শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের। এ খবর ছাপা যাবে না।

এরশাদের পতনের পরও প্রেস এ্যাডভাইস এসেছে। আসছে। এইরূপ প্রথম এ্যাডভাইস ছিল অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের টুঙ্গিপাড়া সফর সংক্রান্ত। মুজিবের মাজার জেয়ারত শেষে জনাব সাহাবুদ্দিন সেখানে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঢাকায় জিয়ার মাজারে বক্তৃতা দেয়ার মত লোক পাওয়া যায়নি। সরকার এ্যাডভাইস পাঠিয়ে এ খবর ছাপতে নিষেধ করেছে। বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দুটি বড় ধরনের এ্যাডভাইস ছিল বাবরী মসজিদ এবং সামরিক বিষয়াদির খবর সংক্রান্ত। বাবরী মসজিদ নিয়ে সরকার উত্তেজক খবর পরিবেশন করতে নিষেধ করে। অন্যদিকে সামরিক প্রসঙ্গে সরকার জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি স্মরন করিয়ে দিয়ে বলেন যে, এখন থেকে সামরিক বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট কোন খবর প্রকাশ অবশ্যই এড়িয়ে যেতে হবে। তথ্য অধিদপ্তর এই নির্দেশের যথেষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।

-মনোয়ার মুস্তাফা"






Thursday, June 18, 2026

ওয়াক!

এটা পর্ব আকারে হবে না কিন্তু বমনযোগ্য মাল-সামান  পাওয়া গেলেই সময়ে-সময়ে এখানে যোগ হবে! অনেকেই জানেন না এই যে 'পেট নামা', এই যে হড়হড় করে বমি করে দেওয়া—এতে আমরা অস্থির হয়ে যাই। কিন্তু এটা ভুল!

প্রাকৃতিক ভাবে শরীর তার ভেতরের অসহ্য, বিষাক্ত পদার্থ বের করে আমাদেরকে সুস্থ রাখে। কিন্তু আমরা শরীরের এই দুই কর্মকান্ডেই বড় বিরক্ত হই এবং যথাসম্ভব দ্রুত আটকাবার চেষ্টা করি, ওষুধ খেয়ে! 

যারা আমার লেখার সঙ্গে পরিচিত তাঁরা বলার চেষ্টা করবেন, আরে, এই সমস্ত অপগন্ডকে নিয়ে লেখার কোন অর্থ হয়...!  ভুল, বড় ধরনের ভুল! যারা এদেরকে খাটো করে দেখেন এরা ভুলের ভুবনে বাস করছেন! এই প্রজন্মের একটা অংশের কাছে এরা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সামনে চলেই আসে, বিশেষ করে সোস্যাল মিডিয়ায়।

এবং অজান্তেই অনেকে এদেরকে অনুকরণ করা শুরু করে! এদেরকে যে কেবল লেখার কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে এমন না, এদেরকে আইনের আওতায়ও নিয়ে আসতে হবে!

বাংলাদেশের সবচেয়ে সুদর্শন প্রাণী!

এডলফ খান, এ খুব জাঁক করে বলছে:

একজন রাত ৪টায় আমাকে বলেছে, তোমার বাসার ছাদে হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছি!

এখানে আর ব্যাখ্যায় যাই না বুদ্ধিমান পাঠক বুঝে গেছেন, এখানে আলাপচারিতা গে সংক্রান্ত! সে ভিন্ন আলোচনার বিষয়। কিন্তু আমার আপত্তি হচ্ছে, পাগলাগারদে রাতের বেলায় ফোন কেন দেওয়া হয় যে তারা-কেউ খান সাহেবকে রাত ৪টায় ফোন করে। চুতিয়া কোথাকার!

এই মেয়েটা নেইমারের ভক্ত। তাতে সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে, একে কঠিন-কিছু কথা বলা উচিত কিন্তু বয়স বিবেচনায় বিরত রইলাম। কেবল একটা কথাই মাথায় ঘুরপাক খায়, এর কী বাবা-মা-আত্মীয় স্বজন-পাড়াপড়শি কেউ নেই! কেউ না?

এই যে আরেকজন, ইনি মুভি দেখে বের হয়েছেন! 'সো-কল্ড সাংবাদিক' প্রশ্ন করছেন, ছাড়াছাড়ি নাই!

