চালু একটা কথা আছে, চোর-চোট্টায় দেশটা ভরে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হবে চোর-চোট্টায় বিদেশটাও ভরে যাচ্ছে। আক্ষরিক অর্থে দেশের সবাই যেমন চোর না, তেমনি বিদেশেরও; এই নিয়ে কুতর্ক করার অবকাশ নাই।
আমাদের দেশে জায়গা কম, লোক বেশি। যা হওয়ার তাই হয়, দলে দলে আমাদের দেশের লোকজনেরা বিদেশে পাড়ি জমান। কে জানে, একদিন এমন আসবে এই দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা দেশে থাকবেন, অর্ধেক ছড়িয়ে ছিটিয়ে অন্য দেশগুলোয়। আর বিদেশের লোকজনেরা? এরা তখন কিছু নিজের দেশে থাকবেন, কিছু মহাশূণ্যে।
আমরা যেখানেই যাই সেখানেই আমাদের ছাপ থেকে যায়। খাসলত যাবে কোথায়! অবশ্য আমরা যারা দেশে থাকি প্রবাসীদের প্রতি সমীহের দৃষ্টিতে তাকাই কারণ এঁরা বিদেশে থাকেন, বিদেশিদের কাছ থেকে রাশি রাশি জ্ঞানগর্ভ বিষয় দেখে শেখেন। নিয়ন্ত্রিত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, রেড ওয়াইন-হোয়াইট ওয়াইন এঁদের বুদ্ধি খোলতাই করে। আমরা হাঁ করে থাকি এদের কাছ থেকে শেখার জন্য।
'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নামে নীলিমা ইব্রাহিমের অসাধারণ একটা বই আছে। মুক্তিযুদ্ধের বই 'ফ্রিডম' যখন লিখি তখন এই বই থেকে অল্প কিছু রেফারেন্সও ব্যবহার করেছিলাম, কারণটা ছিল ভিন্ন। যেখানেই সুযোগ এসেছে আমি বলার চেষ্টা করেছি, এই প্রজন্ম যেন অন্তত এই বইটা পড়ার চেষ্টা করে। কারণ এখানে আমাদের যুদ্ধের এমন কিছু অন্ধকার দিক এসেছে আজকাল যা চোখে পড়ে না। আমাদের যা অভ্যেস, সব কিছুতে আমরা কিছু-না-কিছু মিশিয়ে দিচ্ছি। ফল যা হওয়ার তাই হয়, জানতে পারি আমরা সত্য-অসত্যের মিশেলে ভাসা-ভাসা এক অবয়ব, বিকলাঙ্গ এক শিশু !
১৯৯৭ সালে 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' বইটির ভূমিকায় নীলিমা ইব্রাহিম লিখেছিলেন, "...সম্প্রতি আমার তরুণ প্রকাশক প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড নিয়ে 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' গ্রন্থের অখন্ড সংস্করণ প্রকাশ করতে যাচ্ছেন..."।
'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' বইয়ের প্রকাশক, জাগৃতি প্রকাশনীর ফয়সল আরেফিন দীপনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুবাদে এটাও আমার জানা, তিনি যখন বইটি প্রকাশ করেন তখন এই বইটি নামকরা প্রকাশনীর কেউই ছাপতে রাজি হননি! ঝুঁকি মাথায় নিয়ে তিনি বইটি প্রকাশ করেছিলেন। এখানে ব্যবসায়িক চিন্তা খুব একটা কাজ করেছে বলে আমার মনে হয় না। আজ তিনি কতটা বদলেছেন আমি জানি না কিন্তু এটা সেই সময়কার কথা যখন নীলিমা ইব্রাহিমের ভাষায় তিনি 'তরুণ প্রকাশক'। তরুণ? কতটা তরুণ? অনুমান করি, বাইশ-চব্বিশ। এমন একটা বয়স যখন একজন যুবকের দু-চোখে থাকে কেবলই স্বপ্ন।
আমার জানামতে, জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক শয়ে-শয়ে বই বের করেছেন কিন্তু আমি নিশ্চিত, 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' প্রকাশের স্বপ্ন তাঁকে এখনও তাড়া করে।
আর ব্যবসায়িক চিন্তা থাকলে দোষ কী! একজন প্রকাশককেও বই ছাপাবার ব্যয় বহন করতে হয়, পরিবার চালাতে হয়; লাভের টাকায় অন্য আরেকটা বই ছাপাবার উদ্যোগ নিতে হয়।
'সৃষ্টি সুখের উল্লাসে...' শুনতে চমৎকার লাগে কিন্তু লেখকদের কৌপিন পরে কেবল উবু হয়ে লিখলেই চলে না, পেটে দানাপানি দিতে হয়। কারণ লেখক রোবট না- কেবল রোবটেরই খাওয়ার এবং বাথরুমের চিন্তা নাই।
কানাডা প্রবাসী কিছু লোকজন এই বইটির নাট্যরূপ দিচ্ছেন। শুনলেই মনটা ভাল হয়ে যায়। তবে একটা কিন্তু থেকেই যায়। জানা গেছে, এঁরা এই বইটির প্রকাশক এবং লেখকের অনুমতি নেননি। লেখক প্রয়াত কিন্তু তাঁর পরিবারের লোকজন রয়ে গেছেন, তাঁদের সঙ্গেও কোন ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি, অনুমতিও নেয়া হয়নি।
কেবল তাই না, এঁরা অনুমতির তোয়াক্কা করছেন না। প্রকাশকের লিখিত আপত্তি এবং লেখকের পরিবারের অনীহা থাকার পরও এই নিয়ে গা করছেন না! তাঁদের এই গা-ছাড়া ভাবের উৎস কি?
কানাডার মত একটা দেশে থেকে এটা তো আমাদের চেয়ে ভাল জানার কথা, কপিরাইট বলতে একটা বিষয় আছে। কারও অনুমতি ব্যতীত তাঁর লেখা ছাপানো যায় না, নাট্যরূপের তো প্রশ্নই আসে না। কারণ নাট্যরূপ হচ্ছে সেই বিষয়, কখনও কখনও প্লাস্টিক সর্জারির মত লেখার গোটা আদলটাই বদলে যায়।
এখন কেউ কারও মুখ প্লাস্টিক সার্জারি করবে সেই মানুষটার অগোচরে, মানুষটাকে অজ্ঞান করে। এ কেবল অপরাধ না, এটা জঘন্য অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। প্রচলিত আইন এই অপরাধ করতে অনুমতি দেয় না। তারচেয়ে আলোচ্য বিষয় হচ্ছে, এটা তো রগরগে প্রেমের উপন্যাস না, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক অসাধারণ দলিল। যখন যার খুশি এটার নাট্যরূপ দিয়ে মহড়া শুরু করে দেবেন। ইচ্ছা হলেই রক্ত চাই-রক্ত চাই টাইপের সংলাপ বসিয়ে দেবেন!
আইন, আইনের জায়গায় থাকুক। এই 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' বইটির ১৬ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে, "...বঙ্গবন্ধুকে যখন বলেছিলাম উনি বল্লেন, 'না আপা, পিতৃপরিচয় যাদের নেই সবাইকে পাঠিয়ে দেন। মানুষের সন্তান মানুষের মত বড় হোক। তাছাড়া ওই দূষিত রক্ত আমি এদেশে রাখতে চাই না...'।"
হা ঈশ্বর, দূষিত রক্ত! এখন কি আর এই সব সত্যগুলো অবিকল থাকবে? খানিকটা যে পরিবর্তন হয়ে যাবে না, কে মাথার দিব্যি দিয়েছে?
যারা এই বইগুলোর নাট্যরূপ দেবেন, এরা যে এদের পছন্দমতো সংলাপ জুড়ে দেবেন না এর নিশ্চয়তাই বা কোথায়!