এর বাবা-মা নাই এই কথা সম্ভবত বলা যাবে না। কারণ সাথে যারা, এরা সম্ভবত বাবা-মা। এবং এই বাবা-মাকে মেয়েকে নিয়ে মারাত্মক লেভেলের  'গর্ভিত'(!) মনে হচ্ছে!

আইনে এমন ব্যবস্থা থাকলে একে গ্রেফতার করে সোজা নিতে হবে দুদক অফিস।

এর টাকার উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং এ এখন পর্যন্ত কত টাকা ট্যাক্স দিয়েছে? আর যদি 'মাজাক-মাজাক মে' কন্টেন্ট বানিয়ে থাকে তাও একে আইনের খাঁচায় আটকে রাখতে হবে। এতেও না কুলালে সোজা পাগলাগারদে!

এই যে আমাদের 'হাজি মেমসাব'! মারাত্মক ধার্মিক একজন মেয়েমানুষ। তবে চিবিয়ে-চিবিয়ে বলার ভঙ্গিটা আরও রপ্ত করতে হবে। চুজ, হেলথ অর টোব্যাকো—কাশিমপুর জেলখানা নাকি পাগলাগারদ?
ভাল কথা, পরে ভুলে যাব। এদের সাথে যারা এদের মুখের সামনে বুম ধরে, তাদেরকেও!

এই যে, আরেক 'মহিলা মাওলানা'। ইনি যেমন ধার্মিক তেমনই আবার সাংসারিকও!

সব সামলাতে পারেন কেবল ওড়নাটা সামলাতে পারেন না!

আমি নিশ্চিত, আমার এই মন্তব্যের কারণে নারীবাদীরা আমার উপর ক্ষেপে যাবেন। তাঁদের বাকস্বাধীনতা—শরীর স্বাধীনতা—ফ্যাশন স্বাধীনতা মারাত্মক ক্ষুন্ন হয়! শোনেন, বাকস্বাধীনতা মানে এই না আপনি একটা পাবলিক প্লেসে, একটা থিয়েটারে-সিনামা হলে মজাচ্ছলে আগুন-আগুন বলে চেঁচাবেন! আপনার এই আচরণে পদপিষ্ট হয়ে নারা যেতে পারে বিস্তর মানুষ!

তেমনি 'ফ্যাশন-স্বাধীনতা' মানে এই না যে আপনি মাথায় ওড়না-চাড্ডি বেঁধে ঘুরবেন! আপনার ভাল লাগলে আপনি টি-শার্ট পরেন, সমস্যা নেই। কেউ বলছে না আপনি আপাদমস্তক কাপড়ের বস্তায় মুড়িয়ে বের হন। 

'বেধড়ক স্টাইলিশ' লোকজনেরা, আপনাদেরকে  কথাটা কানে-কানে বলি, কেন করেন এইসব, 'ইয়ে অ্যাপিল' তো? শোনেন গো, দিন-রাত, আলো-অন্ধকার প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ নইলে সবই দিন হত, ফকফকা! রাত নেই—কোথাও কোন রহস্য নেই—জরিনা আর ক্যাটরিনার মধ্যেও কোনও তফাত নেই!

প্রত্যেকটা সমাজব্যবস্থায় কিছু রীতিনীতি, ভ্যালুজ থাকে, আপনি সামাজিক-কেউ হলে মিনিমাম ঔচিত্যবোধ আপনার মধ্যে থাকলে তা মেনে চলা উচিত।

এখানে আমি একটা অন্য উদাহরণ দেব। 

ভি চিহ্ন দেখাচ্ছেন 'স্যালি' নামের যে ভদ্রমহিলা, ইনি দক্ষিণ কোরিয়ার। আমাদের ট্রেডিশনাল ড্রেস পরেছেন। আমি অবাক হয়েছি কারণ পুরো সময়টা কী চমৎকার করেই না ভিনদেশী পোশাক মেইনটেইন করে গেছেন!

*কিছু জন্তুদের নিয়ে আগেও লিখেছিলাম। পুনরাবৃত্তি করি না আর!

এই সমস্ত জন্তুদের খাঁচায় আটকাতে হবেhttps://www.ali-mahmed.com/2026/03/blog-post_13.html?m=1

** এই লেখা অসমাপ্ত। কালে-কালে 'বমনযোগ্য উপকরণ' যোগ দেবেন এখানে।

WhatsApp