'নতুন দেশ' [১], এই সাইটে গিয়ে আমি একটা ধাক্কার মত খেলাম।
এখানে চমৎকার (!) একটা ছবি দেয়া আছে। গুরুতর মহড়াও চলছে। ড্রয়ংরুমে কী দুর্ধর্ষ মহড়া! যা হোক, মহড়া বলে কথা! সমস্যটা অন্যখানে। হতভম্ব হলাম যেটা দেখে, ওখানে লেখার শিরোনাম হচ্ছে, মঞ্জুলী-ফেরদৌসের ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’। বাহ, নীলিমা ইব্রাহিম থেকে মঞ্জুলী ফেরদৌস হয়ে গেছে! "মঞ্জুলী ফেরদৌসের 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'!"
ব্রাভো!
কালে কালে দেখব, লোকজন রবীন্দ্রসঙ্গীতও রচনা করা শুরু করে দিয়েছে। তাদের রচিত রবীন্দ্রসঙ্গীতের আবার সুরও দেয়া হচ্ছে। আবার একজন মাথা দুলিয়ে দরদ দিয়ে গাইছেনও। হতে পারে না এমনটা, বেশ পারে।
সত্যি বলছি, অন্যদের কথা জানি না, এমনটা হলে আমি খুব একটা অবাক হবো না।
নিয়ম করে এই সব চলেই আসছে।
ক-দিন আগে অমিত কুমার সরকার নামের একজন আমার একটা লেখা 'আমি কেউ না, আমি কিছু না' [২] একটা ওয়েবসাইটে নিজের নামে হুবহু ছাপিয়ে দিলেন, দাঁড়ি-কমাসহ!
একজন পাঠক চ্যালেঞ্জ করলে তিনি আবার জাঁক করে উত্তরও দিয়েছেন, তার সোর্স নাকি ডিসকভারি এবং নিজস্ব ডায়েরি। আমি ক্রোধ সংবরণ করে ওখানে সুবোধ বালকের মত একটা মন্তব্য করেছিলাম, 'আপনাকে এই লেখা লিখতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে, না'?
অমিত কুমার সরকার নামের মানুষটা চোখের নিমিষে আমার যে লেখাটা কপি-পেস্ট করে দিলেন, তিনি কি কল্পনা করতে পারবেন, এই লেখাটা লিখতে আমাকে কী বিপুল তথ্য নাড়াচাড়া করতে হয়েছে? কত অসংখ্য বই পড়তে হয়েছে, কত বিনিদ্র রজনী কেটেছে?
একটা মানুষ অন্য একজন মানুষের এই কষ্টার্জিত অর্জন এক নিমিষে নিয়ে নেবেন? কিচ্ছু বলার নেই? একজন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সম্পদ অর্জন করবেন, অন্য একজন মানুষ গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াবেন; ইচ্ছা হলেই ওই মানুষটার অর্জিত সম্পদ অবলীলায় নিয়ে নেবেন? আর আমরা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখব! বাস্তবে কি এটা সম্ভব?
এদের দোষ দিয়ে লাভ কি, আমরা দেখে দেখে শিখি। নামকরা প্রিন্ট মিডিয়াগুলো আমাদেরকে হাত ধরে শেখায়। ওয়েব সাইট থেকে একটা লেখা পত্রিকায় হুবহু ছাপিয়ে লিখে দেয়, 'ওয়েবসাইট অবলম্বনে'। ভাবখানা এমন, ওয়েব সাইটের লেখা হচ্ছে গণিমতের মাল! গ্রামীন ফোন কোটি টাকার বিজ্ঞাপন দিয়ে [৩] চুরি শেখায়, শেখান হানিফ সংকেত [৪], আনিসুল হক [৫] গং। বেচারা আমাদের চুরি না-শিখে উপায় কী!
আইনের বাইরেও কথা থেকেই যায়। আমি মনে করি, এটা আমি পূর্বেও বলেছি, আমার কাছে আমার সমস্ত লেখালেখি হচ্ছে সন্তানসম। আমি কখনই চাইব না, আমার সন্তান অন্যের কোলে বড় হোক। সে কোলটা কতটা চকচকে, কতটা তুলতুলে তাতে আমার কী আসে যায়! আমি কখনই চাইব না আমাকে না-জানিয়ে আমার সন্তানকে কাটাছেঁড়া করা হোক, তাকে সো-কলড সুদর্শন বানানো হোক। নিজের দুবলা, কালো লিকলিকে সন্তান আমার কাছে দেবশিশু তুল্য।
আমি এটাও মনে করি, একজন লেখক একের পর এক শব্দের ইট বসিয়ে তাঁর নিজস্ব এক ভুবন সৃষ্টি করেন। পেছনে পড়ে থাকে তাঁর প্রিয়জনদের চোখের জল, বাচ্চার দুধ কিনতে না-পারার যন্ত্রণা, বিনিদ্র রজনী-রাত জাগা ভোর।
'এই শব্দগুলো' নামের তাঁর সন্তানকে যখন কেউ ছিনিয়ে নেয়, আমি তাকে স্রেফ চোর বলব। ভুল বললাম, চোর না, ছিনতাইকারী বলব। শব্দের ছিনতাইকারী।
... ... ...
সেরীন ফেরদৌস, যিনি আবার 'নতুন দেশ' ই-পত্রিকার হর্তাকর্তা, ফেসবুকে তাঁর একটা মন্তব্য দেখলাম। তিনি বলতে চাচ্ছেন, বইয়ে স্বত্বের বিষয়টি বইয়ে লেখা নেই বিধায় এই চৌর্যবৃত্তিকে চৌর্যবৃত্তির পর্যায়ে ফেলার কোন অবকাশ নাই। তেমনি প্রয়োজন নাই অনুমতি নেয়ার।
হাস্যকর, অতি হাস্যকর! বইয়ে স্বত্বের বিষয়টি উল্লেখ না-থাকলে সমস্যা হবে প্রকাশক এবং লেখকের মধ্যে, অন্যদের কী! সেরিন ফেরদৌসের কি?
সন্তান কার এটা নিয়ে স্বামী-স্ত্রী লড়বেন, কার ভাগে পড়বে এটাই বিচার্য বিষয়। নাকি জজ সাহেব এই সন্তানকে হিড়হিড় করে টেনে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাবেন?
আর শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনির চৌধুরীর পুত্রবধু কাজটি করছেন বলেই যে চৌর্যবৃত্তিটা আইনসম্মত হবে এটা কে বলল? স্বয়ং মুনির চৌধুরীও এই কাজটা করলে একই অপরাধে অভিযুক্ত হতেন। কী অদ্ভুত যুক্তি, একজন মুক্তিযোদ্ধা হলেই তাঁকে কোন অন্যায়ের জন্য অভিযুক্ত করা যাবে না, নাকি? একজন কাদের সিদ্দিকী মুক্তিযোদ্ধা বলে কি তাঁর অজস্র অপরাধ, সাত খুন মাফ? আমাদের টাকায়, যে ব্রীজগুলো অর্ধসমাপ্ত রেখে অনায়াসে বিপুল টাকা বাগিয়ে নিলেন এই জঘন্য অপরাধ কী লঘু হয়ে যাবে?
*স্ক্রীনশট:
১. নতুন দেশ
২. সামহোয়্যারইন ব্লগ ডট নেট, অমিত কুমার সরকার
৩. আরিফ জেবতিকের ফেসবুক
**অমিত কুমার সরকারের বিষয়টা জানতে পারি ব্লগার শয়তানের 'এরম কৈরা লেখা চুরি করন ঠিক্না ঠিক্না' পোস্ট থেকে। এটা উল্লেখ করতে ভুলে গেছি, এই কারণে এই ব্লগার নামের লেখকের কাছে আমি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করি।
সহায়ক লিংক:
১. নতুন দেশ: http://www.notundesh.com/binodon.html
২. আমি কেউ না, আমি কিছু না: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_07.html
৩. গ্রামীন ফোন: http://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_06.html
৪. হানিফ সংকেত: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_02.html
৫. আনিসুল হক: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html
19 comments:
:(
একজন লেখক একের পর এক শব্দের ইট বসিয়ে তাঁর নিজস্ব এক ভুবন সৃষ্টি করেন। পেছনে পড়ে থাকে তাঁর প্রিয়জনদের চোখের জল, বাচ্চার দুধ কিনতে না-পারার যন্ত্রণা, বিনিদ্র রজনী-রাত জাগা ভোর।
একমত :(
এই সব নোংরামী/চুরি কমাতে আমাদের সবার এক হওয়া প্রয়োজন।
now u r in amardesh
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/08/22/40362
"এই সব নোংরামী/চুরি কমাতে আমাদের সবার এক হওয়া প্রয়োজন।"
সহমত। @বোহেমিয়ান
দেখলাম। ব্যাটারা আবার আমার নাম ভুল করেছে। এটা এদের একটা ঢঙ হয়েছে। @sahed
বস, একটু সফট করে বললে ভাল হৈত
লেখাটা আমি শুরু করেছিলাম হালকা মেজাজে কিন্তু এদের সম্বন্ধে যখন ক্রমশ তথ্যগুলো পাচ্ছিলাম তখন সেই গা-ছাড়া ভাবটা আর রইল না।
সবটা তো আর এখানে লেখা হয়নি, এই বইটার লেখকের পরিবারের অনুমতিক্রমে প্রকাশক জোর আপত্তি জানিয়ে ছিলেন কিন্তু এরা গা করেননি।
তারপর, "মঞ্জুলী-ফেরদৌসের ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’।" এটা পড়ার পর আর কথা চলে না...। @Anonymous
ইতরামির সীমা থাকা উচিত৷ হারামজাদারা বিদেশে বসে যা খুশি তাই করবে, এটা হতে পারেনা৷ এভাবে তারা সব প্রবাসী বাংলাদেশির ইজ্জত মারতাছে৷
আরেক গল্প বলি৷ দিন কয়েক আগে এক প্রবাসী বলদ বললো, শেখ মুজিব নাকি ৭১ এর মার্চ মাসে বিদেশে ছিলেন৷ তাই, তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নাই!!! আমি কি হাসব না কাঁদবো, বুঝতে পারছিলাম না৷ বর কষ্টে হাসি থামিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ভাই, আপনি কী তখন শেখ মুজিবের সঙ্গে ছিলেন? তিনি এক গাল হেসে বললেন, না, তবে আমরা অনেক কিছু জানি৷ এবার বলুন এমন বলদের সঙ্গে কী তর্কে যাওয়া যায়?
এটা সত্যি প্রবাসী বাংলাদেশীদের অর্থ দেশের উন্নয়নে সহায়তা করে৷ তারা বিদেশে আছে বলেই দেশের অনেক এলাকা উন্নত হয়েছে৷ এমনকি দেশের বেকারত্ব কিছুটা হলেও কমেছে বিদেশ গমণের কারণে৷ কিন্তু তারপরও ভাই, সাধারণ জ্ঞানটুকু যদি না থাকে, তাহলে কষ্ট হয়৷ যেমন কষ্ট হয়, নতুন দেশ নামক পত্রিকাটির কান্ডজ্ঞানহীন আচরণ দেখে৷
"...শেখ মুজিব নাকি ৭১ এর মার্চ মাসে বিদেশে ছিলেন৷ তাই, তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নাই!!!..."
হা হা হা, এই অবস্থা! @Anonymous
notundesher dristotamulok report porar por e ami lekhok poribarer sathe jogajog kore. notundesher facebook account-e news-er link er niche montobbo ghor e protibad janai. kichukhon por dekhi amar protibad delete kora hoyeche. tarpor ami punorai amar montobbo kori ebong tao delete hoye jai...
Faisal Arefin Dipan
Publisher, Jagriti Prokashony
বলেন কী! এ তো দেখি চুরি না, স্রেফ ডাকাতি!
দর্শনীমূল্য দেখছি আবার ১৫ ডলার রাখা হয়েছে। ভাল-ভাল...!
এরা কি ভেবেছেন, আপনার মন্তব্য ডিলিট করলেই সব সমসস্যার সমাধান?
অন্য প্রসঙ্গ:
প্রবাসী কিছু লোকজনের দেখি হঠাৎ হঠাৎ করে দেশপ্রেম চাগিয়ে উঠে। এমনিতেও প্রবাসী কিছু লোকজনের আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং ধর্ম নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই। ব্লগস্ফিয়ারে এরা ওখান থেকে লম্বা লম্বা বাণী দেন, আমাদের কি করণীয় তা শেখাবার চেষ্টা করেন। কালে কালে শুনব এরা, মুক্তিযুদ্ধের সনদও দেয়া শুরু করেছেন, তখন আমরা এদের কাছ থেকে সনদ সংগ্রহ করব।
অনলবর্ষী বক্তাদের মধ্যে এমনও আছেন, প্রবাসে গিয়ে আমাদের দেশের বিস্তর দুর্নাম করেন, আমাদের দেশটা বসবাস অনুপযোগী এটা সাদা চামড়াদের কাছে বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। সাদা চামড়ারা আশ্রয়প্রার্থী হিসাবে তাদের দেশে দয়া করে থাকতে দেন। এরপর এরা নামেন আমাদের দেশউদ্ধারে। এদের একমাত্র অস্ত্র হচ্ছে কুৎসিত গালাগালি। মস্তিষ্ক ...-এ জমা রেখে বিপুল উদ্যমে ঝাপিয়ে পড়েন। @Faisal Arefin Dipan
Those who have violated the copyright and started to prepare a drama out of the book are thieves and liars. They are shameless petty thieves.
এরা কেবল নির্লজ্জ চোরই না, এদের ধার্ষ্টামো দেখে আমি হতভম্ব! প্রকাশক এবং লেখকের পরিবারের পক্ষ থেকে কঠিন আপত্তি থাকার পরও উপেক্ষা করেছেন। এই বইয়ের প্রকাশকের লিখিত বক্তব্য মুছে ফেলেছেন।
এই মন্তব্যও করেছেন, এই বইয়ে স্বত্বের বিষয়টা নেই। হাস্যকর! না থাকলে নেই, এটা তো প্রকাশক এবং লেখকের বিষয়, অন্যদের কী! @Abdun Noor Tushar
জাগৃতি প্রকাশনীর ফয়সল আরেফিন দীপনের কথা বললেন আপনি৷ ভালো লাগলো৷ তিনি সাহসী৷ ও বইটা তিনি কবে বের করেছিলেন? বদলে যায় হয়তো অনেক কিছু৷ তবে একটা কাহিনী বলি শুনুন... এক ফো্টাও মিথ্যে নয়৷
আজ থেকে খুব বেশি দিন আগে নয়৷ অফিসের সকাল৷ একটু কাজ কম৷ ফেসবুক খুলে আছি৷ পরিচিত অনেকে আছেন৷আমার মনে হলো ফেসবুকে আমার বন্ধু,কিন্তু তার সঙ্গে কোন কথাও হয়নি, আর ব্যক্তিগত একটা স্বার্থও ছিল৷ জাগৃতি প্রকাশনির নামে তার ফেসবুক পেজ৷ আমি কথা শুরু করলাম৷ একটু আধটু কথা৷ জানালাম জার্মানি থেকে বলছি৷ একপর আস্তে আস্তে বললাম... ভাই আমার একটি পান্ডুলিপি আছে৷ আমি আপনার কাছে পাঠাতে চাই৷ পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলন নিয়ে একটি উপন্যাস, কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি৷ ... ইনি বললেন, তাই৷ তারপর জিজ্ঞাস করলেন, আপনার আগে কোন বই আছে৷ আমি বললাম, খানা কয়েক৷ বললেন, তাহলে ওদের না দিয়ে আমাদের দিতে চাইছেন কেন? আমি সত্য কথাটা বললাম৷ জানালাম,গত বই মেলায় আমার বইটি একেবারে শেষ দিনে মেলায় আনায় আমি রাগম্বিত৷ তিনি বললেন, আমাদেরও তো দেরি হতে পারে, তখন কি আপনি এভাবে আমাদেরও গালি দেবেন৷ আমি তাকে সংশোধনী দিয়ে বললাম..আমি কাউকে গালি দিইনি৷ আমার রাগ হয়েছে, সেই কথাটি বলেছি৷ এরপর সেই প্রকাশক আমাকে বললেন,বই ছাপানোর জন্য আমরা অনেক চার্জ করি৷ আমি বললাম, আমি টাকা দিয়ে বই ছাপাই না৷ উনি বললেন, তাহলে আপনাকে বেশ কিছু আপনারই বই কিনে নিতে হবে৷ আমি বললাম,দু:খিত আমি এ কাজটিও করি না৷ উনি বললেন, তাহলে তো আপনার বই আমি বের করবো না৷ আমরা এ ধরণের বই এ ইনভেস্ট করতে পারিনা৷
তারপর নানা কথা হলো৷ উনি উনার কথা জানালেন৷ কেন তাকে এমন করতে হয়৷ এরপর তিনি ঢাকায় আসলে এক কাপ চা খাবার আমন্ত্রণ দিলেন আমাকে৷
একটি বারের জন্য ঐ প্রকাশক দেখতে চাইলেন না উপন্যাসের পান্ডুলিপি৷ আমি অবশ্য তাকে একটা লিঙ্ক পাঠিয়েছিলাম৷
প্রকাশকরা কি বদলে যেতে শুরু করেছে?
ৎৎৎৎৎৎৎৎ জাগৃতি প্রকাশনীর কাছে দু:খিত ফেসবুকে তার সঙ্গে আলাপচারিতা তুলে দেবার জন্য৷
সাগর সরওয়া, বন, জার্মানি
২৫.০৮.১০
মন্তব্যে আপনি যা বলেছেন এর যথার্থ উত্তর দিতে পারবেন প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন।
বইটির প্রথম প্রকাশ হয়েছিল জানুয়ারি '৯৮ সালে।
আমি কেবল 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' বইটির প্রকাশে জটিলতা এবং তখন প্রকাশকের ভূমিকা-উদ্যেগের কথাই বলেছি। যা আমি জেনেছি, নীলিমা ইব্রাহিমের এই বইটির ভূমিকায় বলা বক্তব্য থেকে এবং প্রকাশকের কাছ থেকে। @সাগর সরওয়া
আমাদের রেমিটেনশের টাকায় ফুটানি করেন.গালী দেন
ডিয়ার Anonymous, বিষয় কী! আপনারা দেখি কথায় কথায় রেমিটেন্সের টাকার কথা এমন করে উল্লেখ করেন, যেন আমাদের মাথা কিনে নিচ্ছেন!
আপনারা কি রেমিটেন্সের টাকা দেশকে দান করে দেন, নাকি?
নিজের প্রয়োজনে প্রবাসে যান, নিজেদের লোকজনের জন্য পাঠানো টাকা ব্যয় করেন। সরকার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ট্যাক্স পায়, সমস্যা কোথায়?
আমার এই পোস্টের সঙ্গে আপনার রেমিটেন্সের প্রসঙ্গ নিয়ে আসার কারণ কী!
আপনি বৈদেশ থেকে দেশউদ্ধার করুন না, অসুবিধা কোথায়?
এদের সমস্যা হলো, এরা মনে করেন, বিদেশে থাকেন বলে এদের টিকিটিও কেউ স্পর্শ করতে পারবেন না। একধরনের সুপিরিয়রিটি-কমপ্লেক্সে ভোগেন। আরেকটা বিষয় কাজ করে এদের মাঝে। এরা মনে করেন, একটা গল্পের নাট্যরূপ দিয়ে লেখককে ঋণী করে ফেলেছেন। শিশুতোষ আচরণ!
"...এরা মনে করেন, একটা গল্পের নাট্যরূপ দিয়ে লেখককে ঋণী করে ফেলেছেন। শিশুতোষ আচরণ!"
হা হা হা। @সুব্রত
হঠাৎই মনে পড়ল, কাজী আনোয়ার হোসেন একবার মন্তব্য করেছিলেন, লেখার নামের কপিরাইট হয় না। কতটুকু সত্যি, বলতে পারব না। মানেটা কী দাঁড়াল? আমি চাইলেই তাহলে 'তিতলি, তুমিও!' কিংবা 'কনক পুরুষ' শিরোনামে লিখতে পারব? লেখার ভেতরের কন্টেন্ট যা-ই হোক না কেন?
Post a Comment